আমার প্রিয় নবী

মহানবীকে উসিলা করে তাওয়াসসুল

মহানবীর মাধ্যমে সবসময় তাওয়াসসুল1 করা হয়েছে – তাঁর সৃষ্টির আগেও, সৃষ্টির পরেও, দুনিয়ার জীবনেও এবং ইন্তেকালের পর বারজাখের (কবরের) জগতেও; আর কিয়ামতের দিন পুনরুত্থানের পর আরাসাতের ময়দানে ও জান্নাতেও করা হবে। উসিলা হলো এমন প্রতিটি বিষয়, যাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর নৈকট্য লাভের ও প্রয়োজন পূরণের কারণ বানিয়েছেন। রাসূলে আকরামের মাধ্যমে তাওয়াসসুল, অর্থাৎ রাসূলুল্লাহকে আল্লাহ তাআলার কাছে উসিলা বানানো, তাঁর সাহায্য ও শাফায়াত প্রার্থনা করা জায়েজ। এগুলো সালাফে সালেহিন (সাহাবা, তাবেয়িন ও তাবে-তাবেয়িন), আলেমগণ ও অন্যান্য মুসলমানের আমলের অন্তর্ভুক্ত। মুসলমানদের কেউ কখনো একে মন্দ মনে করেননি। আজ পর্যন্ত বিকৃত আকিদার লোকেরা ছাড়া এগুলো অস্বীকারকারী আর কাউকে পাওয়া যায়নি। মানবজাতির পিতা আদম আলাইহিস সালামকে যখন পৃথিবীতে নামানো হলো, তখন তিনি মহানবীকে উসিলা বানিয়েছিলেন। আমাদের প্রিয় নবী এক হাদীস শরীফে তা এভাবে বর্ণনা করেছেন: “আদম (আলাইহিস সালাম) তাঁর বিচ্যুতির কারণে জান্নাত থেকে বের হলে বললেন, ‘হে আমার রব! মুহাম্মদের সম্মানে আমাকে ক্ষমা করো।’ আল্লাহ তাআলা বললেন, ‘হে আদম! তুমি মুহাম্মদকে কীভাবে জানলে? আমি তো তাঁকে এখনো সৃষ্টি করিনি?’ আদম (আলাইহিস সালাম) বললেন, ‘হে আমার রব! তুমি যখন আমাকে সৃষ্টি করে আমার মধ্যে রুহ দিলে, তখন চোখ খুলে তাকিয়ে আরশের কিনারায় লেখা দেখলাম, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।” তুমি যাঁর নাম নিজের নামের সঙ্গে ভালোবেসেছ, তিনিই সেই ব্যক্তি।’ আল্লাহ তাআলা বললেন, ‘হে আদম! তুমি সত্য বলেছ। আমার সৃষ্টির মধ্যে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি তাঁকেই। তাঁর সম্মানে ক্ষমা চেয়েছ বলে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।’”2 এক বর্ণনায় তিনি বলেছেন, “তিনি তোমার বংশ থেকে আগমনকারী একজন নবী। তাঁকে সৃষ্টি না করলে আমি তোমাকেও সৃষ্টি করতাম না, তোমার সন্তানদেরও না। তাঁকে শাফায়াতকারী বানিয়েছ বলে আমি তোমাকে ক্ষমা করলাম, মাফ করে দিলাম।”3

এ বিষয়ে হাজার হাজার দৃষ্টান্ত আছে। নিচে তার কয়েকটি উল্লেখ করা হলো। দুই চোখে দৃষ্টিহীন এক ব্যক্তি তাঁর চোখ খুলে যাওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহর কাছে দোয়া চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তুমি চাইলে আমি দোয়া করব। কিন্তু যদি সবর করে সহ্য করো, তাহলে তা তোমার জন্য বেশি ভালো হবে।” দৃষ্টিহীন সেই মুসলমান বললেন, “সবর করার শক্তি আমার আর নেই। আপনি দোয়া করুন – এই মিনতি করছি।” তখন মহানবী তাঁকে বললেন, “তাহলে অজু করে এই দোয়া পড়ো!”

“আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ওয়া আতাওয়াজ্জাহু ইলাইকা বি-নাবিয়্যিকা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যির রাহমাহ। ইয়া মুহাম্মাদ! ইন্নি আতাওয়াজ্জাহু বিকা ইলা রাব্বি ফি হাজাতি হাজিহি, লি-তুকদা লি। আল্লাহুম্মা শাফফিহু ফিয়্যা।”

সেই ব্যক্তি এই দোয়া পড়লে আল্লাহ তাআলা তা কবুল করলেন এবং তাঁর চোখ খুলে গেল – এ কথা হাদীসের আলেমগণের অন্যতম ইমাম নাসায়ি জানিয়েছেন। রাসূলুল্লাহকে উসিলা বানানো প্রসঙ্গে হযরত উসমান ইবনে হুনাইফ এই ঘটনা বর্ণনা করেন: “উসমান ইবনে আফফান যখন খলিফা ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি বড় এক সংকটে পড়েছিল; খলিফার সামনে যেতে লজ্জা পেয়ে সে আমার কাছে এসে তার দুঃখের কথা খুলে বলল। আমি তাকে বললাম, ‘তাড়াতাড়ি অজু করো! মসজিদে নববিতে যাও! ওপরে উল্লিখিত দোয়াটি পড়ো, তারপর তোমার প্রয়োজনের কথা জানাও।’ বেচারা দোয়া করার পর খলিফা যেখানে ছিলেন, সেখানে গেল, আর তাকে খলিফার সামনে নিয়ে যাওয়া হলো। খলিফা তাকে নিজের জায়নামাজের ওপর বসিয়ে তার দুঃখের কথা শুনলেন এবং তার প্রয়োজন পূরণ করলেন। বেচারা দেখল, তার কাজ হঠাৎ করেই হয়ে গেছে; সে খুশি হয়ে আমার কাছে এসে বলল, ‘আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন! আপনি খলিফাকে না বললে আমি এই সংকট থেকে মুক্তি পেতাম না।’ সে ভেবেছিল, আমি খলিফার সঙ্গে কথা বলেছি।”

“(হে আদম!) তিনি তোমার বংশ থেকে আগমনকারী একজন নবী। তাঁকে সৃষ্টি না করলে আমি তোমাকেও সৃষ্টি করতাম না, তোমার সন্তানদেরও না। তাঁকে শাফায়াতকারী বানিয়েছ বলে আমি তোমাকে ক্ষমা করলাম, মাফ করে দিলাম” হাদীসে কুদসি

হযরত উমর যখন খলিফা ছিলেন, তখন একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। সাহাবায়ে কেরামের অন্যতম বিলাল ইবনে হারিস রাসূলুল্লাহর রওজায় গিয়ে বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার উম্মত ক্ষুধায় মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বৃষ্টি বর্ষণের জন্য আপনি উসিলা হোন – এই মিনতি করছি।” সেই রাতেই রাসূলুল্লাহ তাঁকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে বললেন, “খলিফার কাছে যাও! আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সালাম বলো! তিনি যেন বৃষ্টির দোয়ার জন্য বের হন!” হযরত উমর বৃষ্টির দোয়ার জন্য বের হতেই বৃষ্টি শুরু হলো। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয়জনদের খাতিরে দোয়া কবুল করেন। আল্লাহ তাআলা জানিয়েছেন যে, তিনি মুহাম্মদ আলাইহিস সালামকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। এ জন্য কেউ যদি “আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বি-জাহি নাবিয়্যিকাল মুস্তফা” বলে দোয়া করে, তাহলে তার দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। তবে ছোটখাটো দুনিয়াবি কাজের জন্য রাসূলুল্লাহকে উসিলা বানানো আদবের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। বুরহানুদ্দিন ইবরাহিম মালিকি বলেছেন, “ভীষণ ক্ষুধার্ত এক দরিদ্র ব্যক্তি হুজরায়ে সাআদাতে গিয়ে বলল, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ক্ষুধার্ত।’ কিছুক্ষণ পর একজন এসে দরিদ্র লোকটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পেট ভরে খাওয়ালেন। দরিদ্র লোকটি তার দোয়া কবুল হওয়ার কথা বললে তিনি বললেন, ‘ভাই! তুমি পরিবার-পরিজন ছেড়ে, দূর পথের কষ্ট সয়ে রাসূলুল্লাহকে জিয়ারত করতে এসেছ। এক টুকরো রুটির জন্য রাসূলুল্লাহর দরবারে হাজির হওয়া কি শোভা পায়? সেই মহান দরবারে তোমার জান্নাত ও চিরস্থায়ী নিয়ামতসমূহ চাওয়া উচিত ছিল! এখানে যা চাওয়া হয়, আল্লাহ তাআলা তা ফিরিয়ে দেন না।’ রাসূলুল্লাহকে জিয়ারতের সৌভাগ্য যাঁরা লাভ করেন, তাঁদের উচিত কিয়ামতের দিন তিনি যেন শাফায়াত করেন, সেই দোয়া করা।” একদিন ইমাম আবু বকর মুকরি ইমাম তাবারানি ও আবুশ শাইখের সঙ্গে মসজিদে নববিতে বসে ছিলেন। কয়েক দিন ধরে কিছু না খাওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিলেন। ইমাম আবু বকর আর সইতে না পেরে “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ক্ষুধার্ত!” বলে এক কোণে গিয়ে বসলেন। সাইয়্যিদ বংশের এক ব্যক্তি দুজন খাদেম নিয়ে এসে বললেন, “ভাইয়েরা! আপনারা নাকি ক্ষুধায় কাতর হয়ে আমার নানাজান রাসূলুল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছেন। তিনি আমাকে আপনাদের খাওয়ানোর আদেশ দিয়েছেন।” খাদেমদের আনা খাবার সবাই মিলে খেলেন। অবশিষ্টটুকু তিনি তাঁদের জন্য রেখে চলে গেলেন। ইসলামের আলেমগণের অন্যতম আবু আবদুল্লাহ ইবনে নুমান মাররাকুশি তিলিমসানি (৬৮৩ / ১২৮৪ খ্রিস্টাব্দ) তাঁর “মিসবাহুজ জুলাম” নামের মূল্যবান গ্রন্থে রাসূলুল্লাহকে উসিলা বানিয়ে মনোবাঞ্ছা পূরণ হওয়া শত শত মুসলমান ও তাঁদের দোয়ার কথা বিস্তারিত লিখেছেন। রাসূলুল্লাহকে উসিলা বানিয়ে যাঁদের মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়েছিল, তাঁদের একজন মুহাম্মদ ইবনে মুনকাদির। তিনি বর্ণনা করেন, “এক ব্যক্তি আমার আব্বার কাছে আশিটি স্বর্ণমুদ্রা রেখে জিহাদে গিয়েছিলেন। তিনি বলে গিয়েছিলেন, ‘এগুলো রেখে দিন! খুব অভাবগ্রস্ত কাউকে এ থেকে সাহায্যও করতে পারেন।’ মদিনায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। আমার আব্বা স্বর্ণমুদ্রাগুলোর সবই ক্ষুধায় কাতর লোকদের মাঝে বিলিয়ে দিলেন। স্বর্ণমুদ্রার মালিক ফিরে এসে সেগুলো চাইলেন। আমার আব্বা বললেন, ‘এক রাত পরে আসুন।’ তিনি হুজরায়ে সাআদাতে গিয়ে ভোর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহর কাছে মিনতি করলেন। মাঝরাতে একজন লোক এসে বললেন, ‘হাত বাড়ান!’ তিনি এক থলে স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। আমার আব্বা ঘরে গিয়ে স্বর্ণমুদ্রাগুলো গুনে দেখলেন, সেগুলো আশিটিই। তিনি আনন্দিত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো মালিককে দিয়ে দিলেন।”

হযরত আবু আবদুল্লাহ তিলিমসানি এই গ্রন্থে নিজের জীবনের একটি ঘটনাও এভাবে বর্ণনা করেন:

“হিজরি ৬৩৭ সালে (১২৩৯ খ্রিস্টাব্দে) আমরা একদল বিশিষ্ট লোকের সঙ্গে সাদর দুর্গ থেকে যাত্রা করলাম। আমাদের সঙ্গে একজন পথপ্রদর্শক ছিল। কিছুদূর যাওয়ার পর আমাদের পানি ফুরিয়ে গেল। আমরা পানি খুঁজতে শুরু করলাম। এর মধ্যে আমিও প্রয়োজন সারতে গেলাম। তখন আমাকে প্রচণ্ড ঘুমে পেয়ে বসল। ‘যাত্রার সময় তো আমাকে জাগিয়েই দেবে’ – এই ভেবে আমি মাটিতে মাথা রাখলাম।

জেগে দেখি, মরুভূমির মাঝখানে আমি একেবারে একা। সঙ্গীরা আমাকে ভুলে চলে গেছে। একাকিত্বে আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গেলাম। মরুভূমিতে ডানে-বাঁয়ে হাঁটতে লাগলাম। কোথায় আছি, কোথায় যেতে হবে – কিছুই জানতাম না। চারদিকে শুধু সমতল বালু। কিছুক্ষণ পর অন্ধকার নেমে এল। আমরা যে কাফেলার সঙ্গে যাচ্ছিলাম, তার কোনো চিহ্নও ছিল না। রাতের অন্ধকারে আমি একেবারে একা। ভয় আরও বেড়ে গেল। অস্থির হয়ে আরও দ্রুত হাঁটতে লাগলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর প্রচণ্ড পিপাসায়, ক্লান্তিতে অবসন্ন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম। জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম, মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে বলে অনুভব করছিলাম। অবর্ণনীয় যন্ত্রণায় ছিলাম, কষ্ট ও বেদনা চরম সীমায় পৌঁছেছিল। হঠাৎ একটি কথা মনে পড়ল। রাতের অন্ধকারে সমস্ত শক্তি একত্র করে আন্তরিকভাবে, ইখলাসের সঙ্গে শেষবারের মতো আর্তনাদ করে বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! সাহায্য করুন! আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে আপনার কাছে সাহায্য চাইছি!’ কথা শেষ হতে না হতেই শুনলাম, কেউ আমাকে ডাকছেন। আওয়াজ যেদিক থেকে এল, সেদিকে তাকিয়ে দেখলাম, রাতের অন্ধকারে চারপাশে আলো ছড়ানো, ধবধবে সাদা পোশাক পরা, আগে কখনো দেখিনি এমন একজন আমাকে ডাকছেন। তিনি আমার কাছে এসে আমার হাত ধরলেন। সেই মুহূর্তে আমার সব ক্লান্তি ও পিপাসা দূর হয়ে গেল। যেন নতুন জন্ম লাভ করলাম। তাঁর প্রতি আমার অন্তর হঠাৎ গভীর মমতায় ভরে উঠল। হাতে হাত ধরে আমরা কিছুক্ষণ হাঁটলাম। অনুভব করলাম, জীবনের সবচেয়ে মধুর মুহূর্তগুলোর একটি কাটাচ্ছি। একটি বালিয়াড়ি পেরোতেই আমাদের সহযাত্রী কাফেলার আলো দেখতে পেলাম, সঙ্গীদের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম। আমরা তাদের দিকে এগিয়ে গেলাম। আমার বাহন পশুটি কাফেলার একেবারে পেছনে চলছিল। হঠাৎ সেটি এসে আমার সামনে দাঁড়াল। নিজের বাহন সামনে দেখে আনন্দে চিৎকার করে উঠলাম। আমি চিৎকার করতেই আমার সঙ্গে আসা সেই মহান ব্যক্তি আমার হাত থেকে তাঁর হাত টেনে নিলেন। তারপর আমার হাত ধরে আমাকে বাহনে বসিয়ে দিলেন। এরপর ‘যে আমাদের কাছে কিছু চায় এবং সাহায্য প্রার্থনা করে, তাকে আমরা খালি হাতে ফিরিয়ে দিই না’ বলে ফিরে চলে গেলেন। তখন বুঝতে পারলাম, তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ। তিনি যখন ফিরে যাচ্ছিলেন, তাঁর চারদিকে ছড়ানো নূর রাতের অন্ধকারে আকাশের দিকে উঠে যেতে দেখা যাচ্ছিল। তিনি দৃষ্টির আড়াল হতেই হঠাৎ আমার হুঁশ ফিরল। ‘হায়! কেন আমি রাসূলুল্লাহর হাত-পা চুম্বন করলাম না!’ বলে ছটফট করতে লাগলাম; কিন্তু সময় পেরিয়ে গিয়েছিল, সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল।” আবুল খায়র আকতা মদিনায় পাঁচ দিন অনাহারে ছিলেন। তিনি হুজরায়ে সাআদাতের কাছে এসে রাসূলুল্লাহকে সালাম দিলেন। নিজের ক্ষুধার কথা জানালেন। তারপর এক পাশে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। স্বপ্নে দেখলেন, রাসূলুল্লাহ আসছেন। তাঁর ডানে আবু বকর সিদ্দিক, বাঁয়ে উমর ফারুক এবং সামনে আলি মুরতাজা।

হযরত আলি এসে বললেন, “হে আবুল খায়র! ওঠো, শুয়ে আছ কেন? রাসূলুল্লাহ আসছেন!” তিনি সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন। রাসূলুল্লাহ এসে তাঁকে একটি বড় রুটি দিলেন। আবুল খায়র বলেন, “খুব ক্ষুধার্ত ছিলাম বলে তখনই খেতে শুরু করলাম। অর্ধেক খাওয়া শেষ হতেই জেগে উঠলাম। বাকি অর্ধেক আমার হাতেই পেলাম।”

“কেউ কোনো কিছুতে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সে যেন নিখুঁতভাবে অজু করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে! তারপর বলে, ‘হে আমার রব! তোমার কাছে চাইছি। জগৎসমূহের জন্য রহমত তোমার নবী মুহাম্মদ আলাইহিস সালামকে উসিলা বানিয়ে তোমার কাছে মিনতি করছি। হে মুহাম্মদ! আমার প্রার্থনা যেন কবুল করেন, সে জন্য আমার রবের কাছে আপনাকে উসিলা বানাচ্ছি। হে আমার রব! তাঁকে আমার জন্য শাফায়াতকারী বানাও!’” হাদীস শরীফ

একইভাবে “মিসবাহুজ জুলাম” গ্রন্থে বর্ণিত আছে: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ সুফি বলেন, “হিজাজের মরুভূমিতে আমার সর্বস্ব শেষ হয়ে গেল। আমি মদিনায় এলাম। হুজরায়ে সাআদাতের কাছে রাসূলুল্লাহকে সালাম দিলাম। এক পাশে বসে ঘুমিয়ে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ দেখা দিয়ে বললেন, ‘এসেছ, আহমদ? তোমার হাতের তালু মেলে ধরো!’ তিনি আমার হাতের তালু স্বর্ণমুদ্রায় ভরে দিলেন। জেগে উঠলাম। আমার দুই হাত স্বর্ণমুদ্রায় ভরা ছিল।” ইমাম সামহুদিও তাঁর “মদিনার ইতিহাস” নামক গ্রন্থে নিজের জীবনের একটি ঘটনা এভাবে বর্ণনা করেন: “আমার দরজার চাবি পড়ে গিয়ে হারিয়ে গেল। খুঁজে পেলাম না। হুজরায়ে সাআদাতের সামনে এসে বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার চাবি হারিয়ে গেছে, ঘরে ঢুকতে পারছি না!’ ঠিক তখন একটি শিশু এল। হাতের চাবিটি দেখিয়ে বলল, ‘এটা আমি পেয়েছি। এটা কি আপনার?’”

কিলিসের মুস্তফা ইশকি এফেন্দি তাঁর “Mevârid-i Mecîdiyye” নামক ইতিহাসগ্রন্থে বলেন, “আমি বিশ বছর মক্কায় ছিলাম। ষাটটি স্বর্ণমুদ্রা জমিয়ে হিজরি ১২৪৭ সালে (১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে) স্ত্রী-সন্তানসহ মদিনায় এলাম। পথেই টাকাপয়সা শেষ হয়ে গেল। এক পরিচিতজনের বাড়িতে মেহমান হয়ে আমি হুজরায়ে সাআদাতে এলাম। রাসূলুল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলাম। তিন দিন পর আমরা যে বাড়িতে ছিলাম, সেখানে এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি এসে জানালেন যে, তিনি আমার জন্য একটি বাড়ি ভাড়া করেছেন। আমার মালপত্র সেখানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করলেন। এক বছরের ভাড়া পরিশোধ করে দিলেন। কয়েক মাস পর আমি অসুস্থ হয়ে এক মাস শয্যাশায়ী ছিলাম। ঘরে খাওয়ার বা বিক্রি করার মতো কিছুই রইল না। স্ত্রীর সাহায্যে ছাদে উঠে রাসূলুল্লাহর রওজার দিকে মুখ করে আমার কষ্টের কথা জানিয়ে সাহায্য চাইব বলে ঠিক করেছিলাম। হাত তুলতেই দুনিয়ার কিছু চাইতে লজ্জা পেলাম। কিছুই বলতে পারলাম না। নিজের ঘরে নেমে এলাম। পরদিন একজন এসে বললেন, অমুক এফেন্দি এই স্বর্ণমুদ্রাগুলো আপনাকে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন। থলেটি নিলাম। আমাদের জীবিকার অবস্থা ভালো হলেও আমি অসুখ থেকে সেরে উঠতে পারলাম না। অন্যের সাহায্যে হুজরায়ে সাআদাতের সামনে এসে রাসূলুল্লাহর কাছে শিফা চাইলাম। মসজিদ থেকে বের হয়ে কারও সাহায্য না নিয়েই হেঁটে বাড়ি গেলাম। বাড়িতে ঢোকার সময় আমার অসুখের কোনো চিহ্নই ছিল না। নজর না লাগার জন্য কয়েক দিন লাঠিতে ভর দিয়ে রাস্তায় বের হলাম। কিন্তু টাকাপয়সা শেষ হয়ে গিয়েছিল। স্ত্রী-সন্তানদের অন্ধকারে রেখে মসজিদে নববিতে এলাম। এশার নামাজের পর আমার কষ্টের কথা রাসূলুল্লাহকে জানালাম। পথে অচেনা এক ব্যক্তি আমার কাছে এসে হাতে একটি থলে ধরিয়ে দিলেন। তাতে ছিল উনপঞ্চাশটি স্বর্ণমুদ্রা, যার প্রতিটির মূল্য নয় কুরুশ। মোমবাতি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ফিরলাম।”

“Şakâyık-i Nu’mâniyye” গ্রন্থের অনুবাদের দ্বিতীয় খণ্ডে বলা হয়েছে: উসমানি সাম্রাজ্যের প্রথম শাইখুল ইসলাম এবং নিজ যুগের মুজাদ্দিদ মহান ইসলামি আলেম মাওলানা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে হামজা ফেনারির চোখে ছানি পড়ায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারালেন। এক রাতে স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ তাঁকে বললেন, “সূরা তোয়াহার তাফসির করো!” তখন তিনি বললেন, “আপনার মহান দরবারে পবিত্র কুরআনের তাফসির করার সামর্থ্য যেমন আমার নেই, তেমনি আমার চোখও দেখতে পায় না।” নবীগণের চিকিৎসক রাসূলুল্লাহ তাঁর খিরকা মুবারক থেকে এক টুকরো তুলা বের করে নিজের মুবারক থুতু দিয়ে ভিজিয়ে তাঁর চোখের ওপর রেখে দিলেন। মোল্লা ফেনারি জেগে উঠে চোখের ওপর তুলাটি পেলেন; তা সরাতেই দেখলেন, তাঁর দৃষ্টি ফিরে এসেছে। তিনি আল্লাহ তাআলার হামদ ও শোকর আদায় করলেন। তুলার আঁশগুলো যত্নে রেখে দিলেন এবং ওসিয়ত করলেন যে, মৃত্যুর পর যেন সেগুলো তাঁর চোখের ওপর রাখা হয়। হিজরি ৮৩৪ সালে (১৪৩১ খ্রিস্টাব্দে) বুরসায় তিনি ইন্তেকাল করলে তাঁর ওসিয়ত পালন করা হলো।

আব্বাসি খলিফাদের অন্যতম আবু জাফর মানসুর মসজিদে নববির ভেতরে ইমাম মালিকের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ইমাম মালিক বললেন, “হে মানসুর! এটা মসজিদে নববি! আস্তে কথা বলো! হক তাআলা সূরা হুজুরাতে মর্মার্থে ‘তোমরা তোমাদের কণ্ঠস্বর রাসূলুল্লাহর কণ্ঠস্বরের চেয়ে উঁচু কোরো না!’4 – এ কথা বলে একদল লোককে তিরস্কার করেছেন। আর ‘যারা রাসূলুল্লাহর কাছে নিজেদের কণ্ঠস্বর নিচু রাখে…’5 – এই পবিত্র আয়াতের মাধ্যমে যারা নিচু স্বরে কথা বলে, তিনি তাদের প্রশংসা করেছেন। রাসূলুল্লাহর ইন্তেকালের পর তাঁকে সম্মান দেখানো তাঁর জীবদ্দশায় সম্মান দেখানোর মতোই।” মানসুর মাথা নিচু করে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আবু আবদুল্লাহ! কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়াব, নাকি রওজা মুবারকের দিকে মুখ করে?” হযরত ইমাম মালিক বললেন, “রাসূলুল্লাহর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ো না! কিয়ামত দিবসের শাফায়াতকারী সেই মহান নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিয়ামতের দিন তোমার এবং তোমার পিতা আদম আলাইহিস সালামের মুক্তির উসিলা হবেন। তোমার উচিত রওজা মুবারকের দিকে মুখ করে রাসূলুল্লাহর মুবারক রুহের আশ্রয় নিয়ে শাফায়াত প্রার্থনা করা। সূরা নিসার ৬৪তম পবিত্র আয়াতে মর্মার্থে ইরশাদ হয়েছে:

“যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে (নিজেদের ক্ষতি করেছে), তারা যদি তোমার কাছে এসে আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আর আমার রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাহলে তারা আল্লাহ তাআলাকে তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পাবে।” এই পবিত্র আয়াত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে, যারা রাসূলুল্লাহকে উসিলা বানায়, তাদের তওবা কবুল করা হবে।” এ কথা শুনে মানসুর নিজের জায়গা থেকে উঠে হুজরায়ে সাআদাতের সামনে দাঁড়ালেন এবং মিনতি করতে লাগলেন, “হে আমার রব! এই পবিত্র আয়াতে তুমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছ যে, যারা তোমার রাসূলকে উসিলা বানায়, তুমি তাদের তওবা কবুল করবে। আমিও তোমার মহান নবীর মহান দরবারে এসে তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি। তিনি জীবিত থাকাকালে যারা ক্ষমা চেয়েছিল আর তুমি তাদের ক্ষমা করেছিলে, তোমার সেই বান্দাদের মতো আমাকেও ক্ষমা করো! হে আমার রব! নাবিয়্যুর রাহমা (রহমতের নবী) তোমার মহান নবীকে উসিলা বানিয়ে তোমার কাছে মিনতি করছি। হে নবীগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ আলাইহিস সালাম! আপনার মাধ্যমে তাওয়াসসুল করে আমার রবের কাছে মিনতি করলাম। হে আমার রব! সেই মহান নবীকে আমার জন্য শাফায়াতকারী বানাও!” তিনি কিবলার দিকে পিঠ দিয়ে, মুওয়াজাহা শরীফের জানালার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে দোয়া করলেন। মিম্বরে নববি তাঁর বাম পাশে ছিল। খলিফা মানসুরকে দেওয়া ইমাম মালিকের এই নসিহত প্রমাণ করে যে, হুজরায়ে সাআদাতের সামনে যারা দোয়া করে, তাদের অত্যন্ত সজাগ থাকা প্রয়োজন। বলা হয়েছে, যারা সেই মাকামের উপযুক্ত আদব ও সম্মান রক্ষা করতে পারবে না, তাদের মদিনা মুনাওয়ারায় দীর্ঘকাল থাকা ঠিক নয়। আনাতোলিয়ার এক গ্রামবাসী বহু বছর মদিনা মুনাওয়ারায় ছিলেন, বিয়ে করেছিলেন এবং হুজরায়ে সাআদাতে একটি নির্দিষ্ট খেদমতে নিযুক্ত হয়েছিলেন। একদিন তিনি জ্বরে আক্রান্ত হলেন, আর তাঁর ঘোল খেতে ইচ্ছা হলো। “যদি নিজের গ্রামে থাকতাম, দই থেকে ঘোল বানিয়ে খেতাম” – এমন একটি ভাবনা তাঁর মনে উঁকি দিল। সেই রাতে রাসূলুল্লাহ শাইখুল হারাম এফেন্দিকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে আদেশ দিলেন, ওই ব্যক্তির কাজ যেন অন্য কাউকে দেওয়া হয়। শাইখুল হারাম যখন বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই খেদমত আপনার উম্মতের অমুক ব্যক্তি করছেন,” তখন তিনি বললেন, “তাকে বলো! সে যেন নিজের গ্রামে গিয়ে ঘোল খায়!…” পরদিন এই আদেশ জানানো হলে গ্রামবাসী লোকটি “শিরোধার্য!” বলে নিজের দেশে চলে গেলেন।

“যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে, তারা যদি তোমার কাছে এসে আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আর আমার রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাহলে তারা আল্লাহ তাআলাকে তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পাবে” নিসা: ৬৪

মনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি ভাবনাই যখন এত ক্ষতি করল, তখন – আল্লাহ রক্ষা করুন – ঠাট্টা করে হলেও বলা একটি অসংগত কথা কিংবা আদববিরোধী একটি আচরণের ক্ষতি যে কত বড় হবে, তা এখান থেকেই বুঝে নেওয়া উচিত।

তোমায় যে মুমিন ভালোবাসে, তার অন্তরের ঈমান তুমি,
কোনো দুঃখ থাকে না তার, তার ব্যথার দাওয়াই তুমি,
তোমার শাফায়াতের আশায় থাকে, তার মনের ফরমান তুমি,
সাহায্যপ্রার্থী অবশ্যই পৌঁছে যাবে, ইয়া রাসূলাল্লাহ।

রাসূলুল্লাহর প্রতি দরুদ শরীফ পাঠের গুরুত্ব ও ফজিলত

মহানবীর নাম বলা, শোনা ও লেখার সময় সম্মান ও শ্রদ্ধার প্রকাশ হিসেবে তাঁর প্রতি দরুদ শরীফ পাঠ করা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি। পবিত্র কুরআনে সূরা আহজাবের ৫৬তম পবিত্র আয়াতে মর্মার্থে ইরশাদ হয়েছে:

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত পাঠান (তাঁর মর্যাদা ও মহিমা বৃদ্ধির জন্য)। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম পাঠাও এবং অন্তর থেকে তাঁর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করো।”

তাফসিরের আলেমগণ জানিয়েছেন, এই পবিত্র আয়াতে উল্লিখিত “সালাত” শব্দটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রহমত, ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে ইস্তিগফার এবং মুমিনদের পক্ষ থেকে দোয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ইসলামের সকল আলেম সর্বসম্মতভাবে জানিয়েছেন: জীবনে একবার দরুদ পাঠ করা ফরজ। তাঁর নাম প্রতিবার বলা, শোনা, পড়া ও লেখার সময় একবার দরুদ পাঠ করা ওয়াজিব, আর নাম বারবার এলে মুস্তাহাব।

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার কাছে কিছু চায়, তার উচিত প্রথমে আল্লাহ তাআলার হামদ ও সানা পাঠ করা, এরপর রাসূলুল্লাহর প্রতি দরুদ পাঠ করা। এমন দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। দুই দরুদের সঙ্গে (দোয়ার শুরুতে ও শেষে) করা দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। হযরত আবু তালহা বর্ণনা করেন, “আমি রাসূলুল্লাহর দরবারে প্রবেশ করলাম। তাঁর মধ্যে এমন আনন্দ ও প্রসন্নতা দেখলাম, যা আগে কখনো দেখিনি। কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ’কেন আনন্দিত হব না? একটু আগে জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) সুসংবাদ নিয়ে এসেছেন: আল্লাহ তাআলা বলছেন, তোমার উম্মতের কেউ তোমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তার প্রতি দশবার রহমত পাঠাবেন।’”6

এ বিষয়ে কয়েকটি হাদীস শরীফ এই:

“যার সামনে আমার নাম উচ্চারিত হলো, অথচ সে আমার প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করল না, তার নাক ধুলায় মলিন হোক। যার জীবনে রমজান মাস এল, অথচ নিজের গুনাহ ক্ষমা করিয়ে নেওয়ার আগেই রমজান মাস চলে গেল, তার নাকও ধুলায় মলিন হোক। যে পিতা-মাতাকে বার্ধক্যে পেয়েও তাঁদের সন্তুষ্টি অর্জন করে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না, তার নাকও ধুলায় মলিন হোক।”

“যার সামনে আমার নাম উল্লেখ করা হলো, অথচ সে আমার প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করল না, সে কৃপণদের মধ্যে সবচেয়ে বড় কৃপণ।” হযরত আবু হুমাইদ সাইদি জানান, “সাহাবায়ে কেরামের কেউ কেউ রাসূলুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনার প্রতি কীভাবে দরুদ ও সালাম পাঠ করব?’ রাসূলুল্লাহ বললেন, ‘তোমরা বলো, আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আজওয়াজিহি ওয়া জুররিয়্যাতিহি কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আজওয়াজিহি ওয়া জুররিয়্যাতিহি কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।’”7

কয়েকটি দরুদ শরীফ এই:

“আলাইহিস সালাম।”

“সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।”

“আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামু ওয়াত তাহিয়্যাহ।”

“আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদ।”

“আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি আজমাইন।”

“আলাইহি ওয়া আলা জামিই মিনাস সালাওয়াতি আতাম্মুহা ওয়া মিনাত তাহিয়্যাতি আইমানুহা।”

“আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম…”

এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন: আমার এক বন্ধু তাঁর পাঠানো একটি চিঠিতে রাসূলুল্লাহর মুবারক নাম যেখানেই এসেছে, সেখানেই “সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা তাসলিমান কাসিরান কাসিরা” লিখেছিলেন। তাঁর সঙ্গে দেখা হলে কারণ জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, “যৌবনে আমি হাদীসের কিতাব নকল করে লিখতাম। রাসূলুল্লাহর মুবারক নাম যতবার লিখতাম, দরুদ লিখতাম না। স্বপ্নে জগৎসমূহের সরদারকে দেখে তাঁর কাছে গেলাম। তিনি আমার দিক থেকে তাঁর মুবারক চেহারা ফিরিয়ে নিলেন। আমি তাঁর অন্য পাশে গেলাম, আবারও ফিরিয়ে নিলেন। তাঁর সামনে গিয়ে বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! কেন আমার দিক থেকে চেহারা ফিরিয়ে নিচ্ছেন?’ তিনি বললেন, ‘কারণ তুমি তোমার কিতাবে আমার নাম লেখার সময় আমার প্রতি দরুদ লেখোনি!’ সেদিন থেকে আমি তাঁর মুবারক নাম সবসময় দরুদসহ লিখি।”

হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে:

“যে আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দশবার সালাত (রহমত) পাঠান, তার দশটি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং তার মর্যাদা দশ গুণ উঁচু করেন।”

“কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং আমার শাফায়াতের সবচেয়ে উপযুক্ত সেই ব্যক্তি, যে আমার প্রতি সবচেয়ে বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করে।” হক তাআলা হযরত মূসাকে বললেন, “হে মূসা, তুমি কি চাও যে, আমি তোমার জিভের কাছে তোমার কথার চেয়ে, তোমার অন্তরের কাছে তোমার ভাবনার চেয়ে, তোমার দেহের কাছে তোমার রুহের চেয়ে, তোমার চোখের কাছে তোমার দৃষ্টির আলোর চেয়েও বেশি নিকটবর্তী হই?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, হে আমার রব!” তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, “তাহলে মুহাম্মদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।” তারপর বললেন, “হে মূসা, তুমি কি চাও, কিয়ামতের দিন যেন পিপাসার কষ্ট ভোগ না করো?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, হে আমার রব!” তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, “তাহলে মুহাম্মদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।”8

মহানবী ইরশাদ করেন:

“কিয়ামতে প্রতিটি স্থানে তোমাদের মধ্যে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে সে, যে দুনিয়ায় আমার প্রতি বেশি দরুদ পাঠ করেছে। জুমার দিন ও জুমার রাতে যে আমার প্রতি একশোবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার একশোটি প্রয়োজন পূরণ করেন। এর সত্তরটি আখিরাতের, ত্রিশটি দুনিয়ার। তারপর আল্লাহ তাআলা একজন ফেরেশতার মাধ্যমে এই দরুদগুলো আমার কবরে পৌঁছে দেন। তোমাদের কাছে আসা উপহারের মতোই সেগুলো আমার কাছে আসে। সেই ফেরেশতা আমাকে প্রেরকের নাম, বংশ ও গোত্র জানিয়ে দেন। আমার কাছে থাকা একটি সাদা পৃষ্ঠায় তিনি তা লিখে রাখেন। মৃত্যুর পর আমার জানা, জীবিত অবস্থায় জানার মতোই।”9

“যে আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দশবার সালাত (রহমত) পাঠান, তার দশটি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং তার মর্যাদা দশ গুণ উঁচু করেন” হাদীস শরীফ

“বৃহস্পতিবার এলে আল্লাহ তাআলা এমন ফেরেশতাদের পাঠান, যাঁদের হাতে থাকে রুপার খাতা ও সোনার কলম। বৃহস্পতিবার দিনে ও জুমার রাতে যারা নবীর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে, তাঁরা তাদের নাম লিখে রাখেন।” “দুজন মুসলমান সাক্ষাৎ করে মুসাফাহা করলে এবং নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করলে, পৃথক হওয়ার আগেই তাদের আগের ও পরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।” “তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন নবীকে সালাম দেয় এবং বলে, ‘হে আমার রব! আমাকে শয়তান থেকে রক্ষা করো!’”10

এক বর্ণনায় আছে, “মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় সে যেন ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিকা’ পাঠ করে।”

দোয়ার শুরুতে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা (হামদ) এবং রাসূলুল্লাহর প্রতি দরুদ না থাকলে দোয়া পর্দার আড়ালে থেকে যায়। যে দোয়ার শুরুতে হামদ ও দরুদ থাকে, তা কবুল হয়। রাসূলুল্লাহ ও তাঁর বংশধরদের (আলের) প্রতি দরুদ পাঠ না করা পর্যন্ত দোয়া ও আসমানের মাঝে পর্দা থাকে। দরুদ পাঠ করলে এই পর্দা ছিঁড়ে যায় এবং দোয়া আসমানে উঠে যায়। দরুদ পাঠ না করলে দোয়া ফিরে আসে।

কোনো মজলিসে আল্লাহ তাআলার স্মরণ না হলে এবং রাসূলুল্লাহর প্রতি দরুদ পাঠ করা না হলে সেখানে উপস্থিত লোকদের মাথার ওপর চাবুক ঝুলে থাকে। আল্লাহ তাআলা চাইলে তাদের শাস্তি দেন, চাইলে ক্ষমা করেন।

“যার কান ঝিনঝিন করে, সে যেন আমাকে স্মরণ করে এবং আমার প্রতি দরুদ পাঠ করে।”

“কেউ কোনো কাজের নিয়ত করলে সে যেন সে বিষয়ে পরামর্শ করে। তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে সে কাজে সঠিক পথ (রুশদ) দান করবেন। কেউ কোনো কথা বলতে চেয়ে তা ভুলে গেলে সে যেন আমার প্রতি দরুদ পাঠ করে। কেননা আমার প্রতি তার দরুদের মধ্যে তার সেই কথার বিকল্প রয়েছে। আশা করা যায়, এতে কথাটি তার মনে পড়ে যাবে।”11

“কোনো কল্যাণকর কাজ আল্লাহর নাম ও আমার প্রতি দরুদ দিয়ে শুরু করা না হলে সে কাজে কোনো কল্যাণ থাকে না, তার সমস্ত বরকত উঠিয়ে নেওয়া হয়।”12 ইসলামের মহান ব্যক্তিদের অন্যতম আবু হাফস কাগিদি ইন্তেকাল করলে এক ব্যক্তি তাঁকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করল, “আল্লাহ তাআলা আপনার সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন?” তিনি বললেন, “তিনি আমার প্রতি রহমত করেছেন, আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং জান্নাতে স্থান দিয়েছেন।” লোকটি জিজ্ঞেস করল, “কী কারণে?” তিনি উত্তর দিলেন, “আমাকে ফেরেশতাদের মাঝে দাঁড় করানো হলো। তাঁরা আমার গুনাহগুলো এবং রাসূলুল্লাহর প্রতি পাঠ করা আমার দরুদগুলো হিসাব করলেন এবং দরুদই বেশি পেলেন। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁদের বললেন, ‘হে আমার ফেরেশতাগণ! তোমাদের কাজ শেষ। আর হিসাব নিয়ো না। তাকে আমার জান্নাতে নিয়ে যাও!’”

সালাফের একজন বর্ণনা করেন, “আমার এক সঙ্গী, যাঁর সঙ্গে আমি হাদীস শিখেছিলাম, ইন্তেকাল করলেন। স্বপ্নে দেখলাম, তাঁর গায়ে জান্নাতের সবুজ পোশাক। কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ‘প্রতিটি হাদীসে রাসূলুল্লাহর যে নাম দেখতাম, তার পাশে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিখতাম। হক তাআলা এরই প্রতিদান এভাবে দিয়েছেন।’”

সালাফের আরেকজন বর্ণনা করেন, “আমার এক প্রতিবেশী, যিনি লিপিকারের কাজ করতেন, ইন্তেকাল করলেন। আমি তাঁকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ তাআলা তাঁর সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন। তিনি জানালেন, আল্লাহ তাআলা তাঁকে ক্ষমা করেছেন। কী কারণে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ‘যখনই রাসূলুল্লাহর নাম লিখতাম, তার সঙ্গে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কথাটিও লিখতাম, সেই কারণে।’” আবু সুলাইমান দারানি বর্ণনা করেন, “হাদীস লেখার সময় যখনই আমাদের নবীর সম্মানিত নাম লিখতাম, সাল্লাল্লাহু আলাইহি লিখতাম, কিন্তু ওয়া সাল্লাম কথাটি লিখতাম না। আমি তাঁকে স্বপ্নে দেখলাম। তিনি আমাকে বললেন, ‘হে আবু সুলাইমান! হাদীসে আমার নাম লেখার সময় দরুদের সঙ্গে ওয়া সাল্লাম কথাটিও লেখো। তা চারটি অক্ষর। এর প্রতিটি অক্ষরে দশটি সওয়াব রয়েছে। না লিখলে তুমি চল্লিশটি সওয়াব হারাচ্ছ।’”

আরেক ব্যক্তিরও এমন অভ্যাস ছিল। রাসূলুল্লাহ স্বপ্নে তাকে বললেন, “তোমার কী হয়েছে, আমার প্রতি দরুদ পূর্ণরূপে লেখো না কেন?”

আবু বকর সিদ্দিক বলেছেন, “ভুলে যাওয়ার ভয় যার আছে, সে যেন রাসূলুল্লাহর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে।”

নেককার বুজুর্গদের অন্যতম মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে মুতাররিফ বর্ণনা করেন, “প্রতি রাতে শোয়ার সময় আমি নির্দিষ্ট পরিমাণ দরুদ পাঠ করতাম। এক রাতে স্বপ্নে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ এসে ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং আমার ঘর নূরে ভরে গেল। তারপর তিনি আমার দিকে এগিয়ে এসে বললেন, ‘যে মুখ আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে, তোমার সেই মুখটি এগিয়ে দাও, আমি চুমু দেব।’ আমি মুখ এগিয়ে দিতে লজ্জা পেয়ে গাল এগিয়ে দিলাম। তিনি তাঁর মুবারক ঠোঁট দিয়ে তাতে চুমু দিলেন। আনন্দে আমার ঘুম ভেঙে গেল। দেখলাম, আমার ঘর মেশকের সুবাসে ভরে গেছে। আট দিন পর্যন্ত আমার গাল থেকে সেই সুবাস যায়নি।” সালাফের বুজুর্গদের অন্যতম খাল্লাদ ইবনে কাসির ইন্তেকাল করলে তাঁর মাথার নিচে একটি কাগজ পাওয়া গেল। তাতে লেখা ছিল, “এটি খাল্লাদ ইবনে কাসিরের জাহান্নাম থেকে মুক্তির সনদ।” তখন তাঁর আত্মীয়দের জিজ্ঞেস করা হলো, “তাঁর আমল কী ছিল?” তাঁরা বললেন, “প্রতি জুমার দিন তিনি দরুদ পাঠ করতেন।” শাইখ আইনির জাইনুল মাজালিস গ্রন্থে লেখা আছে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, “কিয়ামতের দিন তিন দল মানুষ আরশের ছায়ায় থাকবে, যেদিন সেই ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না।” জিজ্ঞেস করা হলো, “তারা কারা?” তিনি বললেন, “যে আমার উম্মতকে কষ্ট থেকে মুক্ত করে, যে আমার সুন্নতকে জীবিত করে এবং যে আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে।”

শাইখ আবু মূসা দারিরি বর্ণনা করেন, “সমুদ্রে আমরা প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়লাম। মৃত্যুর ভয়ে সবাই কাঁদছিল। এ অবস্থায় আমার তন্দ্রা এসে গেল। স্বপ্নে রাসূলে আকরামকে দেখলাম। তিনি আমাকে বললেন, জাহাজের লোকদের বলো, তারা যেন এক হাজারবার ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদ, সালাতান তুনজিনা বিহা মিন জামিয়িল আহওয়ালি ওয়াল আফাত, ওয়া তাকদি লানা বিহা জামিয়াল হাজাত, ওয়া তুতাহহিরুনা বিহা মিন জামিয়িস সাইয়্যিআত, ওয়া তারফাউনা বিহা ইনদাকা আলাদ দারাজাত, ওয়া তুবাল্লিগুনা বিহা আকসাল গায়াতি মিন জামিয়িল খাইরাতি ফিল হায়াতি ওয়া বাদাল মামাত’ পাঠ করে। আমরা তখনো তিনশোবারও পাঠ করে শেষ করিনি, এমন সময় ঝড় থেমে গেল এবং আমরা রক্ষা পেলাম।” প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে, প্রত্যেক বিপদ-আপদে, দুর্যোগে ও ভূমিকম্পে এই দরুদ পাঠ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দিনরাত আমার মুখে তোমার মুবারক রুহের প্রতি দরুদ ও সালাম, হে ফখরুল আনাম!

নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহে দরুদ কীভাবে পাঠ করতে হয়, সে বিষয়ে চল্লিশটিরও বেশি হাদীস রয়েছে।

সেগুলোর একটি এই:

“যার কান ঝিনঝিন করে, সে যেন আমাকে স্মরণ করে এবং আমার প্রতি দরুদ পাঠ করে” হাদীস শরীফ

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।

আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম ওয়া বারিক ওয়ারহাম আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন হুয়া সাইয়্যিদুল আরাবি ওয়াল আজাম।

ওয়া ইমামিল মাক্কাতিল মুকাররামাতি ওয়াল মাদিনাতিল মুনাওয়ারাতি ওয়াল হারাম। আল্লামাল ইনসানা মা লাম ইয়ালাম।

আসলুহু নূরুন ওয়া নাসলুহু আদাম।

বাসুহু মুআখখারুন ওয়া খালকুহু মুকাদ্দাম।

ইসমুহুশ শারিফু মাকতুবুন আলাল লাওহিল মাহফুজি বিয়াকুতিল কালাম।

ওয়া জিসমুহুশ শারিফু মাদফুনুন ফিল মাদিনাতিল মুনাওয়ারাতি ওয়াল হারাম।

ইয়া লাইতা আকতাহিলু তুরাবাল্লাজি তাহতাল কাদাম।

ফাতুবা সুম্মা তুবা লিমান দাআ ওয়া তাবিআহু ওয়া লিমান আসলামা সাহিবাশ শাফাআতি লিল আলামিন।

কায়িলান ইয়া রাব্বি! সাল্লিম উম্মাতি, উম্মাতি, ওয়া উম্মাতা ইয়া জাল লুতফি ওয়াল কারাম।

ফাইউনাদিল মুনাদি মিন কিবালির রাহমান, কাবিলতু শাফাআতাকা ইয়া নাবিয়্যাল মুহতারাম।

উদখুলুল জান্নাতা লা খাওফুন আলাইকুম ওয়ালা হুজনুন ওয়ালা আলাম।

সুম্মা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আন আবি বাকরিন ওয়া উমারা ওয়া উসমানা ওয়া আলিয়্যিন জিল কারাম।

ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন ওয়াল হামদু লাকা ইয়া রাব্বাল আলামিন।

বিহুরমাতি সাইয়্যিদিল মুরসালিন।

তাঁর মুবারক কেশ ছুঁয়ে গেলে ভোরের বাতাস,
মেশক-আম্বরের সুবাসে ভরে যেত চারপাশ।
তাঁর মুক্তার মতো দাঁতের দ্যুতিতে রাতের বেলা
সুই পড়ে গেলেও খুঁজে পাওয়া যেত, হে বন্ধু।
তাঁর নূরানি বক্ষের আলোয় আঁধার রাতে পথ চলত যুবক ও বৃদ্ধ সকলে।
হকের সেই প্রিয়তম যখন ইশারা করলেন
আঙুল তুলে চাঁদের দিকে, চাঁদ দুই টুকরো হলো।
ঘামলে তাঁর প্রতিটি ঘামের ফোঁটা গোলাপ হয়ে যেত,
মানুষ আনন্দে তাঁর ঘাম থেকে গোলাপ কুড়াত।
জগতের সেই সম্রাট খেজুরের চারা রোপণ করলেন,
রোপণের সেই মুহূর্তেই তাতে ফল ধরল।
তাঁর মুজিযার কথা হাশর পর্যন্ত অবিরাম বলা হলেও
কত হাশর পেরিয়ে যাবে, তবু তা শেষ হবে না।
যদি চাও আগুন থেকে মুক্তি পেতে,
প্রেম নিয়ে, ব্যথা নিয়ে দরুদ পড়ো সবাই।
আসসালাতু ওয়াসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ!
আসসালাতু ওয়াসসালামু আলাইকা ইয়া হাবিবাল্লাহ!
আসসালাতু ওয়াসসালামু আলাইকা ইয়া নূরা আরশিল্লাহ!