আমার প্রিয় নবী

সতর ও নারীদের পর্দা

আবু সাঈদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, “পুরুষ যেন পুরুষের এবং নারী যেন নারীর সতরের দিকে না তাকায়!” দেখা যাচ্ছে, পুরুষদের জন্য নারীদের এবং নারীদের জন্য পুরুষদের সতরের দিকে তাকানো যেমন হারাম, তেমনি পুরুষদের জন্য পুরুষের সতরের দিকে এবং নারীদের জন্য নারীর সতরের দিকে তাকানোও হারাম। পুরুষের জন্য এবং নারীর জন্য পুরুষের সতর হলো হাঁটু ও নাভির মধ্যবর্তী অংশ। নারীর জন্য নারীর সতরও তেমনি। আর বেগানা পুরুষের জন্য নারীর সতর হলো হাত ও মুখমণ্ডল ছাড়া তার সমস্ত শরীর। এ কারণে নারীদের “আওরাত” বলা হয়। মুসলমান হোক বা কাফির, বেগানা নারীর মুখের দিকে কামভাব নিয়ে তাকানো, আর তার সতরের দিকে কামভাব ছাড়াও তাকানো হারাম।

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, “তোমরা বেগানা নারীর ঘরে রাত কাটাবে না!”

উকবা ইবনে আমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, “তোমরা বেগানা নারীর সঙ্গে এক কক্ষে একা থেকো না! নারী যদি তার স্বামীর ভাই কিংবা সেই ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে একা থাকে, তবে তা তাকে মৃত্যু পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।” অর্থাৎ তা ফিতনার কারণ হয়। এ থেকে খুব সতর্কভাবে বেঁচে থাকা উচিত। এই হাদীস শরীফ “বুখারি শরীফ” ও “মুসলিম শরীফ” গ্রন্থে লিখিত আছে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, “নারীর দেহ সতর।” অর্থাৎ তা ঢেকে রাখা আবশ্যক। “নারী যখন রাস্তায় বের হয়, শয়তান সারাক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকে।” (অর্থাৎ পুরুষদের ধোঁকা দিয়ে গুনাহে লিপ্ত করার জন্য সে তাকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে।)

বুরাইদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হযরত আলিকে বললেন, “হে আলি! কোনো নারীকে দেখলে তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। তার দিকে আবার তাকিয়ো না! হঠাৎ দেখে ফেলা গুনাহ না হলেও আবার তাকানো গুনাহ।” আবু দাউদ ও দারিমি এটি বর্ণনা করেছেন।

আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, “হে আলি! তোমার ঊরু খুলো না এবং মৃত বা জীবিত কারও ঊরুর দিকে তাকিয়ো না!” এই হাদীস শরীফ আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, মৃতের সতরের দিকে তাকানো জীবিতের সতরের দিকে তাকানোর মতোই। [খেলোয়াড়দের ও সমুদ্রে সাঁতার কাটা লোকদের সতরের দিকে তাকানো থেকে খুব সতর্কভাবে বেঁচে থাকা উচিত।]

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, “তোমরা তোমাদের সতর খুলো না! [অর্থাৎ একা থাকলেও খুলো না।] কারণ তোমাদের সঙ্গে এমন সত্তাগণ আছেন, যাঁরা কখনো তোমাদের থেকে আলাদা হন না। তাঁদের লজ্জা করো এবং তাঁদের সম্মান করো!” এঁরা হলেন হাফাজা নামক ফেরেশতাগণ। তাঁরা মানুষকে জিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন এবং কেবল শৌচাগারে ও স্বামী-স্ত্রীর মিলনের সময় মানুষ থেকে আলাদা হন।

উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমরা মাইমুনার (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সঙ্গে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে ছিলাম। ইবনে উম্মে মাকতুম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অনুমতি নিয়ে ভেতরে এলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে দেখে আমাদের বললেন, “পর্দার আড়ালে চলে যাও!” আমি বললাম, “তিনি কি অন্ধ নন? তিনি তো আমাদের দেখতে পান না।” তিনি বললেন, “তোমরাও কি অন্ধ? তোমরা কি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ না?” অর্থাৎ তিনি বোঝালেন, “তিনি অন্ধ হলেও তোমরা তো অন্ধ নও।” এই হাদীস শরীফ ইমাম আহমদ, তিরমিজি ও আবু দাউদ (রাহিমাহুমুল্লাহু তাআলা) বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস শরীফ অনুসারে পুরুষের জন্য বেগানা নারীর দিকে তাকানো যেমন হারাম, তেমনি নারীর জন্যও বেগানা পুরুষের দিকে তাকানো জায়েজ নয়। আমাদের মাজহাবের ইমামগণ (রাহিমাহুমুল্লাহু তাআলা) অন্যান্য হাদীস শরীফও বিবেচনা করে বলেছেন, “নারীর জন্য বেগানা পুরুষদের মাথা ও চুলের দিকে না তাকানো কঠিন। যে আদেশ পালন করা কঠিন, তা আজিমত। নারীর জন্য পুরুষের সতর হলো হাঁটু ও নাভির মধ্যবর্তী অংশ। এ অংশের দিকে না তাকানো সহজ। যে আদেশ পালন করা সহজ, তা রুখসত।”

[দেখা যাচ্ছে, আজওয়াজে তাহিরাত (মহানবীর পবিত্র স্ত্রীগণ) (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুন্না) এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আজিমত অনুযায়ী আমল করতেন এবং রুখসত থেকেও বেঁচে থাকতেন। ইসলামকে ভেতর থেকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত ইংরেজদের ও জিন্দিকদের “নবীর যুগে নারীরা পর্দা করত না। এখন আমরা নারীদের যে জুজুর মতো ঢেকে চলতে দেখি, তখন তা ছিল না। হযরত আয়েশা খালি মাথায় চলাফেরা করতেন। এখনকার পর্দা পরে গোঁড়ারা ও ফিকহওয়ালারা বানিয়েছে” – এ জাতীয় কথা জঘন্য অপবাদ।]

উমর ফারুক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, “কোনো পুরুষ কোনো বেগানা নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্র হলে তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।” এই হাদীস শরীফ তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। [এক বা একাধিক বেগানা নারীর সঙ্গে খালওয়াত করা, অর্থাৎ বদ্ধ স্থানে একা থাকা হারাম। ইবনে আবিদিন ইমামতির বিষয় বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “সেখানে আরও একজন পুরুষ থাকলে, কিংবা জি-রাহিম মাহরাম (যার সঙ্গে বিবাহ চিরতরে হারাম, এমন আত্মীয়) কোনো নারী থাকলে খালওয়াত হয় না।”] জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, “যেসব নারীর স্বামী দূরে আছে, তাদের কাছে যেয়ো না! কারণ শয়তান রক্তের মতো তোমাদের শিরায় শিরায় চলাচল করে।” সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার মধ্যেও কি চলাচল করে?” তিনি বললেন, “আমার মধ্যেও করে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করেছেন। তিনি তাকে মুসলমান বানিয়ে দিয়েছেন, ফলে সে আমার অনুগত হয়েছে।” এই হাদীস শরীফ তিরমিজি (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বর্ণনা করেছেন।

উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কাছে ছিলেন। কক্ষে আমার ভাই আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয়ার গোলামও ছিল। এই গোলাম ছিল মুখান্নাস। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই মুখান্নাসকে দেখে ও তার কথা শুনে বললেন, “এ ধরনের লোকদের তোমাদের ঘরে ঢুকতে দিয়ো না!” এই হাদীস শরীফ “বুখারি শরীফ” ও “মুসলিম শরীফ” গ্রন্থে লিখিত আছে। মুখান্নাস হলো সেই ব্যক্তি, যে নিজের স্বভাব, চালচলন, কথাবার্তা ও আকৃতি নারীদের মতো করে তোলে। যারা এমন করে, তারা অভিশপ্ত। তাদের সম্পর্কে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “যেসব পুরুষ নিজেদের নারীদের সদৃশ বানায় এবং যেসব নারী নিজেদের পুরুষদের সদৃশ বানায়, আল্লাহ তাদের লানত করুন!” বিনা প্রয়োজনে যেসব নারী পুরুষদের মতো পোশাক পরে, তাদের মতো চুল ছাঁটে এবং পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট কাজ করে, আর যেসব পুরুষ নারীদের মতো চুল লম্বা রাখে ও সাজসজ্জা করে, তারা এই হাদীস শরীফের বিধানের অন্তর্ভুক্ত।

“হে আলি! কোনো নারীকে দেখলে তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। তার দিকে আবার তাকিয়ো না! হঠাৎ দেখে ফেলা গুনাহ না হলেও আবার তাকানো গুনাহ” হাদীস শরীফ

ইসলাম ধর্ম মুসলমান নারীর জন্য এমন পাতলা আবরণে নিজেকে ঢাকা হারাম করেছে, যার ভেতর দিয়ে নিচের অংশ দেখা যায়। “মুসলিম শরীফ” ও “মুয়াত্তা” গ্রন্থের হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “পোশাক পরিহিত, (অথচ) উলঙ্গ এবং (তেমনি) মাথা উটের কুঁজের মতো উঁচু করা নারীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এমনকি তার ঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ বহু দূর থেকে পাওয়া যাবে।” এই হাদীস শরীফ নারীদের পাতলা, স্বচ্ছ বা শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা আঁটসাঁট পোশাক, মোজা ও মাথার কাপড় দিয়ে নিজেদের ঢাকা এবং মাথার ওপর চুল চূড়া করে জড়ো করা নিষেধ করছে। এভাবে ঢাকা উলঙ্গ হয়ে চলাফেরার মতোই। মুসলমান নারী ও মেয়েরা যেন পাতলা ও আঁটসাঁট জিনিস দিয়ে নিজেদের না ঢাকে, নিজেদের চুল কিংবা লাগানো পরচুলার চুল উটের কুঁজের মতো মাথার ওপর জড়ো না করে এবং চুলে খোঁপা না বাঁধে। জানা উচিত, এগুলো জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার মতো গুনাহ। “হিন্দিয়া” গ্রন্থে বলা হয়েছে, “মোটা ও ঢিলেঢালা কাপড়ে আবৃত নারীর দিকে তাকানো জায়েজ। পাতলা ও আঁটসাঁটভাবে আবৃত নারীর দিকে তাকানো জায়েজ নয়। আবৃত নারীর মুখের দিকেও কামভাব নিয়ে তাকানো হারাম। কামভাব ছাড়া অপ্রয়োজনে তাকানো মাকরুহ। অমুসলিম নারীদের দিকে তাকানোর বিধানও তেমনি। তাদের কেবল চুলের দিকে তাকানো জায়েজ বলা হয়েছে।”

মোটা, ঢিলেঢালা, গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা এবং কবজি পর্যন্ত হাত ঢেকে রাখে এমন গাঢ় রঙের লম্বা কোট পরে পর্দা করা দুই টুকরো চাদরে পর্দা করার চেয়ে উত্তম। “হালাবিয়ে কাবির” গ্রন্থে বলা হয়েছে, “স্বাধীন নারীর কান পর্যন্ত ঝুলে থাকা চুল সর্বসম্মতিক্রমে সতর। কানের নিচে ঝুলে থাকা অংশও অধিকাংশ আলেমের মতে সতর।

কারও কারও মতে ঝুলে থাকা অংশ নামাজে সতর নয়। কিন্তু বেগানা পুরুষের জন্য এর দিকে তাকানোও জায়েজ নয়।” নারীকে তার সমস্ত চুল মোটা মাথার কাপড় দিয়ে ঢাকতে হবে। এই কাপড়ের মাঝখানের সামনের অংশ ললাটের সঙ্গে লেগে থাকবে এবং ভ্রুর কাছাকাছি নেমে আসবে। এর দুই প্রান্ত দুই ভ্রুর পাশ দিয়ে চিবুক পর্যন্ত নামিয়ে সেখানে পিন দিয়ে জুড়ে দেওয়া হবে এবং তা বুকের ওপর ঝুলে থাকবে। আর মাঝখানের পেছনের অংশ পিঠ ঢেকে রাখবে। ফিতনার আশঙ্কা থাকলে গালও ঢাকতে হবে। গাঢ় রঙের মোটা মোজাও পরতে হবে। নারীর ঝুলে থাকা চুলের এক-চতুর্থাংশ এক রুকন পরিমাণ সময় খোলা থাকলে তার নামাজ সহিহ হয় না। এর চেয়ে কম খোলা থাকলে মাকরুহ হয়। এ বিষয়ে কোনো গ্রন্থই নারী বৃদ্ধা না যুবতী – এ পার্থক্য করেনি। বৃদ্ধা নারীর সালামের জবাব দেওয়া, তার সঙ্গে মুসাফাহা করা ও খালওয়াত জায়েজ বলা হলেও বৃদ্ধা নারীর চুল খোলা রাখা কিংবা তার চুলের দিকে তাকানো জায়েজ – এ কথা কেউ বলেননি। অমুসলিম নারীর চুলের দিকে তাকানো জায়েজ – এমন কথা বলেছেন কেউ কেউ। কিন্তু বৃদ্ধা মুসলমান নারীর চুলের দিকে তাকানো জায়েজ – এমন কথা কেউই বলেননি। যাঁরা বৃদ্ধা নারীর মসজিদে ও কবর জিয়ারতে যাওয়া জায়েজ বলেছেন, তাঁরাও চুল ও মাথা ঢাকা থাকার শর্ত উল্লেখ করেছেন।

যে ব্যক্তি নিজেকে মুসলমান বলে, তার জন্য তার প্রতিটি কাজ ইসলাম অনুযায়ী কি না, তা জানা আবশ্যক। না জানলে আহলে সুন্নতের কোনো আলেমকে জিজ্ঞেস করে কিংবা এই আলেমগণের গ্রন্থ পড়ে শিখে নেওয়া আবশ্যক। কাজটি ইসলাম অনুযায়ী না হলে সে গুনাহ বা কুফর থেকে মুক্তি পায় না। তাকে প্রতিদিন খাঁটি তওবা করতে হবে। যে গুনাহ ও কুফর থেকে তওবা করা হয়, তা অবশ্যই ক্ষমা করা হয়। তওবা না করলে সে দুনিয়ায় ও জাহান্নামে এর আজাব, অর্থাৎ শাস্তি ভোগ করবে। পুরুষ ও নারীদের নামাজে এবং সর্বত্র শরীরের যে অংশগুলো ঢেকে রাখা আবশ্যক, সেগুলোকে সতর (আওরাত) বলা হয়। “সতর খোলা এবং অন্যের সতরের দিকে তাকানো হারাম।” যে বলে, ইসলামে সতর বলে কিছু নেই, সে কাফির হয়ে যায়। আমাদের দ্বীন সতর ঢাকার আদেশ দেয়। যে স্থানে সতর খোলা কোনো পুরুষ বা নারী থাকে, কিংবা বাদ্যযন্ত্র, জুয়া, মদ ও নারীকণ্ঠ থাকে, সেই স্থানকে ফিসকের মজলিস (পাপাচারের আসর) বলা হয়। ফিসকের মজলিসে যাওয়া হারাম। অন্তর পবিত্র হওয়াও আবশ্যক। অন্তরের পবিত্রতা হলো উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া। অন্তর ইসলামের অনুসরণের মাধ্যমে পবিত্র হয়। যে ইসলামের অনুসরণ করে না, তার অন্তর পবিত্র হতে পারে না।

যে ব্যক্তি ইজমা দ্বারা, অর্থাৎ চার মাজহাবেই সতর হিসেবে গণ্য কোনো অঙ্গ খোলাকে এবং অন্যদের এমন সতরের দিকে তাকানোকে হালাল বলে, কিংবা একে গুরুত্ব দেয় না, অর্থাৎ এর আজাবকে ভয় করে না, সে কাফির হয়ে যায়। নারীদের সতর খোলা, পুরুষদের সামনে গান গাওয়া ও মাওলিদ পাঠ করাও এমনই। যে ব্যক্তি “আমি মুসলমান” বলে, তার জন্য ঈমান ও ইসলামের শর্তসমূহ এবং ইজমা, অর্থাৎ চার মাজহাবের ঐকমত্যের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরজ ও হারামসমূহ শেখা এবং সেগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক। না জানা কোনো ওজর নয়। তা জেনেও বিশ্বাস না করার মতোই। “নারীদের মুখমণ্ডল ও হাত ছাড়া অন্য সব অঙ্গ চার মাজহাবেই সতর।” যে অঙ্গটি ইজমা দ্বারা সতর নয়, অর্থাৎ অন্য তিন মাজহাবের কোনো একটি অনুযায়ী সতর গণ্য নয়, কেউ তা গুরুত্ব না দিয়ে খুললে সে কাফির না হলেও নিজের মাজহাব অনুযায়ী কবিরা গুনাহ করে। পুরুষদের হাঁটু ও কুঁচকির মধ্যবর্তী অংশ, অর্থাৎ ঊরু খোলাও এমনই। যা জানে না, তা শেখা ফরজ। শেখার পর সঙ্গে সঙ্গে তওবা করা এবং সেই অঙ্গ ঢেকে নেওয়া আবশ্যক।

“যেসব পুরুষ নিজেদের নারীদের সদৃশ বানায় এবং যেসব নারী নিজেদের পুরুষদের সদৃশ বানায়, আল্লাহ তাদের লানত করুন!” হাদীস শরীফ

কী হলো তোমার চোখে, “থামো” বলি যত, ঝরে তত বেশি?
“হুঁশে ফেরো” বলি যত, হৃদয় উথলে জ্বলে তত বেশি?
হযরত মুহাম্মদের দানের বৃষ্টিধারা থেকে
এক ফোঁটা পেতে চান সকল নবী তাঁর কাছে।
বাহ্যিক ও অন্তর্গত, আত্মিক ও দৈহিক –
সব সৃষ্টির মধ্যে তিনিই হকের সবচেয়ে প্রিয়।
সীমাহীন তাঁর সত্তার মর্যাদা ও পূর্ণতা,
ভাষায় বর্ণনা অসম্ভব তাঁর পূর্ণতার কথা।
রাসূলুল্লাহর সকল মুজিযা যদি পারত তাঁর মহত্ত্ব প্রকাশ করতে,
তবে তাঁর নাম মুবারক যখন উচ্চারিত হতো, সব জীর্ণ হাড়
এক মুহূর্তে জীবিত হয়ে উঠত।
আমাদের সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা তিনি চাপাননি,
তাঁর আদেশ-নিষেধ আমরা মাথা পেতে নিই।
কাসিদায়ে বুরদা