আমার প্রিয় নবী

কুফর প্রসঙ্গ

মন্দের মধ্যে সবচেয়ে মন্দ হলো আল্লাহ তাআলার প্রতি বিশ্বাস না করা, নাস্তিক হওয়া। যে বিষয়ে বিশ্বাস করা আবশ্যক, তা বিশ্বাস না করা কুফর। মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের প্রতি বিশ্বাস না করা কুফর। মুহাম্মদ আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে যা কিছু এনে জানিয়েছেন, তার সবকিছু অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করা এবং মুখেও স্বীকার করা, ঘোষণা দেওয়াকে ঈমান বলা হয়। মুখে বলতে কোনো বাধা থাকলে না বলা ক্ষমার যোগ্য। ঈমান অর্জিত হওয়ার জন্য ইসলাম যেসব বিষয়কে কুফরের আলামত বলেছে, সেগুলো বলা ও ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাও আবশ্যক। ইসলামের আহকাম, অর্থাৎ ইসলামের আদেশ-নিষেধের কোনো একটিকে তুচ্ছ মনে করা, পবিত্র কুরআন, ফেরেশতা কিংবা নবীগণের (আলাইহিমুস সালাওয়াতু ওয়াত তাসলিমাত) কোনো একজনকে নিয়ে ঠাট্টা করা কুফরের আলামতের অন্তর্ভুক্ত। অস্বীকার করার অর্থ শোনার পর বিশ্বাস না করা, সত্য বলে মেনে না নেওয়া। সন্দেহ করাও অস্বীকারের অন্তর্ভুক্ত। ইসলাম যেসব কথাকে ঈমানহীনতার আলামত বলেছে, সেসব কথা যে বলে এবং সেসব কাজ যে করে, অন্তরে বিশ্বাস থাকলেও এবং মুখে বিশ্বাসের কথা বললেও সে কাফির হয়ে যায়। ইসলাম যে বিষয়কে হেয় করতে বলেছে তাকে সম্মান করা, আর যাকে সম্মান করতে বলেছে তাকে হেয় করা কুফর।

কুফরের কারণ হয় এমন কিছু বিষয়

১. “আল্লাহ তাআলা আরশ থেকে কিংবা আকাশ থেকে আমাদের দেখছেন” – এ কথা বলা কুফর। কারণ আল্লাহ তাআলা স্থান থেকে পবিত্র। তাঁর সম্পর্কে “জমিনে, আকাশে, নিচে, ওপরে, ডানে, বাঁয়ে” বলা যায় না। ২. “তুমি যেমন আমার ওপর জুলুম করেছ, আল্লাহ তাআলাও তেমনি তোমার ওপর জুলুম করছেন” – এ কথা বলা কুফর। আল্লাহ তাআলা জালিম নন। তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর জুলুম করেন না। “জুলুম” শব্দটি আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে বলা যায় না। ৩. “অমুক মুসলমান আমার চোখে ইহুদির মতো” – এ কথা বলা কুফর। ৪. কোনো মিথ্যা কথা সম্পর্কে “আল্লাহ তাআলা জানেন, এটি সত্য” বলা কুফর। ৫. ফেরেশতাদের হেয় করে এমন কথা বলা কুফর।

৬. পবিত্র কুরআনকে, এমনকি তার একটি হরফকেও হেয় করে এমন কথা বলা, তার একটি হরফকেও অবিশ্বাস করা কুফর। ৭. বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে পবিত্র কুরআন পাঠ করা, ইলাহি (ধর্মীয় সংগীত) গাওয়া, আজান দেওয়া, মাওলিদ পাঠ করা কুফর। ৮. নবীগণকে হেয় করে এমন কথা বলা কুফর। ৯. অনেক ভালো কাজ করে এমন কারও সম্পর্কে “সে নবীর চেয়েও ভালো” বলা কুফর। ১০. কেউ নিজেকে নবী বলে দাবি করলে যারা তাকে বিশ্বাস করে, তারাও কাফির হয়ে যায়।

১১. আখিরাতে যা ঘটবে, তা নিয়ে ঠাট্টা করা কুফর। ১২. কবরের ও কিয়ামতের আজাবে (বুদ্ধি ও বিজ্ঞানের সঙ্গে মেলে না বলে) বিশ্বাস না করা কুফর।

১৩. জান্নাতে আল্লাহ তাআলার দর্শনে বিশ্বাস না করা কুফর।

১৪. প্রসিদ্ধ সুন্নতসমূহের কোনো একটিকে অপছন্দ করা কুফর।

১৫. ইসলামি জ্ঞানে বিশ্বাস না করা, সেগুলোকে এবং দ্বীনের আলেমগণকে হেয় করাও কুফর। ১৬. যে ব্যক্তি কাফির হতে চায়, সে যে মুহূর্তে এর নিয়ত করে, সেই মুহূর্তেই কাফির হয়ে যায়।

১৭. কুফরের কারণ হয় জেনেও স্বেচ্ছায় যে কুফরি কথা বলে, সে কাফির হয়ে যায়। না জেনে বললেও অধিকাংশ আলেমের মতে সে কাফির হয়ে যায়। ১৮. কোমরে জুন্নার নামের পাদরিদের কোমরবন্ধ বাঁধা এবং কেবল কুফরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো কিছু পরিধান করা কুফর। ব্যবসায়ীর জন্য দারুল হারবে (কাফিরদের দেশে) এগুলো ব্যবহার করাও কুফর। এগুলো রসিকতা করে, অন্যদের হাসানোর জন্য কিংবা ঠাট্টাচ্ছলে ব্যবহার করাও কুফরের কারণ হয়।

১৯. কোনো মুসলমানকে মন্দ বলার উদ্দেশ্যে তাকে “কাফির” বলা কুফর নয়। কিন্তু সে কাফির হয়ে যাক – এই কামনায় বলা কুফর। ২০. শিশু অবস্থায় যে মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে আকিল ও বালিগ হওয়ার পর যদি ঈমান ও ইসলাম না জানে, জিজ্ঞেস করলে বুঝিয়ে বলতে না পারে কিংবা এগুলোতে বিশ্বাস না করে, তবে তার স্বামী থেকে তার বিবাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সে নিজে মুরতাদ হয়ে যায়। ছেলের ক্ষেত্রেও একই বিধান।

২১. কাউকে অন্যায়ভাবে প্রহার করেছে বা হত্যা করেছে এমন জালিমকে “ভালো করেছ, সে এরই উপযুক্ত ছিল” বলা কুফর।

২২. ফরজ হওয়ায় বিশ্বাস না করে, তুচ্ছ মনে করে নামাজ না পড়া, রোজা না রাখা, যাকাত না দেওয়া কুফর। ২৩. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া কুফর। ২৪. মৃত প্রাণী, শূকরের গোশত, মদ ইত্যাদি যেসব বস্তু সত্তাগতভাবেই হারাম, সেগুলোকে “হারাম লি আইনিহি” বলা হয়। এগুলোকে হালাল বলা কুফর। ২৫. হারাম হওয়া অকাট্যভাবে জানা আছে এমন সকল গুনাহকে হালাল বলাও কুফর।

২৬. আজান, মসজিদ, ফিকহের কিতাব ইত্যাদি ইসলাম যেসব বিষয়কে মূল্য দেয়, সেগুলোকে হেয় করা কুফর। ২৭. অজু নেই জেনেও নামাজ পড়া কুফর। ২৮. জেনেশুনে কিবলা ছাড়া অন্য দিকে ফিরে নামাজ পড়া কুফর। “নামাজ কিবলার দিকে ফিরে পড়া আবশ্যক নয়” – যে এ কথা বলে, সে কাফির হয়ে যায়। ২৯. কেউ যদি কোনো ইসলামি আলেমকে অকারণে ঘৃণা করে বা গালি দেয়, তবে তার কুফরে পতিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। ৩০. আলেমগণ বলেছেন, কেউ যদি অপছন্দের কোনো ব্যক্তিকে বলে, “তোমার চেহারা আমার কাছে জান কবজকারীর মতো”, তবে সে কাফির হয়ে যায়। কারণ জান কবজকারী ফেরেশতা (আজরাইল আলাইহিস সালাম) একজন মহান ফেরেশতা।

“আল্লাহ তাআলা তাঁর সঙ্গে শরিককারীদের, অর্থাৎ কাফিরদের ক্ষমা করেন না; আর শিরক, অর্থাৎ কুফর ছাড়া অন্য গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন” নিসা: ১১৬

৩১. জিনা, সমকাম, সুদ, মিথ্যা ইত্যাদি যা সকল ধর্মে হারাম, এমন কোনো বিষয়ে “হালাল হলে আমিও করতাম” বলে কামনা করা কুফর। ৩২. মুহাম্মদ আলাইহিস সালাম যে আখেরি জামানার নবী, তা যে জানে না, সে কাফির হয়ে যায়। ৩৩. কেউ রেশমি পোশাক পরলে অন্য কেউ যদি তাকে “মুবারক হোক” বলে, তবে এই দ্বিতীয় ব্যক্তির কুফরে পতিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

৩৪. যে তাফসির ও ফিকহের কিতাবসমূহের অবমাননা করে, সেগুলোকে অপছন্দ করে, মন্দ বলে, সে কাফির হয়ে যায়। ৩৫. কেউ যদি বলে, “জিবরাইলের বাছুরের মতো একেবারে উলঙ্গ হয়ে গেছ”, তবে এটি এক মহাবিপদ; কারণ এতে ফেরেশতাকে নিয়ে ঠাট্টা করা হয়। ৩৬. “নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) কালো ছিলেন” – যে এ কথা বলে, সে কাফির হয়ে যায়। ৩৭. “নামাজ না পড়া ভালো কাজ” – যে এ কথা বলে, সে কাফির হয়ে যায়। আলেমগণ বলেছেন, কেউ যদি অন্য কাউকে বলে, “এসো, নামাজ পড়ো”, আর সে উত্তরে বলে, “নামাজ পড়া আমার জন্য কঠিন কাজ”, তবে সে কাফির হয়ে যায়। ৩৮. যে আল্লাহকে “পিতা” বলে, সে কাফির হয়ে যায়। ৩৯. কেউ যদি বলে, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খাওয়া শেষে তাঁর মুবারক আঙুল চেটে নিতেন”, আর অন্য কেউ বলে, “এটি বেয়াদবি”, তবে এই দ্বিতীয় ব্যক্তি কাফির হয়ে যায়। ৪০. যে নিজের বুদ্ধি দিয়ে পবিত্র কুরআনের অর্থ করে, সে কাফির হয়ে যায়।

৪১. পবিত্র কুরআন ধারণকৃত ক্যাসেট ও রেকর্ড মুসহাফ শরীফের (কুরআনের লিখিত কপির) মতোই মূল্যবান। এগুলোর প্রতি অসম্মান দেখানোও কুফর। ৪২. জিনের সঙ্গে পরিচয় আছে এমন গণক, জ্যোতিষের বই দেখে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেয় এমন লোক এবং জাদুকরদের কাছে গিয়ে তাদের কথা ও কাজে বিশ্বাস করা – কখনো কখনো তা সত্য হলেও – মানে আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কেউ সবকিছু জানে এবং যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে বলে বিশ্বাস করা। আর এটি কুফর। (বিজ্ঞানের জ্ঞানে বিশ্বাস না করা এমন নয়।) ৪৩. সুন্নতকে তুচ্ছ মনে করে, গুরুত্ব না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া কুফর। ৪৪. “জাদুকর জাদু দিয়ে যা চায় তা অবশ্যই করতে পারে, জাদু নিশ্চিতভাবেই প্রভাব ফেলে” – যে এ কথা বলে এবং বিশ্বাস করে, সে কাফির হয়ে যায়।

৪৫. কোনো মুসলমানকে কেউ “কাফির” বললে সে যদি “জি, জনাব” – এমন সম্মতিসূচক উত্তর দেয়, তবে সেও কাফির হয়ে যায়। ৪৬. যে নারীকে বিয়ে করা হারাম, তাকে বিয়ে করা হালাল – এ কথা যে বলে, সে কাফির হয়ে যায়।

৪৭. কেউ যদি তার হাতে থাকা অকাট্যভাবে হারাম সম্পদ থেকে সদকা দেয় এবং এর জন্য সওয়াবের আশা করে, আর সেই সদকা গ্রহণকারী দরিদ্র ব্যক্তি সম্পদটি হারাম জেনেও দাতাকে “আল্লাহ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হোন” বলে এবং দাতা কিংবা অন্য কেউ “আমিন” বলে, তবে তারা সবাই কাফির হয়ে যায়।

৪৮. যে উদ্দেশ্যেই হোক, আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কাউকে “সৃষ্টিকর্তা” বলা কুফর। ৪৯. জেনেশুনে “আবদুল কাদির” নামের বদলে “আবদুল কয়দুর” বলা কুফর। “আবদুল আজিজ” নামের বদলে “আবদুল উজাইজ”, “মুহাম্মদ” নামের বদলে “মেমো”, “হাসান” নামের বদলে “হাসসো”, “ইবরাহিম” নামের বদলে “ইবো” বলাও এমনই। যারা এই নামগুলো জুতা ও চপ্পলে লেখে এবং সেগুলোর ওপর পা রাখে, তাদের ঈমান চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। ৫০. “অজ্ঞ লোকেরা আউলিয়াকে সৃষ্টিকর্তা মনে করবে – এই ভয়ে আমরা মাজারগুলো ভেঙে ফেলছি” – এ কথা কুফর। ৫১. যে কাগজ, চাদর বা জায়নামাজের ওপর লেখা, এমনকি একটি হরফও আছে, তা মাটিতে রাখা (অবমাননার উদ্দেশ্যে বিছানো বা ব্যবহার করা) কুফর। ৫২. “আবু বকর সিদ্দিক ও উমর ফারুকের (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা) খিলাফতের কোনো অধিকার ছিল না” – এ কথা বলা কুফর। ৫৩. যে অন্য কারও, বিশেষ করে নিজের সন্তানের কাফির হওয়ার কারণ হয়, সে নিজেও কাফির হয়ে যায়। ৫৪. রেডিও ও লাউডস্পিকারে উচ্চারিত, পঠিত পবিত্র কুরআনের হুবহু প্রতিধ্বনির প্রতি অসম্মান দেখানোও কুফর।

৫৫. সুন্নত এমন কোনো কাজকে অপছন্দ করা কুফর। সুন্নতকে গুরুত্ব না দেওয়া কুফর। ৫৬. মৃতকে মাটিতে দাফন করা ফরজ। এই ফরজকে গুরুত্ব না দিয়ে যে এই খেদমত থেকে পালায় এবং জ্ঞান ও বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে বলে, “মৃতকে দাফন করা পশ্চাৎপদতা; বৌদ্ধ, ব্রাহ্মণ ও কমিউনিস্ট কাফিরদের মতো মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলাই ভালো”, তার ঈমান চলে যায়, সে মুরতাদ হয়ে যায়। ৫৭. “তাড়াতাড়ি দানকারী দাদা” বলা অত্যন্ত কুৎসিত এবং কুফরের কারণ হয়। ৫৮. জিনা ও সমকামকে জায়েজ বলা কুফর। ৫৯. নস (অর্থাৎ আয়াত ও হাদীস) এবং ইজমা দ্বারা জানানো হারামকে গুরুত্ব না দেওয়া কুফর।

৬০. কবিরা গুনাহ অব্যাহত রাখা ও তাতে জেদ ধরে থাকা মানুষকে কুফরের দিকে টেনে নেয়। নামাজকে গুরুত্ব না দেওয়া কুফর। ৬১. আল্লাহ তাআলার ওলিদের মধ্যে মৃত বা জীবিত কাউকে মুখে কিংবা অন্তরে অস্বীকার করা কুফর। ৬২. আউলিয়া এবং নিজের ইলম অনুযায়ী আমলকারীদের সঙ্গে শত্রুতা করা কুফর। ৬৩. “আউলিয়ার মধ্যে ইসমত (নিষ্পাপতা) গুণ আছে” বলা কুফর। (ইসমত গুণ কেবল নবীগণের মধ্যেই থাকে।)

৬৪. কোনো ঘটনা আপনা-আপনি ঘটে বলে বিশ্বাস করা এবং “প্রাণীরা এককোষী থেকে উন্নত গঠনের দিকে একটি থেকে আরেকটিতে রূপান্তরিত হয়ে শেষ পর্যন্ত মানুষে পরিণত হয়েছে” – এ কথা বলা কুফর।

“হে আমার রব! আমি তোমার কাছে এমন ঈমান চাই, যার পরিণতি কুফর নয়!” হাদীস শরীফ

৬৫. কাফিরদের ইবাদতকে ইবাদত হিসেবে পালন করা, যেমন তারা তাদের গির্জায় যে অর্গান ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র ও ঘণ্টা বাজায়, তা মসজিদে বাজানো, এবং ইসলাম যেসব বিষয়কে কুফরের আলামত বলেছে, জরুরত ও বাধ্যবাধকতা ছাড়াই সেগুলো ব্যবহার করা কুফর। ৬৬. যে সাহাবায়ে কেরামকে গালি দেয়, তাকে মুলহিদ বলা হয়। মুলহিদ কাফির। ৬৭. ছবিতে অঙ্কিত বা মূর্তিতে রূপায়িত ব্যক্তির মধ্যে, ক্রুশে কিংবা তারকা, সূর্য, গরু ইত্যাদি যেকোনো কিছুর মধ্যে উলুহিয়্যাতের (ঐশ্বরিকতার) গুণ আছে বলে বিশ্বাস করে, যেমন “সে যা চায় সৃষ্টি করে, যা ইচ্ছা তা-ই করে, রোগীকে আরোগ্য দেয়” বলে তাকে সম্মান করা কুফর। ৬৮. হযরত আয়েশার প্রতি অপবাদ আরোপকারী (যে তাঁকে ব্যভিচারিণী বলে) এবং তাঁর পিতা যে সাহাবী ছিলেন, তা অবিশ্বাসকারী ব্যক্তি কাফির হয়ে যায়। ৬৯. ঈসা আলাইহিস সালাম যে আকাশ থেকে অবতরণ করবেন, এটিও এমন বিষয়, যা প্রত্যেকের জানা আবশ্যক। যে এতে বিশ্বাস করে না, সে কাফির হয়ে যায়। ৭০. পবিত্র কুরআনে ও হাদীস শরীফে যাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁকে কাফির বলা কুফর। ৭১. মুসলমান নারীর মাথা, বাহু ও পা খোলা রেখে রাস্তায় বের হওয়া, পুরুষদের তা দেখানো হারাম, গুনাহ। যদি সে এটিকে গুরুত্ব না দেয়, পরোয়া না করে, তবে তার ঈমান চলে যায়, সে কাফির হয়ে যায়। ৭২. ফেরেশতা ও জিনের অস্তিত্বে যে বিশ্বাস করে না, সে কাফির হয়ে যায়।

৭৩. যে কোনো মুসলমানকে “হে কাফির!” বলে (কিংবা মুসলমানকে মেসন, কমিউনিস্ট বলে) এবং তাকে কাফির বলে বিশ্বাস করে, সে নিজেই কাফির হয়ে যায়। ৭৪. নবীগণের সঠিক সংখ্যা জানা নেই। কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বললে নবী নন এমন কাউকে নবী বানানো কিংবা কোনো নবীকে নবী হিসেবে মেনে না নেওয়া হয়ে যেতে পারে। আর এটি কুফর। কারণ নবীগণের একজনকে মেনে না নেওয়া মানে কাউকেই মেনে না নেওয়া। ইসলামি আলেমগণ এ বিষয়ে বলেছেন, নবীগণের সংখ্যা এক লক্ষ চব্বিশ হাজারেরও বেশি। আলেমগণ সর্বসম্মতভাবে যেসব কথা ও কাজকে কুফরের কারণ বলে জানিয়েছেন, পুরুষ হোক বা নারী, কোনো মুসলমান যদি তার কোনোটি কুফরের কারণ জেনেও ইচ্ছাকৃতভাবে (হুমকি ছাড়া, স্বেচ্ছায়) গুরুত্বের সঙ্গে কিংবা রসিকতা করে, হাসানোর জন্য বলে বা করে, তবে অর্থ নিয়ে না ভাবলেও তার ঈমান চলে যায়। সে মুরতাদ হয়ে যায়। তার আগের ইবাদতসমূহের সওয়াব নষ্ট হয়ে যায়। তওবা করলেও সেগুলো ফিরে আসে না। সে ধনী হলে তাকে আবার হজে যেতে হয়। তওবার জন্য কেবল কালিমায়ে শাহাদাত পড়াই যথেষ্ট নয়। কুফরের কারণ হয়েছে যে বিষয়টি, তা থেকেও তওবা করা আবশ্যক। (ইসলাম থেকে যে দরজা দিয়ে বেরিয়েছে, সেই দরজা দিয়েই প্রবেশ করতে হবে।) না জানা কোনো ওজর নয়, বরং কবিরা গুনাহ। কারণ প্রত্যেক মুসলমানের জন্য যা জানা আবশ্যক, তা শেখা ফরজ। যে কুফরের কারণ হয় এমন কথা ভুল করে, অসাবধানে মুখ ফসকে কিংবা তাবিল (ব্যাখ্যাসাপেক্ষে) বলে ফেলে, তার ঈমান ও বিবাহ নষ্ট হয় না। তবে তার জন্য তওবা ও ইস্তিগফার, অর্থাৎ তাজদিদে ঈমান (ঈমান নবায়ন) করা ভালো।

একজন কাফির যেমন একবার কালিমায়ে তাওহিদ পড়ার মাধ্যমে মুমিন হয়ে যায়, তেমনি একজন মুমিনও একটি কথা বলার মাধ্যমে কাফির হয়ে যায়। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত সকাল-সন্ধ্যা এই ঈমানের দোয়া পাঠ করা এবং দ্বিতীয়টি পাঠ করে তওবা করা, নিজের ঈমান ও বিবাহ নবায়ন করা:

“আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিন আন উশরিকা বিকা শাইআন ওয়া আনা আলামু ওয়া আসতাগফিরুকা লিমা লা আলামু ইন্নাকা আনতা আল্লামুল গুয়ুব।”

“আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদু আন উজাদ্দিদাল ঈমানা ওয়ান নিকাহা তাজদিদান বিকাওলি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।”

খুঁজে খুঁজে যদি পেতাম তোমার পদচিহ্ন,
সেই চিহ্নের ধুলায় ঘষতাম আমার মুখ,
হক যদি নসিব করেন, দেখতাম তোমার মুখ…
ইয়া মুহাম্মদ! প্রাণ যে আমার তোমাকেই চায়।
এক বরকতময় সফর হলে চলে যেতাম,
কাবার পথে বালুর মাঝে ডুবে যেতাম,
তোমার সুন্দর রূপ একবার স্বপ্নে দেখতাম…
ইয়া মুহাম্মদ! প্রাণ যে আমার তোমাকেই চায়।
এক কণাও ছলনা রইল না আমার অন্তরে,
সততা নিয়ে এসেছি আমি এই হক পথে,
আবু বকর, উমর ও উসমানের সাথে।
ইয়া মুহাম্মদ! প্রাণ যে আমার তোমাকেই চায়।

“‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে তোমরা তাজদিদে ঈমান (ঈমান নবায়ন) করো!” হাদীস শরীফ