আমার প্রিয় নবী

মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের অনুসরণ

মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের অনুসরণ করা, অর্থাৎ তাঁর আনুগত্য করার মানে তিনি যে পথে চলেছেন, সেই পথে চলা। তাঁর পথ হলো পবিত্র কুরআন যে পথ দেখিয়েছে। এই পথকে দ্বীনে ইসলাম বলা হয়। তাঁর অনুসরণের জন্য প্রথমে ঈমান আনতে হবে, ইসলামকে ভালোভাবে শিখতে হবে, তারপর ফরজসমূহ আদায় করে হারাম থেকে বেঁচে থাকতে হবে, এরপর সুন্নতসমূহ পালন করে মাকরুহ থেকে বিরত থাকতে হবে। এসবের পর মুবাহ বিষয়গুলোতেও তাঁর অনুসরণের চেষ্টা করতে হবে। ঈমান আনা মানে তাঁর অনুসরণ শুরু করা এবং সৌভাগ্যের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে দুনিয়ার সকল মানুষকে সৌভাগ্যের দিকে আহ্বান করার জন্য পাঠিয়েছেন এবং সূরা সাবার আটাশতম আয়াতে মর্মার্থে ইরশাদ করেছেন, “হে আমার প্রিয় নবী! আমি তোমাকে দুনিয়ার সকল মানুষের কাছে চিরস্থায়ী সৌভাগ্যের সুসংবাদ দিতে এবং সেই সৌভাগ্যের পথ দেখাতে পাঠাচ্ছি।”

যেমন, তাঁর অনুসারী কোনো ব্যক্তির দুপুরের দিকে সামান্য ঘুমানোও তাঁর অনুসরণ ছাড়া বহু রাত ইবাদতে কাটানোর চেয়ে বহুগুণ মূল্যবান। কারণ কাইলুলা করা, অর্থাৎ জোহরের আগে কিছুক্ষণ শুয়ে বিশ্রাম নেওয়া তাঁর মুবারক অভ্যাস ছিল। কিংবা যেমন তাঁর দ্বীন আদেশ করেছে বলে ঈদের দিন রোজা না রেখে পানাহার করা দ্বীনে নেই এমন বছরের পর বছর রাখা রোজার চেয়ে বেশি মূল্যবান। তাঁর দ্বীনের আদেশে দরিদ্রকে দেওয়া যাকাত নিজের ইচ্ছায় পাহাড়সম সোনা সদকা করার চেয়ে উত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ।

একবার হযরত উমর ফজরের নামাজ জামাআতে আদায় করার পর জামাআতের দিকে তাকিয়ে এক ব্যক্তিকে দেখতে না পেয়ে তাঁর কথা জিজ্ঞেস করলেন। সাহাবীগণ বললেন, “তিনি রাতভর ভোর পর্যন্ত ইবাদত করেন। হয়তো এখন ঘুম তাঁকে কাবু করে ফেলেছে।” আমিরুল মুমিনিন বললেন, “আহা! যদি তিনি সারা রাত ঘুমিয়েও ফজরের নামাজ জামাআতে আদায় করতেন, তবে তা আরও ভালো হতো।”

যারা ইসলামের অনুসরণ না করে কষ্ট সয়ে মুজাহাদা করে, তারা নিজেদের নফসকে নিস্তেজ করলেও ইসলাম অনুযায়ী না করায় তাদের পরিশ্রম মূল্যহীন ও তুচ্ছ। এই পরিশ্রমের বিনিময়ে কিছু মিললেও দুনিয়ার কয়েকটি সুবিধা ছাড়া তাদের হাতে আর কিছুই আসে না। অথচ সমগ্র দুনিয়ারই বা মূল্য ও গুরুত্ব কতটুকু যে, তার সামান্য কয়েক টুকরার কোনো দাম থাকবে? এরা যেন নিম্নমানের কাজ করে এমন মানুষের মতো, যারা সবার চেয়ে বেশি খাটে ও ক্লান্ত হয়, অথচ তাদের মজুরি কাজের তুলনায় সবার চেয়ে কম। আর ইসলামের অনুসারীরা সূক্ষ্ম রত্ন ও মূল্যবান হীরা নিয়ে কাজ করা জহুরিদের মতো। তাদের কাজ অল্প, কিন্তু উপার্জন অনেক বেশি। কখনো কখনো তাদের এক ঘণ্টার কাজ লক্ষ লক্ষ বছরের উপার্জন এনে দেয়। এর কারণ এই যে, ইসলাম অনুযায়ী করা আমল হক তাআলার কাছে গ্রহণযোগ্য; তিনি তাতে সন্তুষ্ট, তাই তিনি তা খুব পছন্দ করেন। তিনি যে এমন, তা তাঁর কিতাবের বহু স্থানে জানিয়েছেন।

যেমন সূরা আলে ইমরানের একত্রিশতম আয়াতে মর্মার্থে ইরশাদ করেন:

“হে আমার প্রিয় নবী! তাদের বলো, ‘যদি তোমরা আল্লাহ তাআলাকে ভালোবাসো এবং চাও যে আল্লাহ তাআলাও তোমাদের ভালোবাসুন, তবে আমার অনুসরণ করো! আল্লাহ তাআলা আমার অনুসারীদের ভালোবাসেন।’”

মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের অনুসরণ মানে আহকামে ইসলামিয়্যাকে (ইসলামের বিধিবিধানকে) পছন্দ করে ভালোবেসে পালন করা; তাঁর আদেশসমূহ এবং ইসলাম যা কিছুকে মূল্য দেয় ও শ্রেষ্ঠ মনে করে, সেগুলো এবং ইসলামের আলেম ও নেককারদের মহান জেনে সম্মান করা; তাঁর দ্বীন প্রচারের চেষ্টা করা; আর যারা তাঁর দ্বীনের অনুসরণ করতে চায় না, তা পছন্দ করে না, তার পরোয়া করে না, তাদের হেয় জ্ঞান করা।

“হে আমার প্রিয় নবী! আমি তোমাকে দুনিয়ার সকল মানুষের কাছে চিরস্থায়ী সৌভাগ্যের সুসংবাদ দিতে এবং সেই সৌভাগ্যের পথ দেখাতে পাঠাচ্ছি” সাবা: ২৮

ইসলামের সঙ্গে মেলে না এমন কোনো কিছুই হক তাআলা ভালোবাসেন না, পছন্দ করেন না। যা তিনি ভালোবাসেন না, পছন্দ করেন না, তার জন্য কি সওয়াব দেওয়া হবে? বরং তা শাস্তির কারণ হয়। দুই জাহানের সৌভাগ্য লাভ কেবল দুনিয়া ও আখিরাতের সরদার মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের অনুসরণের ওপরই নির্ভর করে। তাঁর অনুসরণের জন্য ঈমান আনা, আহকামে ইসলামিয়্যা শেখা এবং যথাযথভাবে তা পালন করা আবশ্যক। আখিরাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি কেবল মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের অনুসারীদের জন্যই নির্দিষ্ট। দুনিয়ায় করা সকল ভালো কাজ, সকল কাশফ, সকল হাল ও সকল ইলম রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পথে থাকার শর্তেই আখিরাতে কাজে আসে। নতুবা আল্লাহ তাআলার নবীর অনুসরণ করে না এমন লোকদের প্রতিটি ভালো কাজ দুনিয়াতেই থেকে যায় এবং তাদের আখিরাত বরবাদ হওয়ার কারণ হয়। অর্থাৎ ভালো কাজের আকারে যা দেখা যায়, তা ইস্তিদরাজ ছাড়া আর কিছুই নয়। মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের পরিপূর্ণ ও ত্রুটিহীন অনুসরণ করতে হলে তাঁকে পরিপূর্ণ ও ত্রুটিহীনভাবে ভালোবাসতে হবে। পূর্ণাঙ্গ ও পরিপক্ব ভালোবাসার আলামত হলো তাঁর শত্রুদের থেকে দূরে থাকা, তাঁকে যারা পছন্দ করে না তাদের ভালো না বাসা। ভালোবাসায় মুদাহানা, অর্থাৎ শিথিলতার স্থান নেই। প্রেমিকেরা প্রিয়তমের জন্য দিওয়ানা হয়ে তাঁর আদেশ থেকে এক মুহূর্তও বিচ্ছিন্ন হয় না। তাঁর বিরুদ্ধে যারা চলে, তাদের সঙ্গে তারা একত্রে থাকে না। দুই বিপরীত বিষয়ের ভালোবাসা এক অন্তরে থাকতে পারে না। অর্থাৎ দুই বিপরীতের একত্র হওয়া (জমউজ জিদ্দাইন) অসম্ভব। এই দুনিয়ার নিয়ামতসমূহ ক্ষণস্থায়ী ও প্রতারণাময়। আজ যা হাতে আছে, কাল তা অন্যের হয়ে যায়। আর আখিরাতে যা হাতে আসবে, তা অফুরন্ত এবং দুনিয়াতে থাকতেই তা অর্জন করা হয়। এই কয়েক দিনের জীবন যদি দুনিয়া ও আখিরাতের সবচেয়ে মূল্যবান মানুষ মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের অনুসরণে কাটানো যায়, তবে চিরস্থায়ী সৌভাগ্য, অফুরন্ত নাজাত ও মুক্তির আশা করা যায়। নতুবা তাঁর অনুসরণ না করা পর্যন্ত সবকিছুই শূন্য। তাঁর অনুসরণ ছাড়া করা প্রতিটি কল্যাণ ও ভালো কাজ এখানেই থেকে যায়, আখিরাতে কিছুই হাতে আসে না। তাঁর অনুসরণের ক্ষুদ্র একটি কণাও দুনিয়ার সমস্ত নিয়ামত ও আখিরাতের সমস্ত সৌভাগ্যের চেয়ে বহুগুণ শ্রেষ্ঠ। মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা হলো তাঁর অনুসরণ। রাসূলুল্লাহর অনুসরণের জন্য মুসলমানদের আহলে সুন্নতের চারটি হক মাজহাবের কোনো একটিতে থাকা মৌলিক শর্ত। মহানবীর প্রতি ঈমান এনে তিনি যা কিছু এনেছেন তা সত্য বলে স্বীকার করা, তাঁকে ভালোবেসে তাঁর আনুগত্য করা, তাঁর নসিহত গ্রহণ করা, তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করা ফরজ। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা মর্মার্থে ইরশাদ করেন, “অতএব তোমরা আল্লাহ তাআলার প্রতি এবং তাঁর উম্মি নবী রাসূলের প্রতি ঈমান আনো, তাঁর অনুসরণ করো, যাতে তোমরা হিদায়াত (সঠিক পথ) লাভ করো।”1 আরও ইরশাদ করেন, “যে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর নবীর প্রতি ঈমান আনে না, (সে জেনে রাখুক,) আমি সেই কাফিরদের জন্য লেলিহান (ভয়াবহ ও ভীতিপ্রদ) আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি।”2 ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে সাঈদ, উমাইয়া ইবনে বুসতান ও মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে সাঈদ জানিয়েছেন যে, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এই হাদীস শরীফ বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন, “মানুষ যতক্ষণ না আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই বলে সাক্ষ্য দেয় এবং আমার প্রতি ও আমি যা এনেছি তার (ইসলামের) প্রতি ঈমান আনে, ততক্ষণ তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। তারা যখন তা করে (ঈমান আনে), তখন তারা নিজেদের সম্পদ ও প্রাণ আমার কাছ থেকে রক্ষা করে নেয়। তবে ইসলামের হক এর ব্যতিক্রম (অর্থাৎ কোনো মুসলমান গুনাহ করলে তার ওপর ইসলামের নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ করা হয়)। আর তাদের হিসাব আল্লাহর কাছে ন্যস্ত।”3

“যে আমার আনুগত্য করে, সে আল্লাহ তাআলারই আনুগত্য করে। যে আমার অবাধ্য হয়, সে আল্লাহ তাআলারই অবাধ্য হয়” হাদীস শরীফ

“যে আমার আনুগত্য করে, সে আল্লাহ তাআলারই আনুগত্য করে। যে আমার অবাধ্য হয়, সে আল্লাহ তাআলারই অবাধ্য হয়। যে আমার আদেশ মানে, সে আমারই আনুগত্য করে; আর যে আমার আদেশ অমান্য করে, সে আমারই অবাধ্য হয়।”

“যে আমার আনুগত্য করে ও আমি যা এনেছি তার অনুসরণ করে, আর যে আমার অবাধ্য হয় ও আমি যা এনেছি তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে – তাদের অবস্থা এমন এক ব্যক্তির অবস্থার মতো, যে একটি ঘর তৈরি করিয়েছে, (মানুষকে এক চমৎকার ভোজে আপ্যায়নের জন্য) নানা রকম সুস্বাদু খাবার প্রস্তুত করেছে এবং মানুষকে খাবারের দাওয়াত দেওয়ার জন্য একজনকে নিযুক্ত করেছে। যে দাওয়াত কবুল করে, সে ঘরে প্রবেশ করে এবং প্রস্তুত খাবার থেকে যত ইচ্ছা খায়। আর যে দাওয়াত কবুল করে না, সে ঘরে প্রবেশ করতে পারে না এবং প্রস্তুত খাবার থেকে খেতে পারে না। ঘরটি হলো (রাসূলুল্লাহর দাওয়াত কবুলকারী মুত্তাকিদের জন্য প্রস্তুত) জান্নাত। আর (আল্লাহ তাআলার দিকে এবং তাঁর নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতের দিকে) আহ্বানকারী হলেন মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাম)। যে মুহাম্মদের (আলাইহিস সালাম) অবাধ্য হয়, সে আল্লাহ তাআলারই অবাধ্য হয়। মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাম) মানুষকে দুই ভাগে পৃথক করেন – তাঁকে সত্য বলে স্বীকারকারী মুমিন আর তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী কাফির।”

“তোমরা আমার সুন্নত এবং আমার পরে খুলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নত আঁকড়ে ধরো। তোমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে ও সযত্নে তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করো। (দ্বীনে) পরে উদ্ভাবিত (পবিত্র কুরআনে, সুন্নতে, উম্মতের ইজমায় এবং ফকিহগণের কিয়াসে নেই এমন) বিষয় থেকে বেঁচে থাকো।

কারণ (দ্বীনে) পরে উদ্ভাবিত প্রতিটি বিষয় বিদআত। আর প্রতিটি বিদআত গোমরাহি।”4

আনাস ইবনে মালিক রাসূলুল্লাহর অনুসরণ সম্পর্কে যে হাদীস শরীফ বর্ণনা করেছেন, তাতে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, “যে আমার সুন্নতকে জীবিত করে (তার ওপর আমল করে তা প্রচার করে), সে আমাকেই জীবিত করে (আমার মর্যাদা উচ্চ করে, আমার আদেশ প্রকাশ করে)। আর যে আমাকে জীবিত করে, সে জান্নাতে আমার সঙ্গে থাকবে।”

মহানবী বিলাল ইবনে হারিসকে ইরশাদ করেন, “কেউ ইসলামে কোনো উত্তম রীতি (সুন্নাতে হাসানা) চালু করলে সে তার সওয়াব এবং যারা তা পালন করে তাদের সওয়াব লাভ করে। আর কেউ ইসলামে কোনো মন্দ রীতি চালু করলে তার গুনাহ এবং যারা তা করে তাদের গুনাহ তার ওপর বর্তায়।”5

হযরত উমর ইবনে আবদুল আজিজ বলেন, “রাসূলুল্লাহ একটি সুন্দর পথ খুলে দিয়েছেন। তাঁর পরে তাঁর খলিফাগণও পথ খুলে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহর সুন্নত এবং তাঁর পরবর্তী খলিফাগণের সুন্নত অনুযায়ী আমল করা মানে আল্লাহ তাআলার কিতাব অনুযায়ী চলা। আল্লাহ তাআলা ও মহানবীর আনুগত্য করা মানে আল্লাহ তাআলার দ্বীনকে শক্তিশালী করা। ইসলামকে নষ্ট ও পরিবর্তন করার অধিকার কারও নেই।” সুন্নতের বিরোধিতাকারীদের কথা অনুযায়ী আমল করাও জায়েজ নয়। মহানবী ও সাহাবায়ে কেরামের সুন্নতের অনুসারীরা হিদায়াত লাভ করেছেন। তাঁদের কাছে যে-ই সাহায্য চেয়েছে, সাহায্য পেয়েছে। আর যে সুন্নাতে সানিয়্যার বিরোধিতা করে এবং তার ওপর আমল করে না, সে মুসলমানদের পথ ছেড়ে অন্য পথ ধরেছে। আল্লাহ তাআলা এমন ব্যক্তিকে তার নিজের বেছে নেওয়া পথেই ছেড়ে দেন, তাকে মন্দ কাজ করার অবকাশ দেন এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন। গন্তব্য হিসেবে জাহান্নাম সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থান।

হযরত আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, “একদিন আমি একদল লোকের মধ্যে ছিলাম। তারা সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে পানিতে নামল। কিন্তু আমি ‘যে আল্লাহ তাআলা ও আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন (সতর না ঢেকে) হাম্মামে প্রবেশ না করে’ – এই হাদীস শরীফের অনুসরণ করে কাপড় খুললাম না। সেই রাতে স্বপ্নে এক ব্যক্তি আমাকে বললেন, ‘হে আহমদ! তোমার জন্য সুসংবাদ! কারণ তুমি রাসূলুল্লাহর সুন্নতের অনুসরণ করায় আল্লাহ তাআলা তোমাকে ক্ষমা করেছেন। তোমাকে ইমাম বানিয়েছেন। মানুষ তোমার অনুসরণ করবে।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি কে?’ তিনি বললেন, ‘আমি জিবরাইল।’” যে নিজের প্রতিটি কাজে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসরণ করে না, সে মুমিন হতে পারে না। যে তাঁকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে না, তার ঈমান পূর্ণ হয় না। তিনি সকল মানুষ ও জিনের নবী।

প্রতি যুগে বসবাসকারী প্রত্যেক জাতির জন্য তাঁর অনুসরণ করা ওয়াজিব। প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য তাঁর দ্বীনের সাহায্য করা, তাঁর উত্তম চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া, তাঁর নাম মুবারক বেশি বেশি উচ্চারণ করা, তাঁর নাম বলার ও শোনার সময় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে দরুদ ও সালাম পাঠ করা, তাঁর চেহারা মুবারক দেখার জন্য ব্যাকুল প্রেমিক হওয়া এবং তাঁর আনা পবিত্র কুরআন ও দ্বীনকে ভালোবাসা ও সম্মান করা।

প্রবৃত্তি থেকে বলতেন না, তাঁর পবিত্র বাণী সবই ছিল ওহী,
হিকমতের মুক্তায় ভরা মহাসাগর ছিলেন সেই দানশীলতার খনি।
দেহ ছিল মানুষের মাঝে, হৃদয় একান্তে বন্ধুর সনে,
বহুত্বের মাঝে প্রতি ক্ষণে একত্ব পেতেন সেই দানশীলতার খনি।
দরুদ ও সালাম তাঁর প্রতি, তাঁর বংশধর ও সাহাবীদের প্রতি,
যাঁদের নিজের প্রিয় সাথি বানিয়ে নিলেন সেই দানশীলতার খনি।
এসো হে হাক্কি, মানুষকে ভোলো, হকের হাবিব থেকে চরিত্র নাও,
কারণ হকের কাছ থেকে বিনামূল্যে উত্তম চরিত্র পেয়েছিলেন সেই দানশীলতার খনি।
İbrâhîm Hakkı Erzurumî

“আল্লাহ তাআলা অনেক ভালোবাসেন সেই ব্যক্তিকে, যে নিজের দ্বীন শেখে এবং অন্যদের শেখায়। তোমাদের দ্বীন ইসলামি আলেমগণের মুখ থেকে শেখো!” হাদীস শরীফ

মদিনা মুনাওয়ারা [১৮৯০]