আহকামে ইসলামিয়্যা (আহকামে শারইয়্যা)
ইসলাম ধর্ম যেসব আদেশ ও নিষেধ জানিয়েছে, সেগুলোকে “আহকামে শারইয়্যা” অথবা “আহকামে ইসলামিয়্যা” বলা হয়। এগুলোকে “আফআলে মুকাল্লাফিন”ও বলা হয়ে থাকে।
মুকাল্লাফ কাকে বলে
যেসব পুরুষ ও নারী বুদ্ধিসম্পন্ন (আকিল) এবং বালিগ হওয়ার বয়সে পৌঁছেছে, তাদের “মুকাল্লাফ” বলা হয়। মুকাল্লাফ ব্যক্তিরা আল্লাহ তাআলার আদেশ ও নিষেধের জন্য দায়ী। আমাদের দ্বীনে মুকাল্লাফ ব্যক্তিকে প্রথমে ঈমান আনার এবং এরপর ইবাদত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিষিদ্ধ হারাম কাজ ও মাকরুহ কাজ থেকেও তাদের বেঁচে থাকা জরুরি। আকল (বুদ্ধি) হলো বোঝার এক শক্তি। উপকারীকে ক্ষতিকর থেকে আলাদা করে চেনার জন্য তা সৃষ্টি করা হয়েছে। বুলুগের বয়স মানে শরিয়তের দৃষ্টিতে বয়ঃপ্রাপ্তির বয়স। ছেলেদের বুলুগের বয়স শুরু হয় বারো বছর পূর্ণ হলে। ছেলে বালিগ হয়েছে কি না, তা বোঝার কিছু লক্ষণ আছে। এই লক্ষণগুলো দেখা না দিলে [যে ছেলের বীর্যপাত হয়নি], পূর্ণ পনেরো বছর বয়সে দ্বীনের দৃষ্টিতে সে বালিগ হয়েছে বলে হুকুম দেওয়া হয়। মেয়েদের বুলুগ শুরু হয় নয় বছর পূর্ণ হলে। নয় বছরের মেয়ের বালিগ হওয়ার লক্ষণগুলোর কোনোটিই দেখা না দিলে [যে মেয়ের হায়েজ হয়নি], পূর্ণ পনেরো বছর বয়সে সে বালিগ হয়েছে বলে হুকুম দেওয়া হয়।
আফআলে মুকাল্লাফিন
আফআলে মুকাল্লাফিন (মুকাল্লাফদের কাজ) আট প্রকার: ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, মুস্তাহাব, মুবাহ, হারাম, মাকরুহ ও মুফসিদ। ১. ফরজ: যেসব কাজ করার আদেশ আল্লাহ তাআলা পবিত্র আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্ট ও অকাট্যভাবে দিয়েছেন, সেগুলোকে ফরজ (অবশ্যকর্তব্য) বলা হয়। ফরজ ছেড়ে দেওয়া হারাম। যে ফরজকে বিশ্বাস করে না এবং তা পালন করাকে গুরুত্ব দেয় না, সে কাফির হয়ে যায়।
যেমন ঈমান আনা, অজু করা, গোসল করা (অর্থাৎ সমস্ত শরীর ধোয়া), পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, রমজান মাসে রোজা রাখা, ধনী হলে যাকাত দেওয়া এবং হজে যাওয়া…
২. ওয়াজিব: যেসব আদেশ পালন করা ফরজের মতোই অকাট্য, সেগুলোকে ওয়াজিব বলা হয়। যেমন বিতরের নামাজ ও ঈদের নামাজ আদায় করা, ধনী হলে কুরবানি করা, ফিতরা (সদকাতুল ফিতর) দেওয়া। ওয়াজিবের হুকুম ফরজের মতোই।
৩. সুন্নত: যেসব কাজের কথা আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে জানাননি, কেবল মহানবী তা করার প্রশংসা করেছেন, অথবা নিজে নিয়মিত তা করেছেন, অথবা কাউকে করতে দেখে নিষেধ করেননি, সেগুলোকে “সুন্নত” বলা হয়। সুন্নতকে অপছন্দ করা কুফর। যে তা পছন্দ করে অথচ পালন করে না, তার আজাব হবে না। কিন্তু যে বিনা ওজরে নিয়মিত তা ছেড়ে দেয়, সে তিরস্কার ও ভর্ৎসনার এবং এর সওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়ার উপযুক্ত হয়। যেমন আজান দেওয়া, ইকামত দেওয়া, জামাআতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা, নামাজের সুন্নতসমূহ, সুন্নত নামাজসমূহ, অজুর সময় মিসওয়াক ব্যবহার করা, বিয়ের রাতে মানুষকে খাওয়ানো এবং সন্তানের খতনা করানো। ৪. মুস্তাহাব: একে মানদুব ও আদাবও বলা হয়। এর হুকুম সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদার মতো। মহানবী জীবনে মাত্র এক-দুবার হলেও যেসব কাজ করেছেন এবং যা ভালোবেসেছেন ও পছন্দ করেছেন, সেগুলোই মুস্তাহাব। যেমন নবজাতকের সপ্তম দিনে নাম রাখা, ছেলে ও মেয়ের জন্য আকিকার পশু জবাই করা, সুন্দর পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা… যে এগুলো করে, তাকে অনেক সওয়াব দেওয়া হয়। যে করে না, তার আজাব হয় না।
৫. মুবাহ: যে কাজ করার আদেশও দেওয়া হয়নি, নিষেধও করা হয়নি, তাকে মুবাহ বলা হয়। ভালো নিয়তে করলে এতে সওয়াব আছে, মন্দ নিয়তে করলে আজাব আছে। ঘুমানো, হালাল উপায়ে নানা রকম খাবার খাওয়া, হালাল হওয়ার শর্তে নানা রকম পোশাক পরা – এ ধরনের কাজ মুবাহ। এগুলো যদি ইসলামের অনুসরণ ও আদেশসমূহ আঁকড়ে ধরার নিয়তে করা হয়, তবে সওয়াব হয়। সুস্থ থেকে ইবাদত করার নিয়তে খাওয়া-দাওয়া করাও এমনই।
“ইলম শিক্ষা করো! ইলম শিক্ষা করা ইবাদত। যে ইলম শেখায় এবং যে শেখে, উভয়ের জন্য জিহাদের সওয়াব রয়েছে” হাদীস শরীফ
৬. হারাম: আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে “এগুলো করো না” বলে যেসব কাজ স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন, সেগুলোই হারাম। হারাম কাজ করা ও হারাম বস্তু ব্যবহার করা অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ। যে হারামকে হালাল বলে এবং হালালকে হারাম বলে, তার ঈমান চলে যায়, সে কাফির হয়ে যায়। হারাম বিষয়গুলো ছেড়ে দেওয়া এবং সেগুলো থেকে বেঁচে থাকা ফরজ। মানুষ হত্যা করা, জিনা করা, সমকামিতা (লিওয়াতাত) করা, জুয়া খেলা, মদ ও সব ধরনের নেশাজাতীয় পানীয় পান করা, মিথ্যা বলা, চুরি করা, শূকরের গোশত, রক্ত ও মৃত প্রাণী খাওয়া এবং নারী ও মেয়েদের মাথা, বাহু ও পা খোলা রেখে রাস্তায় বের হওয়া হারাম এবং এগুলো কবিরা গুনাহ। কেউ যদি এসব গুনাহ করার সময় বিসমিল্লাহ পড়ে, অথবা এগুলোকে হালাল বলে বিশ্বাস করে, অথবা আল্লাহ তাআলা এগুলোকে হারাম করেছেন – এ কথার কোনো গুরুত্ব না দেয়, তবে সে কাফির হয়ে যায়। এগুলো যে হারাম, তা বিশ্বাস করে ভয়ে ভয়ে করলে সে কাফির হয় না। তবে সে জাহান্নামের আজাবের উপযুক্ত হয়। আর যদি সে এতে অটল থেকে তওবা ছাড়া মারা যায়, তবে তা তার ঈমানহারা অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার কারণ হয়। ৭. মাকরুহ: যেসব কাজ আল্লাহ তাআলা ও মুহাম্মদ আলাইহিস সালাম পছন্দ করেননি এবং যা ইবাদতের সওয়াব নষ্ট করে দেয়, সেগুলোকে মাকরুহ বলা হয়। মাকরুহ দুই প্রকার: মাকরুহে তাহরিমি: তা হলো ওয়াজিব ত্যাগ করা; হারামের কাছাকাছি মাকরুহগুলো এর অন্তর্ভুক্ত। এগুলো করলে আজাব অবধারিত হয়। যেমন সূর্য ওঠার সময়, ঠিক মাথার ওপর থাকার সময় এবং অস্ত যাওয়ার সময় নামাজ আদায় করা। মাকরুহে তানজিহি: তা হলো সেসব কাজ, যা মুবাহ অর্থাৎ হালাল কাজের কাছাকাছি, অথবা যা করার চেয়ে না করা উত্তম। যেমন সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা বা মুস্তাহাব কাজগুলো না করা।
৮. মুফসিদ: আমাদের দ্বীনে মুফসিদ হলো সেসব বিষয়, যা শরিয়তসম্মত (মাশরু) কোনো কাজ বা শুরু করা কোনো ইবাদত নষ্ট করে দেয়: যেমন ঈমান ও নামাজ, বিয়ে ও হজ, যাকাত এবং কেনাবেচা নষ্ট করা। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহকে ও কিতাবকে গালি দেওয়া কুফর, তা ঈমান নষ্ট করে। নামাজে হাসলে অজু ও নামাজ দুটোই নষ্ট হয়ে যায়। রোজা অবস্থায় জেনেশুনে খেলে বা পান করলে রোজা ভেঙে যায়। যে ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতগুলো পালন করে এবং হারাম ও মাকরুহ থেকে বেঁচে থাকে, তাকে প্রতিদান (আজর) অর্থাৎ সওয়াব দেওয়া হয়। যে হারাম ও মাকরুহ কাজ করে এবং ফরজ ও ওয়াজিব পালন করে না, তার জন্য গুনাহ লেখা হয়। একটি হারাম থেকে বেঁচে থাকার সওয়াব একটি ফরজ পালনের সওয়াবের চেয়ে বহু গুণ বেশি। একটি ফরজের সওয়াব একটি মাকরুহ থেকে বেঁচে থাকার সওয়াবের চেয়ে বেশি। আর মাকরুহ থেকে বেঁচে থাকার সওয়াব সুন্নতের সওয়াবের চেয়ে বেশি।
ইবাদত কী?
যিনি আমাদের ও সমস্ত সৃষ্টিকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন, প্রতি মুহূর্তে অস্তিত্বে টিকিয়ে রাখছেন, দৃশ্য-অদৃশ্য দুর্ঘটনা ও বিপদাপদ থেকে রক্ষা করছেন এবং প্রতি মুহূর্তে নানা নিয়ামত ও অনুগ্রহ দিয়ে লালন করছেন, সেই আল্লাহ তাআলার আদেশ ও নিষেধ পালন করাই ইবাদত। যিনি মানুষের প্রতি অগণিত নিয়ামত পাঠিয়েছেন, সাধ্যমতো সেই আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করা মানুষ হিসেবে তার কর্তব্য। এটি এমন এক কর্তব্য, এমন এক ঋণ, যার আদেশ বুদ্ধিই দেয়। কিন্তু মানুষ তার ত্রুটিপূর্ণ বুদ্ধি ও সংকীর্ণ দৃষ্টি দিয়ে আল্লাহ তাআলার প্রতি কোন কাজ শোকর ও সম্মান বলে গণ্য হতে পারে, তা নিজে খুঁজে বের করতে পারে না। শোকর আদায় ও সম্মান প্রদর্শনের উপযোগী কর্তব্যগুলো আল্লাহ তাআলা নিজে না জানালে, মানুষ যাকে প্রশংসা মনে করে, তা নিন্দাও হয়ে যেতে পারে।
এ কারণেই আল্লাহ তাআলার প্রতি মানুষের যে শোকরের ঋণ ও দাসত্বের কর্তব্য অন্তর, জিহ্বা ও দেহ দিয়ে পালন করা এবং বিশ্বাস করা জরুরি, সেগুলো আল্লাহ তাআলা নিজে জানিয়েছেন এবং তাঁর প্রিয় নবী তা আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। অতএব বুদ্ধিমান মানুষের জন্য আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় ও তাঁর ইবাদত করতে মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের অনুসরণ করা জরুরি। যে মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের অনুসরণ করে, সে-ই মুসলমান। আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করা, অর্থাৎ মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের অনুসরণ করাকেই “ইবাদত করা” বলা হয়।
ইসলামের অংশসমূহ
ইসলাম দুই অংশে বিভক্ত: ক. যেসব শর্ত অন্তর দিয়ে বিশ্বাস (ইতিকাদ) করা জরুরি। খ. দেহ ও অন্তর দিয়ে যেসব ইবাদত পালন করতে হয়।
যেসব শর্ত অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করা জরুরি
ঈমান হলো – রাসূলে আকরাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে আল্লাহ তাআলার নবী এবং তাঁর মনোনীত, সংবাদদাতা নবী, তা সত্য বলে জানা ও বিশ্বাস করে মুখে বলা; আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তিনি যা সংক্ষেপে জানিয়েছেন তা সংক্ষেপে, যা বিস্তারিত জানিয়েছেন তা বিস্তারিতভাবে বিশ্বাস করা এবং সাধ্যমতো কালিমায়ে শাহাদাত মুখেও উচ্চারণ করা। মজবুত ঈমান এমন: আগুন যে পোড়ায় এবং সাপ যে বিষ ঢেলে মেরে ফেলে – মানুষ যেমন এ কথা দৃঢ়ভাবে (ইয়াকিনের সঙ্গে) বিশ্বাস করে, তেমনি অন্তর দিয়ে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহ তাআলাকে ও তাঁর গুণাবলিকে মহান জেনে তাঁর সন্তুষ্টি (রিজা) ও জামালের দিকে ছুটে যাওয়া, তাঁর ক্রোধ (গজব) ও জালাল থেকে পালানো এবং মার্বেল পাথরে খোদাই করা লেখার মতো ঈমানকে মজবুতভাবে অন্তরে বসিয়ে নেওয়া।
ঈমানের ছয়টি শর্ত আছে, যা আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে।
সেগুলো হলো:
১. আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব ও একত্বে বিশ্বাস করা। ২. তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস করা।
৩. তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস করা। ৪. তাঁর নবীগণের প্রতি বিশ্বাস করা। ৫. আখিরাত দিবসে বিশ্বাস করা। ৬. তাকদিরে, অর্থাৎ খায়র ও শার (ভালো ও মন্দ) আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হয় – এ কথায় বিশ্বাস করা।
দেহ ও অন্তর দিয়ে যেসব ইবাদত পালন করতে হয়
প্রত্যেক মুসলমানের এমন কিছু কর্তব্য আছে, যা তাকে অবশ্যই ইবাদত হিসেবে পালন করতে হবে। এই কর্তব্যগুলোকে ইসলামের শর্ত (রুকন) বলা হয়, আর সেগুলো পাঁচটি: ১. কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করা।
২. প্রতিদিন পাঁচবার, ওয়াক্ত হলে নামাজ আদায় করা। ৩. সম্পদের যাকাত দেওয়া। ৪. রমজান মাসে প্রতিদিন রোজা রাখা।
৫. যার সামর্থ্য আছে, তার জীবনে একবার হজ করা।
“জেনে বুঝে করা অল্প ইবাদত না জেনে করা অনেক ইবাদতের চেয়ে উত্তম” হাদীস শরীফ
তোমায় ভালোবাসে যারা প্রেমিকজন,
অন্য দিকে চায় না কভু তাদের নয়ন,
তোমাকেই যারা করেছে জীবনের লক্ষ্য,
দুনিয়া-আখিরাত মনে আনে না তারা কখন।
তোমার হাতে যারা সঁপে দিয়েছে প্রাণমন,
জ্ঞানের পথে যারা পেয়েছে তোমার দর্শন,
যাদের চোখ তোমায় দেখেছে প্রতিক্ষণ,
তাদের সৌভাগ্য নিভে যায় না কখন।
প্রেমিকের প্রাণ কভু মরে না জেনো,
তার দেহ কখনো পচে না জেনো,
প্রেম যাকে নিজের মাঝে বিলীন করেছে,
তার কোনো ক্ষয় আসে না জেনো।
তোমার আদেশে যারা নোয়ায় শির,
তোমার মিলনে যারা পেয়েছে নীড়,
বুলবুলের মতো গায় যারা গান,
তাদের ভাষা বোঝে না কেউ এই পৃথিবীর।
তোমার প্রেমের সাথে যাদের পরিচয়,
তোমারই জন্য যাদের ভালোবাসা হয়,
তোমার নির্জন সান্নিধ্যে যারা পৌঁছায়,
মৃত্যুকে তারা কভু করে না ভয়।
বুদ্ধি যদি থাকে, ওহে আমার ভাই,
হককে ভালোবাসাই হোক তোমার কাজ সদাই,
প্রেমের স্বাদ যে কখনো পায়নি হায়,
তার হৃদয় নির্মল হয় না কভু তাই।
