মহানবীর আহলে বাইত
আমাদের প্রিয় নবীর পরিবারের সকল সদস্যকে আহলে বাইত বলা হয়। তাঁর বরকতময় স্ত্রীগণ, তাঁর কন্যা হযরত ফাতিমা ও হযরত আলি, তাঁদের বরকতময় সন্তান হযরত হাসান ও হযরত হুসাইন এবং তাঁদের সকল সন্তান ও নাতি-নাতনি, এ ছাড়া আমাদের নবীর পবিত্র বংশ যাঁদের সঙ্গে যুক্ত সেই বনু হাশিম – সকলেই আহলে বাইত। রাসূলুল্লাহর আহলে বাইত তিন প্রকার: প্রথম প্রকার – বংশ ও রক্তের সম্পর্কে আত্মীয়গণ; তাঁর ফুফুরাও এর অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় প্রকার – তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণ। তৃতীয় প্রকার – সেই খাদেমা নারীরা, যাঁরা তাঁর স্ত্রীদের চুল আঁচড়ে দেওয়া, খাবার রান্না করা, ঘর ঝাড়ু দেওয়া, কাপড় ধোয়া ও ঘরের কাজকর্ম করার জন্য সবসময় তাঁদের ঘরে থাকতেন। বাইরের কাজ যাঁরা করতেন এবং মসজিদে আজান দিতেন, সেই বিলাল, সালমান ও সুহাইবও সৌভাগ্যের ঘর (হানায়ে সাআদাত) থেকে খাওয়াদাওয়া করতেন। একদিন রাসূলুল্লাহ চাচা আব্বাসের ঘরে গিয়ে তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের নিজের কাছে বসালেন, নিজের ইহরামের চাদর দিয়ে তাঁদের ঢেকে দিয়ে বললেন, “হে আল্লাহ! ইনি আমার চাচা, আমার পিতার ভাই। আর এরা আমার আহলে বাইত। আমি যেমন আমার এই চাদর দিয়ে তাঁদের ঢেকে দিয়েছি, তুমিও তেমনি তাঁদের ঢেকে নাও, জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো!”
মহানবীর বিবাহের কারণসমূহ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথম বিবাহ করেন পঁচিশ বছর বয়সে, হযরত খাদিজাকে (রাদিয়াল্লাহু আনহা)। হযরত খাদিজার বয়স তখন চল্লিশ এবং তিনি ছিলেন বিধবা। কিন্তু তাঁর ধনসম্পদ, সৌন্দর্য, বুদ্ধি, জ্ঞান, মর্যাদা, বংশগৌরব, সতীত্ব ও শিষ্টাচার ছিল অসাধারণ। তাঁরা পঁচিশ বছর একসঙ্গে জীবন কাটান। হযরত খাদিজা জীবিত থাকা অবস্থায় রাসূলে আকরাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আর কোনো বিবাহ করেননি।
আমাদের মা হযরত খাদিজার (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ইন্তেকালের পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দ্বিতীয়বার, পঞ্চান্ন বছর বয়সে, হযরত আবু বকরের কন্যা আমাদের মা হযরত আয়েশাকে (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বিবাহ করেন। আল্লাহ তাআলার আদেশে তিনি এই বিবাহ করেছিলেন। আখিরাতে পাড়ি জমানো পর্যন্ত তিনি আট বছর তাঁর সঙ্গে জীবন কাটান। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, প্রখর মেধাবী, আলেমা, সাহিত্যিকা, সতী ও সালিহা (নেককার)। তাঁর স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর ছিল বলে সাহাবায়ে কেরাম বহু বিষয় তাঁর কাছে জিজ্ঞেস করে জেনে নিতেন।
তাঁর অন্য বিবাহগুলো সবই হয়েছিল দ্বীনি বা রাজনৈতিক কারণে, অথবা দয়া ও অনুগ্রহের উদ্দেশ্যে। সেই স্ত্রীদের সকলেই ছিলেন বিধবা, অধিকাংশই ছিলেন বয়স্কা। যেমন, মক্কার কাফিরদের অত্যাচার ও নির্যাতন যখন মুসলমানদের জন্য অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাল, তখন সাহাবায়ে কেরামের একাংশ হাবশায় হিজরত করলেন। হাবশার বাদশাহ নাজাশি ছিলেন খ্রিস্টান। তিনি মুসলমানদের কাছে নানা বিষয় জিজ্ঞেস করে যে পরিপূর্ণ উত্তর পেলেন, তাতে মুগ্ধ হয়ে ঈমান আনলেন। তিনি মুসলমানদের প্রতি অনেক সদাচরণ করলেন। অথচ ঈমান এনেছে বলে যাকে মনে হয়েছিল, সেই উবাইদুল্লাহ ইবনে জাহশ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পাদরিদের ধোঁকায় পড়ে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল, দুনিয়ার বিনিময়ে নিজের দ্বীন বিক্রি করে দিয়েছিল।1 মহানবীর ফুফাতো ভাই এই অভিশপ্ত লোকটি তার স্ত্রী উম্মে হাবিবাকেও দ্বীন ত্যাগ করে ধনী হতে জোর করল ও প্ররোচনা দিল। কিন্তু তিনি বললেন, তিনি দারিদ্র্য ও মৃত্যু মেনে নিতে রাজি, তবু মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের দ্বীন ত্যাগ করবেন না। তখন সে তাঁকে তালাক দিল। সে অপেক্ষা করছিল, তিনি অভাব-অনটনে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবেন। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যে সে নিজেই মারা গেল। উম্মে হাবিবা ছিলেন মক্কার কুরাইশদের তৎকালীন প্রধান সেনাপতি আবু সুফিয়ানের কন্যা। মহানবী সে সময় কুরাইশ বাহিনীর সঙ্গে কঠিন কঠিন যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন, আর আবু সুফিয়ান ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য তার শেষ শক্তি দিয়ে লড়ছিল। রাসূলুল্লাহ আমাদের মা উম্মে হাবিবার (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ঈমানের দৃঢ়তা এবং তাঁর ওপর নেমে আসা অত্যন্ত বেদনাদায়ক অবস্থার কথা শুনলেন। তিনি নাজাশিকে চিঠি লিখে অনুরোধ জানালেন, “সেখানে অবস্থানরত উম্মে হাবিবাকে আমি বিবাহ করব। আমার বিবাহ সম্পন্ন করো! তারপর তাকে এখানে পাঠিয়ে দাও।” নাজাশি এর আগেই মুসলমান হয়েছিলেন। তিনি চিঠিটিকে গভীর সম্মান দেখালেন, সেখানকার মুসলমানদের নিজের প্রাসাদে দাওয়াত দিয়ে ভোজের আয়োজন করলেন। হিজরতের সপ্তম বছরে বিবাহ সম্পন্ন হলো, আর নাজাশি বহু উপহার ও দান দিলেন। এভাবে উম্মে হাবিবা নিজের ঈমানের পুরস্কার পেয়ে সেখানে সচ্ছল ও স্বস্তিময় জীবন লাভ করলেন। তাঁর উসিলায় অন্য মুসলমানরাও স্বস্তি পেলেন। জান্নাতে নারীরা তাঁদের স্বামীদের সঙ্গে থাকবেন বলে তিনি জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদার সুসংবাদ লাভ করলেন; আর এই সুসংবাদের সামনে দুনিয়ার সকল ভোগ ও নিয়ামত অতি তুচ্ছ। এই বিবাহ ছিল সেসব কারণের একটি, যা আবু সুফিয়ানের পরবর্তীকালে মুসলমান হওয়ার মর্যাদা লাভের পথ প্রস্তুত করেছিল। দেখা যাচ্ছে, এই বিবাহ রাসূলুল্লাহর বুদ্ধি, প্রজ্ঞা, প্রতিভা, অনুগ্রহ ও দয়ার মাত্রাও প্রকাশ করে।2
দ্বিতীয় উদাহরণ: হযরত উমরের কন্যা আমাদের মা হযরত হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বিধবা হয়েছিলেন। হিজরতের তৃতীয় বছরে হযরত উমর হযরত আবু বকর ও হযরত উসমানকে বললেন, “আমার মেয়েকে বিবাহ করবে কি?” প্রত্যেকেই বলেছিলেন, “ভেবে দেখি।” একদিন তাঁরা তিনজন এবং আরও অনেকে মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে ছিলেন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “হে উমর! তোমাকে বিষণ্ন দেখছি, কারণ কী?” শিশির ভেতরের কালির রং যেমন সহজেই দেখা যায়, মহানবীও তেমনি এক নজরেই প্রত্যেকের মনের ভাবনা বুঝে ফেলতেন। প্রয়োজন মনে করলে জিজ্ঞেস করতেন। মহানবীকে, এমনকি সবাইকে সত্য বলা ফরজ বলে হযরত উমরও সত্যটা খুলে বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মেয়েকে আবু বকর ও উসমানের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, তাঁরা গ্রহণ করেননি।” রাসূলুল্লাহ তাঁর সবচেয়ে প্রিয় এই তিন সাহাবীর মনঃকষ্ট একটুও চাইতেন না বলে তাঁদের খুশি করার জন্য তৎক্ষণাৎ বললেন, “হে উমর! আবু বকর ও উসমানের চেয়েও উত্তম কোনো ব্যক্তির সঙ্গে তোমার মেয়েকে বিবাহ দিই – এটা কি তুমি চাও?” হযরত উমর বিস্মিত হলেন, কেননা তিনি জানতেন, হযরত আবু বকর ও হযরত উসমানের চেয়ে উত্তম কেউ নেই। তিনি বললেন, “হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ!” রাসূলুল্লাহ বললেন, “হে উমর, তোমার মেয়েকে আমার সঙ্গে বিবাহ দাও!” এভাবে হযরত হাফসা হযরত আবু বকর, হযরত উসমান ও সকল মুমিনের মা হলেন, আর তাঁরা তাঁর সেবক হলেন; ফলে হযরত আবু বকর, হযরত উমর ও হযরত উসমান পরস্পরের আরও ঘনিষ্ঠ ও আরও প্রিয় হয়ে উঠলেন।3
তৃতীয় উদাহরণ: হিজরতের পঞ্চম বা ষষ্ঠ বছরে বনু মুস্তালিক গোত্র থেকে বন্দি করা শত শত মানুষের মধ্যে ছিলেন গোত্রপ্রধান হারিসের কন্যা জুওয়াইরিয়া। রাসূলুল্লাহ তাঁকে কিনে নিয়ে মুক্ত করে দিলেন এবং তাঁকে বিবাহ করলেন। তখন সাহাবায়ে কেরাম (আলাইহিমুর রিদওয়ান) সকলেই বললেন, “মহানবীর পরিবারের, আমাদের মায়ের আত্মীয়স্বজনকে দাসী ও সেবক হিসেবে খাটাতে আমাদের লজ্জা হয়।” তাঁরা সকলেই নিজ নিজ বন্দিদের মুক্ত করে দিলেন। এই বিবাহ শত শত বন্দির মুক্তির উপলক্ষ হলো। আমাদের মা হযরত জুওয়াইরিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সবসময় এ ঘটনা বলে গৌরব বোধ করতেন। হযরত আয়েশা বলতেন, “জুওয়াইরিয়ার চেয়ে কল্যাণময়, তাঁর চেয়ে বরকতময় কোনো নারী আমি দেখিনি।”4 এক হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “আমার সকল স্ত্রীর সঙ্গে আমার বিবাহ এবং আমার কন্যাদের বিবাহ দেওয়া – সবই হয়েছে জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে যে অনুমতি নিয়ে এসেছেন, সেই অনুমতিতে।”
মহানবীর বহু বিবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল ইসলাম ধর্মের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। হিজাবের আয়াত নাজিল হওয়ার আগে, অর্থাৎ নারীদের পর্দা করার আদেশ দেওয়ার আগে নারীরাও রাসূলুল্লাহর কাছে এসে যা জানতেন না, তা জিজ্ঞেস করে শিখে নিতেন। রাসূলুল্লাহ কারও ঘরে গেলে নারীরাও এসে বসতেন, শুনতেন, উপকৃত হতেন। হিজাবের আয়াত নাজিল হয়ে যখন পরপুরুষের সঙ্গে নারীদের বসা ও কথা বলা নিষিদ্ধ হলো, তখন তিনি আর পরনারীদের সাক্ষাৎ দিতেন না। তিনি তাঁদের আদেশ দিলেন, যা তাঁরা জানেন না, তা যেন তাঁর বরকতময় স্ত্রী হযরত আয়েশার কাছে জিজ্ঞেস করে শিখে নেন। প্রশ্ন করতে আসা নারীর সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, হযরত আয়েশা সকলের উত্তর দেওয়ার সময় পেতেন না। এই গুরুত্বপূর্ণ খেদমত সহজ করতে এবং আমাদের মা আয়েশার বোঝা হালকা করতে তিনি প্রয়োজনমতো সংখ্যক নারীকে বিবাহ করলেন। নারীদের সঙ্গে সম্পর্কিত শত শত সূক্ষ্ম জ্ঞান তিনি তাঁর বরকতময় স্ত্রীদের মাধ্যমে মুসলমান নারীদের কাছে পৌঁছে দিলেন। তাঁর একজন মাত্র স্ত্রী থাকলে সকল নারীর পক্ষে তাঁর কাছে জিজ্ঞেস করা কঠিন, এমনকি অসম্ভব হতো। আল্লাহ তাআলার দ্বীন পরিপূর্ণভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি বহু বিবাহের বোঝাও নিজের কাঁধে তুলে নিলেন।
মহানবীর বরকতময় স্ত্রীগণ
খাদিজাতুল কুবরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা): তিনি কুরাইশের অভিজাত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে। তিনি খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আবদুল উজ্জা ইবনে কুসাইয়ের কন্যা। তিনি রাসূলুল্লাহর প্রথম স্ত্রী। তাঁর পিতা খুওয়াইলিদ, মাতা ফাতিমা। চল্লিশ বছর বয়সে, বিধবা অবস্থায় তিনি রাসূলুল্লাহকে বিবাহ করেন। রাসূলুল্লাহর বয়স তখন পঁচিশ বছর। তাঁর গর্ভে রাসূলুল্লাহর চার কন্যা ও দুই পুত্র জন্মগ্রহণ করেন। বিধবা অবস্থায় তিনি ব্যবসা করতেন। তাঁর কর্মচারী, হিসাবরক্ষক ও গোলাম ছিল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধনী, জ্ঞানী ও বুদ্ধিমতী। তিনিই প্রথম ঈমান আনয়নকারী স্বাধীন নারী। জিবরাইল আলাইহিস সালাম যখন প্রথম রাসূলুল্লাহর সামনে প্রকাশিত হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ ভয় পেলেন এবং এ অবস্থার কথা খাদিজাকে বললেন। সবার আগে খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ঈমান আনলেন। কাফিররা মূর্তির পূজা করত, রাসূলুল্লাহকে বিশ্বাস করত না, তাঁকে উপহাস করত। তারা তাঁকে অনেক কষ্ট দিত। খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) রাসূলুল্লাহকে সান্ত্বনা দিতেন, তাঁর মনে সাহস জোগাতেন। তিনি তাঁর সকল ধনসম্পদ তাঁর পথে উৎসর্গ করলেন। পঁচিশ বছর ধরে তিনি বিশ্বস্ততার সঙ্গে রাসূলুল্লাহর সেবা করেছেন। একবারও তাঁর মনে কষ্ট দেননি।
তিনি হিজরতের তিন বছর আগে, আবু তালিবের ইন্তেকালের তিন দিন পর, পঁয়ষট্টি বছর বয়সে মক্কা মুকাররমায় ইন্তেকাল করেন।
রাসূলুল্লাহ আজীবন সবসময় তাঁর প্রশংসা করতেন। এমনকি একদিন ঘরে তাঁর প্রশংসা করার সময় আমাদের মা আয়েশা আর সইতে না পেরে বললেন, “মহান আল্লাহ আপনাকে তাঁর চেয়েও উত্তম কাউকে দান করেছেন।” তখন তিনি বললেন, “না! তার চেয়ে উত্তম কাউকে দেওয়া হয়নি। সবাই যখন আমাকে মিথ্যাবাদী বলত, তখন সে আমাকে বিশ্বাস করেছে। সবাই যখন আমাকে কষ্ট দিত, তখন সে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। সে আমার দুঃখ দূর করেছে।”
হযরত খাদিজা ও তাঁর কন্যা ফাতিমাতুজ জাহরা সেই চার নারীর দুজন, যাঁদের সম্পর্কে এক হাদীস শরীফে জানানো হয়েছে যে, তাঁরা দুনিয়ার সকল নারীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তৃতীয়জন ফিরআউনের স্ত্রী হযরত আসিয়া, চতুর্থজন হযরত মারইয়াম (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুন্না)।
“আমার সকল স্ত্রীর সঙ্গে আমার বিবাহ এবং আমার কন্যাদের বিবাহ দেওয়া – সবই হয়েছে জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে যে অনুমতি নিয়ে এসেছেন, সেই অনুমতিতে” হাদীস শরীফ
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা): তিনি রাসূলুল্লাহর দ্বিতীয় পবিত্র স্ত্রী। তিনি আবু বকর সিদ্দিকের কন্যা। তাঁর মাতা উম্মে রুমান। তিনি হিজরতের আট বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর কোনো সন্তান হয়নি। খাদিজাতুল কুবরার ইন্তেকালের এক বছর পর এবং হিজরতের দুই বছর আগে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়। তিন বছর পর মদিনায় তিনি হুজরায়ে সাআদাতে (সৌভাগ্যের কক্ষে) আসার মর্যাদা লাভ করেন। তাঁর বুদ্ধি, প্রজ্ঞা, সতীত্ব ও তাকওয়া ছিল বিস্ময়কর মাত্রায়। রাসূলুল্লাহ তাঁকে খুব ভালোবাসতেন এবং তাঁর অনেক প্রশংসা করতেন। তাঁর বিবাহ হয়েছিল আল্লাহ তাআলার আদেশে। পবিত্র আয়াতে তাঁর প্রশংসা করা হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম নিজেদের জটিল সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁর শরণাপন্ন হতেন। রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স ছিল আঠারো বছর। তাঁর ইজতিহাদ হযরত আলির ইজতিহাদের সঙ্গে না মেলায় উটের যুদ্ধে (জামাল) তিনি সেই সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে ছিলেন, যাঁরা হযরত আলির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। হযরত আলি শহিদ হলে তিনি গভীরভাবে শোকাহত হন। হুরুফিরা তাঁর বিরুদ্ধে অনেক অপবাদ দেয়। তারা বলে, তিনি হযরত আলিকে ভালোবাসতেন না। অথচ “আলিকে ভালোবাসা ঈমানের অংশ” – এই হাদীস শরীফটি হযরত আয়েশাই বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি হযরত আলিকে ভালোবাসতেন এবং সকলেরই তাঁকে ভালোবাসা আবশ্যক। তিনি হিজরতের সাতান্নতম বছরে, পঁয়ষট্টি বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর কবর বাকি কবরস্থানে।
সাওদা বিনতে জামআ (রাদিয়াল্লাহু আনহা): তিনি রাসূলুল্লাহর তৃতীয় স্ত্রী। তিনি স্বামীর সঙ্গে ঈমান এনে হাবশায় হিজরত করেছিলেন। মক্কায় ফিরে আসার পর তাঁর স্বামী ইন্তেকাল করেন। রাসূলুল্লাহ প্রথমে হযরত আয়েশাকে, তারপর সাওদাকে বিবাহ করেন। সাওদাকে তিনি মক্কায় এবং হযরত আয়েশাকে মদিনায় নিজের ঘরে তুলে নেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দয়াশীলা ও সতী এক মহীয়সী নারী। হযরত উমরের যুগে তিনি ইন্তেকাল করেন।5
হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা): তিনি হযরত উমরের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কন্যা। তাঁর প্রথম স্বামী ছিলেন খুনাইস। তাঁরা একসঙ্গে হাবশায় ও মদিনায় হিজরত করেন। অল্প বয়সে বিধবা হলে তাঁর পিতা হযরত আবু বকরের কাছে, তারপর উসমানের কাছে তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। দুজনেই অপারগতা প্রকাশ করেন। হযরত উমর ব্যথিত হন। হিজরতের তৃতীয় বছরে হাফসা রাসূলুল্লাহর সঙ্গে বিবাহের মর্যাদা লাভ করেন। কিছুদিন পর রাসূলুল্লাহ হাফসাকে তালাক দেন। তারপর জিবরাইল আলাইহিস সালামের ইঙ্গিতে আবার তাঁকে বিবাহ করেন। তিনি অনেক রোজা রাখতেন, অনেক নামাজ পড়তেন। তিনি হিজরতের ৪১তম বছরে, ষাট বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
জয়নব বিনতে খুজাইমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা): তিনি অনেক ইবাদত করতেন, অনেক সদকা করতেন। আগে তিনি আবদুল্লাহ ইবনে জাহশের স্ত্রী ছিলেন। আবদুল্লাহ ছিলেন রাসূলুল্লাহর ফুফু উমাইমার পুত্র। তিনি উহুদের যুদ্ধে শহিদ হন। জয়নব রাসূলুল্লাহর সঙ্গে বিবাহের মর্যাদা লাভ করলেও আট মাস পর ইন্তেকাল করেন।6
উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা): তাঁর নাম ছিল হিন্দ। তিনি স্বামী আবু সালামার সঙ্গে প্রথম দলের মধ্যে হাবশায় হিজরত করেন। আবু সালামা ছিলেন রাসূলুল্লাহর ফুফু বাররার পুত্র উবাইদুল্লাহ ইবনে জাহশের ভাই; তিনি মদিনায়, হিজরতের চতুর্থ বছরে, উহুদের যুদ্ধে পাওয়া আঘাতে ইন্তেকাল করেন। উম্মে সালামা আবু বকর ও উমরের বিবাহের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। তিনি রাসূলুল্লাহর সঙ্গে বিবাহের মর্যাদা লাভ করেন। তিনি ঊনষাটতম বছরে মদিনায় চুরাশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। মহানবীর স্ত্রীগণের মধ্যে সবার শেষে তিনিই ইন্তেকাল করেন।7
“না! তার (খাদিজার) চেয়ে উত্তম কাউকে দেওয়া হয়নি। সবাই যখন আমাকে মিথ্যাবাদী বলত, তখন সে আমাকে বিশ্বাস করেছে। সবাই যখন আমাকে কষ্ট দিত, তখন সে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। সে আমার দুঃখ দূর করেছে” হাদীস শরীফ
জুওয়াইরিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহা): তিনি ছিলেন বনু মুস্তালিক গোত্রের প্রধান হারিসের কন্যা। হিজরতের পঞ্চম বছরে সংঘটিত মুরাইসি গাজওয়ায় তাঁকে বন্দি করা হয়েছিল। তাঁর স্বামী ছিল তাঁর চাচাতো ভাই; সে যুদ্ধে নিহত হয়। তাঁর বয়স ছিল বিশ বছর এবং তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী। এক বর্ণনায় আছে, জুওয়াইরিয়াকে বিক্রির জন্য তোলা হলে তাঁর পিতা তাঁকে কিনে নেওয়ার জন্য একপাল উট নিয়ে মদিনায় এল। সবচেয়ে ভালো দুটি উট দিতে তার মন চাইল না, তাই সেগুলো শহরের বাইরে লুকিয়ে রাখল। রাসূল আলাইহিস সালাম বললেন, “অমুক জায়গায় যে দুটি উট লুকিয়ে রেখেছ, সেগুলোও নিয়ে এসো।” হারিস বিস্মিত হয়ে তাঁর দুই পুত্র ও আরও বহু লোকের সঙ্গে ঈমান আনলেন। রাসূল আলাইহিস সালাম উটগুলো নিয়ে তাঁর কন্যাকে ফিরিয়ে দিলেন। কন্যাও ঈমান আনলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুওয়াইরিয়াকে তাঁর পিতার কাছে চেয়ে নিয়ে বিবাহ করলেন। তিনি হিজরতের ছাপ্পান্নতম বছরে ইন্তেকাল করেন।
জয়নব বিনতে জাহশ (রাদিয়াল্লাহু আনহা): তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহর ফুফু উমাইমার কন্যা, আবদুল্লাহ ইবনে জাহশের বোন। তাঁর পিতার নাম ছিল বুররা। সে ঈমান আনেনি বলে তাকে জাহশ বলা হতো। জয়নব প্রথম দিকের ঈমান আনয়নকারীদের অন্যতম।
মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমে তাঁকে তাঁর পালকপুত্র জায়েদ ইবনে হারিসার সঙ্গে বিবাহ দেন। জায়েদ জয়নবের হক রক্ষা করতে পারেননি বলে হিজরতের তৃতীয় বছরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। রাসূল আলাইহিস সালাম তাঁকে বিবাহ করতে চাইলেন। জয়নব এ কথা শুনে আনন্দে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে দোয়া করলেন, “হে আল্লাহ! তোমার রাসূল আমাকে চাইছেন। তুমি যদি আমার জন্য তাঁর স্ত্রী হওয়ার মর্যাদা নির্ধারণ করে থাকো, তাহলে তুমিই আমাকে তাঁর হাতে তুলে দাও।” তাঁর দোয়া কবুল হলো, আর সূরা আহজাবের সাঁইত্রিশতম আয়াত নাজিল হলো, যার মর্মার্থ: “জায়েদ যখন তার ব্যাপারে নিজের ইচ্ছা পূর্ণ করল (অর্থাৎ জয়নবকে তালাক দিল), তখন আমি তাকে তোমার স্ত্রী করে দিলাম।” জয়নবের বিবাহ আল্লাহ তাআলা নিজেই সম্পন্ন করেছেন বলে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলাদা করে বিবাহ পড়াননি। জয়নব (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এ নিয়ে সবসময় গৌরব করতেন এবং বলতেন, “প্রত্যেক নারীকে তার পিতা বিবাহ দেন। আর আমার বিবাহ সম্পন্ন করেছেন আল্লাহ তাআলা।” তখন তাঁর বয়স ছিল আটত্রিশ বছর। তিনি হিজরতের বিশতম বছরে, তিপ্পান্ন বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।8 তাঁর দানশীলতা ও সদাচরণ ছিল অপরিসীম, সদকা করতে তিনি খুব ভালোবাসতেন। হাতের কাজেও তিনি দক্ষ ছিলেন। নিজের হাতে বানানো জিনিস এবং হাতে আসা সবকিছু তিনি আত্মীয়স্বজন ও গরিবদের দিয়ে দিতেন। খলিফা উমর মহানবীর পবিত্র স্ত্রীগণের প্রত্যেককে বারো হাজার দিরহাম দিতেন। জয়নব বিনতে জাহশ তা হাতে পাওয়ামাত্র সবটুকু সদকা করে বিলিয়ে দিতেন। হযরত আয়েশা এজন্য তাঁর অনেক প্রশংসা করেছেন। “আমার স্ত্রীদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে প্রশস্ত, সে-ই সবার আগে আমার সঙ্গে মিলিত হবে”9 – এই হাদীস শরীফ জানিয়ে দিয়েছিল যে, তিনিই সবার আগে ইন্তেকাল করবেন, কেননা সবচেয়ে বেশি সদকা তিনিই করতেন।
অভদ্র ও অপবাদকারী ফরাসি কবি ভলতেয়ার রাসূলুল্লাহর হযরত জয়নবকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার বিষয় নিয়ে পদ্যে একটি নাটক লিখেছিল। তা ছিল ইতিহাস, ঘটনাবলি ও বর্ণনার সম্পূর্ণ বিপরীত, মনগড়া ও জঘন্য অপবাদে ভরা। সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদের পক্ষে বেমানান তার এই কুৎসিত, ঘৃণ্য রচনা তার সেই বড় শত্রু পোপের মনঃপূত হয়েছিল, যে তাকে গির্জা থেকে বহিষ্কার করেছিল; আর পোপ তাকে তোষামোদ করে চিঠি লিখেছিল। মুসলমানদের খলিফা সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ খান যখন শুনলেন যে, এই নাটক মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে, তখন তিনি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের সরকারকে চরমপত্র দিয়ে তৎক্ষণাৎ তা বন্ধ করে দিলেন এবং গোটা মানবজাতিকে লজ্জাজনক নীচতা থেকে রক্ষা করলেন।
হযরত সাফিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহা): তিনি ছিলেন খায়বারের ইহুদিদের নেতা হুয়াই ইবনে আখতাবের কন্যা। খায়বারে এক ইহুদির সঙ্গে তাঁর বাগদান হয়েছিল। পরে তিনি অত্যন্ত ধনী কিনানা ইবনে হাকিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। হিজরতের সপ্তম বছরে খায়বার বিজয়ের সময় সাফিয়াও বন্দি হন। তিনি রাসূলুল্লাহর ভাগে পড়েন এবং রাসূলুল্লাহ তাঁকে মুক্ত করে দেন। তিনি ঈমান আনেন এবং রাসূলুল্লাহর সঙ্গে বিবাহের মর্যাদা লাভ করেন। তিনি হিজরতের পঞ্চাশতম বছরে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।10
উম্মে হাবিবা (রাদিয়াল্লাহু আনহা): তিনি ছিলেন আবু সুফিয়ান ইবনে হারব ইবনে উমাইয়ার কন্যা এবং হযরত মুআবিয়ার বোন। তাঁর মায়ের নাম ছিল হিন্দ। তিনি ও তাঁর স্বামী উবাইদুল্লাহ ইবনে জাহশ একসঙ্গে মুসলমান হয়ে হাবশায় হিজরত করেন। তাঁর কন্যা হাবিবা হাবশায় জন্মগ্রহণ করায় তিনি উম্মে হাবিবা (হাবিবার মা) কুনিয়াতে প্রসিদ্ধ হন। তাঁর স্বামী সেখানে পাদরিদের ধোঁকায় পড়ে মুরতাদ হয়ে যায় এবং মারা যায়। তিনি পরদেশে একা, নিঃসঙ্গ ও দরিদ্র হয়ে পড়েন। তিনি বললেন, “আমি রাসূলুল্লাহর দ্বীন ছাড়ব না।” রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মন খুশি করার জন্য তাঁকে বিবাহ করতে চাইলেন। হিজরতের সপ্তম বছরে তিনি নাজাশির কাছে চিঠি লিখলেন। নাজাশি নবীর এই আদেশ অনুযায়ী রাসূলে আকরামের সঙ্গে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করে তাঁকে মদিনায় পাঠিয়ে দিলেন। তিনি হিজরতের চুয়াল্লিশতম বছরে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।
হযরত মাইমুনা (রাদিয়াল্লাহু আনহা): তাঁর নাম ছিল বাররা; রাসূলুল্লাহ তাঁর নাম বদলে মাইমুনা রাখেন। মাইমুনার স্বামী ইন্তেকাল করেছিলেন। খায়বার বিজয়ের পর উমরার জন্য মক্কায় যাওয়া হয়েছিল; মদিনায় ফেরার পথে তিনি রাসূলুল্লাহর সঙ্গে বিবাহের মর্যাদা লাভ করেন। হিজরতের তিপ্পান্নতম বছরে তিনি মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি বললেন, “আমাকে মক্কা থেকে বের করে নিয়ে চলো! কেননা রাসূলুল্লাহ জানিয়েছেন যে, আমি মক্কার বাইরে ইন্তেকাল করব।” তাঁকে বের করে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি সেই স্থানেই ইন্তেকাল করেন, যেখানে রাসূলুল্লাহর সঙ্গে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল (সারিফ নামক স্থানে)।11
হযরত মারিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহা): তিনি মহানবীর দাসী থাকা অবস্থায় ঈমান আনেন এবং মহানবীর সঙ্গে বিবাহের মর্যাদা লাভ করেন। মারিয়াকে মিসর ও আলেকজান্দ্রিয়ার শাসক মুকাওকিস উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিল বলে তাঁর বংশপরিচয় (বংশধারা) ও জন্মসাল নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। আমাদের মা হযরত মারিয়ার গর্ভে রাসূলে আকরামের এক পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নাম ছিল ইবরাহিম। হযরত মারিয়া ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, নীরব ও নিভৃতচারী। তিনি হযরত উমরের খিলাফতের শেষ বছরগুলোতে, ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে (হিজরি ১৬ সনে) ইন্তেকাল করেন। তাঁকে বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়।12
হযরত রায়হানা (রাদিয়াল্লাহু আনহা): তিনি মহানবীর দাসী থাকা অবস্থায় মুসলমান হন। তিনি মদিনায় বসবাসকারী ইহুদিদের বনু কুরাইজা গোত্রের মেয়ে ছিলেন। তাঁর বংশপরিচয়: রায়হানা বিনতে শামউন ইবনে ইয়াজিদ, অথবা রায়হানা বিনতে জায়েদ ইবনে আমর ইবনে হানাফা ইবনে শামউন ইবনে ইয়াজিদ। তাঁর জন্মসাল নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। তিনি মহানবীর আগে, ৬৩১ খ্রিস্টাব্দে (হিজরি ১০ সনে) মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তাঁকে বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়।13
“সাইয়্যিদ ও শরীফদের ভালোবাসা শেষ নিঃশ্বাসে ঈমান নিয়ে বিদায় নেওয়ার উপলক্ষ হয়” আবু মুজাহিদ আনওয়ার ইবনে নাজিফ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)
