৫৪ ফরজ
ইসলামি আলেমগণ প্রত্যেক মুসলমানের জন্য শেখা, বিশ্বাস করা ও মেনে চলা আবশ্যক এমন ফরজসমূহের মধ্য থেকে চুয়ান্নটি বেছে নিয়েছেন। ৫৪ ফরজ এই: ১. আল্লাহ তাআলাকে এক বলে জানা এবং তাঁকে কখনো ভুলে না যাওয়া। (অর্থাৎ সবকিছু ইসলাম অনুযায়ী করার চেষ্টা করা।)
২. হালাল থেকে খাওয়া ও পান করা। ৩. অজু করা।
৪. প্রতিদিন সময় হলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা। ৫. হায়েজ, নিফাস ও জানাবাত থেকে গোসল করা।
৬. মানুষের রিজিকের জিম্মাদার আল্লাহ তাআলা – এ কথা বিশ্বাস করা। ৭. হালাল উপার্জনের পবিত্র পোশাক পরা। ৮. হক তাআলার ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করে কাজ করা। ৯. অল্পে তুষ্ট থাকা।
১০. নিয়ামতসমূহের জন্য আল্লাহ তাআলার শোকর করা (তাঁর নিয়ামতসমূহ আদিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যবহার করা)। ১১. কাজা ও কদরে সন্তুষ্ট থাকা।
১২. বিপদ-আপদে সবর করা (অভিযোগ ও বিদ্রোহ না করা)। ১৩. গুনাহ থেকে তওবা করা।
১৪. ইখলাসের সঙ্গে ইবাদত করা। ১৫. ইসলামের শত্রুদের শত্রু বলে জানা।
১৬. পবিত্র কুরআনকে চার দলিলের একটি বলে জানা।
১৭. মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হওয়া, অর্থাৎ ফরজসমূহ পালন করে ও হারাম থেকে বেঁচে ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণের চেষ্টা করা।
১৮. আল্লাহ তাআলা যা ভালোবাসেন তা ভালোবাসা, যা ভালোবাসেন না তা ভালো না বাসা এবং তা থেকে দূরে থাকা। (একে “হুব্বু ফিল্লাহ ওয়া বুগদু ফিল্লাহ” বলা হয়।) ১৯. মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ করা। ২০. যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের সাধ্য অনুযায়ী দ্বীনের আদেশসমূহ প্রচারের চেষ্টা করা।
২১. মাহরাম নেককার আত্মীয়দের খোঁজখবর নেওয়া, তাদের দেখতে যাওয়া। ২২. আমানতের খিয়ানত না করা।
২৩. সর্বদা আল্লাহকে ভয় করে হারাম থেকে বেঁচে থাকা।
২৪. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা। (অর্থাৎ সবকিছু ইসলাম অনুযায়ী করা।)
২৫. গুনাহ থেকে দূরে থেকে ইবাদতে মশগুল থাকা। ২৬. শাসকের (উলুল আমরের, আইনকানুনের) বিরোধিতা না করা, মুসলমান কর্তৃপক্ষের আনুগত্য করা। ২৭. শিক্ষা গ্রহণের দৃষ্টিতে জগতের দিকে তাকানো।
২৮. আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তা (তাফাক্কুর) করা। ২৯. জবানকে হারাম ও অশ্লীল কথা থেকে রক্ষা করা।
৩০. অন্তরকে দুনিয়ার অনর্থক বিষয় ও ক্ষতিকর কামনা-বাসনা থেকে পবিত্র রাখা। ৩১. কাউকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করা। ৩২. হারামের দিকে না তাকানো। ৩৩. সর্বদা নিজের কথায় অটল থাকা। ৩৪. কানকে অশ্লীল কথা ও বাদ্যযন্ত্র থেকে রক্ষা করা। ৩৫. ফরজ ও হারামসমূহ শেখা। ৩৬. ওজন ও পরিমাপের যন্ত্র সঠিকভাবে ব্যবহার করা।
৩৭. আল্লাহ তাআলার আজাব থেকে নিজেকে নিরাপদ না ভেবে সর্বদা ভয় করা। ৩৮. আল্লাহ তাআলার রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া। ৩৯. মুসলমান দরিদ্রদের যাকাত দেওয়া ও সাহায্য করা। ৪০. নফসের হারাম কামনার অনুসরণ না করা।
৪১. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো।
৪২. প্রয়োজন পরিমাণ রিজিকের (খাদ্য, পোশাক ও বাসস্থানের) জন্য পরিশ্রম করা।
৪৩. সম্পদের যাকাত ও ফসলের উশর দেওয়া। ৪৪. হায়েজ ও নিফাস অবস্থায় থাকা স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস না করা।
৪৫. অন্তরকে গুনাহ থেকে পবিত্র রাখা।
৪৬. অহংকার থেকে বেঁচে থাকা। ৪৭. ইয়াতিম শিশুর সম্পদ রক্ষা করা।
৪৮. কিশোর ছেলেদের প্রতি কামভাব জাগাতে পারে এমন অবস্থা ও আচরণ থেকে দূরে থাকা।
৪৯. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কাজা হতে না দেওয়া। ৫০. শিরক না করা।
৫১. জিনা থেকে বেঁচে থাকা। ৫২. মাদক পানীয় পান না করা।
৫৩. অনর্থক কসম না খাওয়া।
৫৪. অন্যায়ভাবে, জুলুম করে, অর্থাৎ শরিয়তবিরোধী পথে অন্যের সম্পদ না নেওয়া। বান্দার হক (হাক্কুল ইবাদ) নষ্ট করাকে ভয় করা। (বান্দার হকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং যার আজাব সবচেয়ে বেশি, তা হলো নিজের আত্মীয়স্বজন ও অধীনস্থদের আমর বিল মারুফ না করা, তাদের দ্বীনি জ্ঞান না শেখানো। বিদআতি ব্যক্তি যে আহলে সুন্নতের আকিদা বদলে দেয়, দ্বীন ও ঈমান নষ্ট করে, তা-ও এমনই।)
“কেউ গুনাহ করার পর অনুতপ্ত হলে এই অনুতাপই তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়” হাদীস শরীফ
হে মন! এত পোশাক, এত হইচই, এত জাঁকজমক কেন,
যখন গায়ে একখানা চট আর একটি আবাই যথেষ্ট?
হে সরওয়ার! আমার অপরাধ ও অবাধ্যতা সীমা ছাড়ালেও,
তুমি শাফায়াতের খনি; এসেছি তোমার কাছে দয়ার আশায়।
এই মুহিব্বি তওবা করছে, তার তওবা কবুল করো,
শয়তানের ফিতনা থেকে তাকে রক্ষা করো, হে আমাদের রব!
Kanûnî Sultân Süleymân (Muhibbî)
