ইসলামের শর্তসমূহ
যারা ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করেছে, অর্থাৎ মুসলমানদের ওপর ফরজ এবং অবশ্যই পালনীয় এমন পাঁচটি কর্তব্য আছে। সেগুলো হলো:
১. ইসলামের শর্তসমূহের প্রথমটি – কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করা। কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করার অর্থ “আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু” বলা। অর্থাৎ বুদ্ধিসম্পন্ন, বালিগ ও কথা বলতে সক্ষম ব্যক্তি বলবে, “পৃথিবীতে ও আকাশে আল্লাহ ছাড়া এমন কোনো কিছু নেই, এমন কেউ নেই, যার ইবাদত পাওয়ার অধিকার আছে এবং যে উপাসনার যোগ্য। প্রকৃত উপাস্য (মাবুদ) একমাত্র আল্লাহ তাআলা।” তিনি ওয়াজিবুল উজুদ। সব শ্রেষ্ঠত্ব তাঁরই। তাঁর মধ্যে কোনো ত্রুটি নেই। তাঁর নাম “আল্লাহ” – এ কথা বলবে এবং অন্তর দিয়ে দৃঢ়ভাবে এতে বিশ্বাস করবে। আবার বলবে: যাঁর গায়ের রং গোলাপের মতো, চেহারা লাল-সাদা মেশানো উজ্জ্বল ও মায়াময়, ভ্রু ও চোখ কালো, মুবারক ললাট প্রশস্ত, চরিত্র উত্তম, যাঁর ছায়া মাটিতে পড়ত না, যিনি মধুরভাষী, আরব দেশের মক্কায় জন্মেছেন বলে যাঁকে আরব বলা হয়, হাশিমি বংশের সেই “আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার বান্দা ও রাসূল, অর্থাৎ তাঁর নবী।” তিনি ওয়াহাবের কন্যা হযরত আমিনার পুত্র। আলহামদুলিল্লাহ, তিনি আমাদেরও প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
২. ইসলামের পাঁচ শর্তের দ্বিতীয়টি – এর শর্ত ও ফরজসমূহ মেনে প্রতিদিন পাঁচবার ওয়াক্ত হলে নামাজ আদায় করা। আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে প্রত্যেক দ্বীনে এক ওয়াক্ত করে নামাজ ছিল। তাঁরা সবাই যে নামাজ আদায় করতেন, তা একত্র করে আমাদের ওপর ফরজ করা হয়েছে। নামাজ আদায় করা ঈমানের শর্ত না হলেও নামাজ যে ফরজ, তাতে বিশ্বাস করা ঈমানের শর্ত। মুকাল্লাফ [অর্থাৎ বুদ্ধিসম্পন্ন ও বালিগ] প্রত্যেক মুসলমানের জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজে আইন। মিরাজের রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মিরাজের আগে কেবল ফজর ও আসরের নামাজ ছিল।
৩. ইসলামের পাঁচ শর্তের তৃতীয়টি – সম্পদের যাকাত দেওয়া। “যাকাত” শব্দের আভিধানিক অর্থ পবিত্রতা, প্রশংসা এবং ভালো ও সুন্দর অবস্থায় উপনীত হওয়া। ইসলামে যাকাতের অর্থ: যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত এবং নিসাব নামের নির্দিষ্ট সীমা পরিমাণ যাকাতের মাল আছে, সে তার সম্পদের নির্দিষ্ট একটি অংশ আলাদা করে কোনো খোঁটা না দিয়ে পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত মুসলমানদের দেবে। চার মাজহাবেই চার রকম যাকাতের মাল আছে: সোনা ও রুপার যাকাত, ব্যবসায়ের মালের যাকাত, বছরের অর্ধেকের বেশি সময় চারণভূমিতে চরে বেড়ায় এমন চারপেয়ে গোশতের পশুর যাকাত এবং জমির ফসলের যাকাত। এই চতুর্থ যাকাতকে উশর বলা হয়। জমি থেকে ফসল তোলামাত্রই উশর দিতে হয়। বাকি তিন যাকাত সম্পদ নিসাব পরিমাণ হওয়ার এক বছর পর দিতে হয়।
৪. ইসলামের পাঁচ শর্তের চতুর্থটি – বরকতময় রমজান মাসে প্রতিদিন রোজা রাখা। রোজা রাখাকে সাওম বলা হয়। সাওমের আভিধানিক অর্থ কোনো কিছুকে কোনো কিছু থেকে রক্ষা করা। আর ইসলামে এর অর্থ, শর্তসমূহ মেনে রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন বলে প্রতিদিন নিজেকে তিনটি জিনিস থেকে বিরত রাখা। এই তিনটি জিনিস হলো খাওয়া, পান করা ও স্ত্রী-সহবাস (জিমা)।
৫. ইসলামের পাঁচ শর্তের পঞ্চমটি – যার সামর্থ্য আছে, তার জীবনে একবার হজ করা। যার পথ নিরাপদ ও শরীর সুস্থ, এবং মক্কা মুকাররমায় গিয়ে ফিরে আসা পর্যন্ত পেছনে রেখে যাওয়া পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণের অতিরিক্ত এতটা অর্থ আছে যে সে সেখানে গিয়ে ফিরে আসতে পারে – তার জন্য জীবনে একবার ইহরাম অবস্থায় কাবা মুআজ্জমার তাওয়াফ করা এবং আরাফাতের ময়দানে উকুফ (অবস্থান) করা ফরজ।
“পবিত্র কুরআনে বান্দাদের প্রয়োজনীয় সবকিছু জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অবিশ্বাসীদের আজাবের ভয় দেখানো হয়েছে, আর ইসলামের শর্তসমূহ পালনকারী মুমিনদের জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে” ইমাম রব্বানি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)
এসো, নামাজ আদায় করি, হৃদয়ের মরিচা মুছি,
আল্লাহর নৈকট্য মেলে না নামাজ আদায় না করলে!
যেখানে নামাজ পড়া হয়, সব গুনাহ ঝরে পড়ে,
মানুষ কামিল হতে পারে না নামাজ আদায় না করলে!
পবিত্র কুরআনে হক নামাজের প্রশংসা করেছেন বহু,
বলেছেন, “ভালোবাসি না তাকে নামাজ আদায় না করলে!”
এক হাদীস শরীফে আছে: ঈমানের যে নিদর্শন,
মানুষের মাঝে তা ফোটে না নামাজ আদায় না করলে!
এক ওয়াক্ত নামাজ ছাড়া কবিরা গুনাহর মধ্যে সবচেয়ে বড়,
তওবাতেও মাফ হয় না তার কাজা আদায় না করলে!
নামাজকে যে তুচ্ছ ভাবে, তখনই সে ঈমানহারা হয়,
মুসলমান হতে পারে না সে নামাজ আদায় না করলে!
নামাজ হৃদয়কে পবিত্র করে, মন্দ থেকে বিরত রাখে,
তুমি আলোকিত হতে পারবে না নামাজ আদায় না করলে!
