আমার প্রিয় নবী

ঘটনাপঞ্জি

টীকা: (ব.) – বিসতের বছর, (খ্রি.) – খ্রিস্টাব্দ, (হি.) – হিজরি বছর নির্দেশ করে।

খ্রি. ৫৭০ হযরত আবদুল্লাহ ও হযরত আমিনার বিয়ে। আমাদের প্রিয় নবীর নূর মুবারক তাঁর মায়ের কাছে স্থানান্তরিত হওয়া (জমাদিউল আউয়াল / জুলাই)। প্রাচুর্যের বছর। রাসূলুল্লাহর পিতা হযরত আবদুল্লাহর ইন্তেকাল (রজব / সেপ্টেম্বর)।

৫৭১ হস্তী-বাহিনীর ঘটনা (মুহাররম / ফেব্রুয়ারি)। বিশ্বজগতের সুলতান মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের জন্ম (১২ রবিউল আউয়াল, সোমবার / ২০ এপ্রিল; হিজরতের ৫৩ (সৌরবর্ষের হিসাবে ৫১) বছর আগে, হস্তী-বাহিনীর ঘটনার ৫৫ দিন পর)। দুধমা হালিমার কাছে তাঁকে সোপর্দ করা (রবিউস সানি)।

৫৭৩ হযরত আবু বকরের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জন্ম।

৫৭৬ দুধমা কর্তৃক তাঁকে মক্কায় এনে মা আমিনার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।

৫৭৭ আমাদের প্রিয় নবীর মা আমিনার আবওয়ায় ইন্তেকাল। উম্মে আইমান কর্তৃক রাসূলুল্লাহকে মক্কায় তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিবের কাছে সোপর্দ করা। হযরত উসমানের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জন্ম।

৫৭৯ দাদা আবদুল মুত্তালিবের ইন্তেকাল এবং চাচা আবু তালিবের কাছে তাঁকে আমানত রাখা।

৫৮৩ চাচা আবু তালিবের সঙ্গে শামের বাণিজ্য কাফেলায় যাত্রা করে বুসরা থেকে ফিরে আসা। হযরত উমরের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জন্ম।

৫৮৮ চাচা জুবাইরের সঙ্গে ইয়েমেন সফর।

৫৯১ হযরত আবু বকরের সঙ্গে শাম সফর। রাসূলুল্লাহর হিলফুল ফুজুল সংঘে যোগদান।

৫৯৫ হযরত খাদিজার বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে বুসরা নগরে গমন।

৫৯৬ হযরত খাদিজার সঙ্গে বিয়ে।

৫৯৯ হযরত আলির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জন্ম।

৬০০ উকাজ মেলায় কুস ইবনে সাইদার এমন এক ভাষণ, যাতে তিনি রাসূলুল্লাহর নবুয়তের সুসংবাদ দেন।

৬০৫ কাবা সংস্কারের সময় হাজরে আসওয়াদ যথাস্থানে স্থাপনের ব্যাপারে তাঁর মীমাংসাকারী (সালিস) হওয়া।

ব.১/৬১০ বিসত: চল্লিশ বছর বয়সে তাঁকে তাঁর নবুয়তের কথা জানানো (১৭ রমজান, সোমবার)। হেরা পাহাড়ের (জাবালে নূরের) গুহায় প্রথম ওহী (সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত নাজিল হওয়া) (রমজান / আগস্ট)।

২/৬১১ ওহী কিছুদিন বন্ধ থাকায় জিবরাইল আলাইহিস সালামকে দেখার আকাঙ্ক্ষায় মহানবীর বারবার হেরা পাহাড়ের গুহায় যাওয়া। ইসরাফিল আলাইহিস সালামের আগমন এবং তাঁকে কিছু বিষয় শিক্ষা দেওয়া।

৩/৬১২ প্রথম মুসলমানগণ: হযরত খাদিজা, আবু বকর সিদ্দিক, আলি ইবনে আবি তালিব, জায়েদ ইবনে হারিসা (ও তাঁর স্ত্রী উম্মে আইমান), উসমান ইবনে আফফান, তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ, জুবাইর ইবনে আওয়াম, আবদুর রহমান ইবনে আওফ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস।

৪/৬১৩ নিকটাত্মীয়দের দিয়ে শুরু করে রাসূলুল্লাহর মানবজাতিকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া। মুশরিকদের দ্বারা মুসলমানদের ওপর জুলুম ও নির্যাতন শুরু। প্রথম শহিদগণ: হযরত ইয়াসির, তাঁর পুত্র হযরত আবদুল্লাহ ও তাঁর স্ত্রী হযরত সুমাইয়া। হযরত আয়েশার (রাদিয়াল্লাহু আনহা) জন্ম।

৫/৬১৪ হাবশায় (আবিসিনিয়ায়) প্রথম হিজরত (রজব / মে)। মুহাজিরগণের হাবশা থেকে মক্কায় ফিরে আসা (শাওয়াল / জুলাই)।

৬/৬১৫ হযরত হামজার ইসলাম গ্রহণ। হযরত উমরের ইসলাম গ্রহণ। হাবশায় দ্বিতীয় হিজরত। রাসূলুল্লাহ ও মুসলমানদের দারুল আরকাম থেকে বেরিয়ে আসা।

৭/৬১৬ অবরোধের সূচনা (মুহাররম)।

৮/৬১৭ হযরত উসমান ও তাঁর স্ত্রী হযরত রুকাইয়ার হাবশা থেকে ফিরে আসা।

৯/৬১৮ শাক্কুল কামারের মুজিযা: রাসূলুল্লাহর ইশারায় চাঁদ দুই টুকরা হওয়া।

১০/৬১৯ অবরোধের অবসান।

১০/৬২০ আবু তালিবের ইন্তেকাল (৭ রমজান / এপ্রিল)। আমাদের মা হযরত খাদিজার ইন্তেকাল (১০ রমজান / এপ্রিল)। হযরত সাওদা বিনতে জামআর সঙ্গে রাসূলুল্লাহর বিয়ে (রমজান / মে)। জায়েদ ইবনে হারিসাকে সঙ্গে নিয়ে রাসূলুল্লাহর তায়েফ গমন (শাওয়াল / মে)। নুসাইবিনের জিনদের ইসলাম গ্রহণ। রাসূলুল্লাহর তায়েফ থেকে মক্কায় ফিরে আসা (২৩ জিলকদ)। আকাবার সাক্ষাৎ (১০ জিলহজ / ১৭ জুলাই)।

১১/৬২১ মিরাজের মুজিযা এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়া (২৭ রজব)। কাবা শরীফের দরজার পাশে জিবরাইল আলাইহিস সালামের দুই দিন রাসূলুল্লাহর ইমাম হওয়া। (মিরাজের তারিখ সম্পর্কে অন্য বর্ণনাও আছে। মিরাজ বহুবার হয়েছে। তার একটি হয়েছিল জাগ্রত অবস্থায় ও দেহ মুবারকসহ। বাকিগুলো হয়েছিল কেবল রুহ মুবারকের মাধ্যমে।)

হযরত আয়েশার সঙ্গে রাসূলুল্লাহর বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়া (শাওয়াল)। আকাবার প্রথম বাইআত (১০ জিলহজ / ৬ জুলাই, সোমবার)। ইসলাম শিক্ষা দেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহর মুসআব ইবনে উমাইরকে মদিনায় পাঠানো।

১২/৬২২ সানাতুস সুরুর (আনন্দের বছর): মদিনাবাসীর অধিকাংশের ইসলাম গ্রহণ। আকাবার দ্বিতীয় বাইআত (১২ জিলহজ / ২৮ জুন, সোমবার)।

১৩/১/৬২২ বিসতের ১৩তম, হিজরতের ১ম, খ্রিস্টাব্দের ৬২২তম বছর। হিজরি সন: মুসলমানদের হিজরি চান্দ্রবর্ষ গণনার সূচনা (১ মুহাররম / ১৬ জুলাই)। সানাতুল ইজন: মুসলমানদের মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের অনুমতি দেওয়া। মুশরিকদের দারুন নাদওয়ায় সমবেত হয়ে রাসূলুল্লাহকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া (২৫ সফর / ৮ সেপ্টেম্বর)। হিজরত: হযরত আবু বকরকে সঙ্গে নিয়ে রাসূলুল্লাহর সাওর গুহার দিকে যাত্রা (২৬ সফর, বৃহস্পতিবার / ৯ সেপ্টেম্বর)। সাওর পাহাড়ের গুহা থেকে মদিনার পথে যাত্রা (১ রবিউল আউয়াল, সোমবার / ১৩ সেপ্টেম্বর)। কুবা গ্রামে পৌঁছানো (৮ রবিউল আউয়াল, সোমবার / ২০ সেপ্টেম্বর)। কুবা মসজিদ নির্মাণ (৮–১১ রবিউল আউয়াল / ২০–২৩ সেপ্টেম্বর)। কুবা ও মদিনার মাঝে রানুনা উপত্যকার নামাজের স্থানে রাসূলুল্লাহর প্রথম জুমার নামাজ পড়ানো (১২ রবিউল আউয়াল, শুক্রবার / ২৪ সেপ্টেম্বর)। মদিনায় পৌঁছানো (১২ রবিউল আউয়াল, শুক্রবার / ২৪ সেপ্টেম্বর)। আবু আইয়ুব আনসারির ঘরে মেহমান হওয়া। মসজিদে নববির নির্মাণকাজ শুরু (রবিউল আউয়াল / সেপ্টেম্বর)। পরিবারের সদস্যদের মদিনায় আগমন। দিনে পাঁচবার আজানে মুহাম্মদি দেওয়া শুরু হওয়া। সালমান ফারসির ইসলাম গ্রহণ।

হি.১/৬২৩ মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন। প্রথম লিখিত চুক্তি: মদিনা সনদ এবং মদিনা উপত্যকাকে হারাম (পবিত্র এলাকা) হিসেবে নির্ধারণ (রমজান / মার্চ)। যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া। প্রথম সারিয়্যা: হযরত হামজার ইস / সিফুল বাহর সারিয়্যা (রমজান / মার্চ)। মসজিদে নববির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হওয়া (শাওয়াল / এপ্রিল)। মসজিদে নববিতে সুফফা প্রতিষ্ঠা। মদিনায় বাজার ও হাটের স্থান প্রতিষ্ঠা। মুসলমানদের প্রথম আদমশুমারি। উবাইদা ইবনে হারিসের রাবিগ অভিযান (শাওয়াল / এপ্রিল)।

সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের খাররার সারিয়্যা (জিলকদ / মে)। আসআদ ইবনে জুরারা, বারা ইবনে মারুর ও কুলসুম ইবনে হিদমের ইন্তেকাল। উসমান ইবনে মাজউনের ইন্তেকাল এবং জান্নাতুল বাকিকে কবরস্থান হিসেবে নির্ধারণ (জিলহজ / জুন)।

২/৬২৩ রাসূলুল্লাহর প্রথমবার আশুরার দিন রোজা রাখা (১০ মুহাররম / ১৪ জুলাই)। প্রথম গাজওয়া: আবওয়া (ওয়াদ্দান) গাজওয়া (১২ সফর / ১৫ আগস্ট)। বুওয়াত গাজওয়া (১ রবিউল আউয়াল / ২ সেপ্টেম্বর)। প্রথম বদর (সাফওয়ান) গাজওয়া (রবিউল আউয়াল / সেপ্টেম্বর)। জুল উশাইরা গাজওয়া (১ জমাদিউল আউয়াল / ৩১ অক্টোবর)।

২/৬২৪ আবদুল্লাহ ইবনে জাহশের বাতনে নাখলা সারিয়্যা (২০ রজব / ১৭ জানুয়ারি)। হযরত আলি ও হযরত ফাতিমার বিয়ের আকদ (রজব / জানুয়ারি)। কিবলা মসজিদুল আকসা থেকে মসজিদুল হারাম / কাবার দিকে ফেরানো (১১ শাবান, মঙ্গলবার / ৭ ফেব্রুয়ারি)। রোজা ফরজ হওয়া (শাবান / ফেব্রুয়ারি)। তারাবির নামাজ আদায় শুরু (১ রমজান / ২৬ ফেব্রুয়ারি)। হাবশায় থাকা সাহাবীদের মধ্য থেকে আরও ৩৩ জনের বদরের আগে মক্কায় ফিরে আসা। তাঁদের ২ জন মক্কা মুকাররমায় ইন্তেকাল করেন, ৭ জন মুশরিকদের হাতে বন্দি হন, ২৪ জন মদিনা মুনাওয়ারায় পৌঁছে বদরের যুদ্ধে অংশ নেন। বদরের যুদ্ধ (১৭ রমজান / ১৩ মার্চ)। আবু জাহলের নিহত হওয়া। রাসূলুল্লাহর কন্যা হযরত রুকাইয়ার ইন্তেকাল (রমজান / মার্চ)। যাকাত ফরজ হওয়া (রমজান / মার্চ)। সদকাতুল ফিতরের (ফিতরার) আদেশ (রমজান / মার্চ)। প্রথম ঈদুল ফিতর ও ঈদের নামাজ আদায় (১ শাওয়াল / ২৭ মার্চ)। হযরত আয়েশার সঙ্গে রাসূলুল্লাহর দাম্পত্য জীবনের সূচনা (শাওয়াল / এপ্রিল)। মক্কা থেকে মদিনায় আসার পথে হযরত জয়নবের ওপর হামলা (শাওয়ালের শুরু / মার্চ)। কারকারাতুল কুদর গাজওয়া (৫ শাওয়াল / ৩১ মার্চ)। বনু কাইনুকা গাজওয়া (১৫ শাওয়াল / ১০ এপ্রিল)। সাওইক গাজওয়া (৫ জিলহজ / ২৯ মে)। হযরত আলি ও হযরত ফাতিমার দাম্পত্য জীবনের সূচনা (জিলহজ / মে)। প্রথম ঈদুল আজহা পালন (১০ জিলহজ / ৩ জুন)।

৩/৬২৪ কাব ইবনে আশরাফের নিহত হওয়া (৪ রবিউল আউয়াল / ২৫ আগস্ট)। আনমার (গাতাফান, জি আমর) গাজওয়া (১২ রবিউল আউয়াল / ২ সেপ্টেম্বর)। বাহরান (নাজরান) গাজওয়া (৬ জমাদিউল আউয়াল / ২৫ অক্টোবর)। হযরত উম্মে কুলসুমের সঙ্গে হযরত উসমানের বিয়ে (জমাদিউস সানি)।

৩/৬২৫ হযরত হাফসার সঙ্গে রাসূলুল্লাহর বিয়ে (শাবান / জানুয়ারি)। হযরত হাসানের জন্ম (১৫ রমজান / ১ মার্চ)। হযরত জয়নব বিনতে খুজাইমার সঙ্গে রাসূলুল্লাহর বিয়ে (রমজান)।

উহুদের যুদ্ধ (৭ শাওয়াল, শনিবার / ২৩ মার্চ)। হামরাউল আসাদ গাজওয়া (১৬ শাওয়াল / ১ এপ্রিল)।

৪/৬২৫ আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস কর্তৃক খালিদ ইবনে সুফিয়ানকে হত্যা (৫ মুহাররম / ১৭ জুন)। রাজির ঘটনা (সফর / জুলাই)। বিরে মাউনার ঘটনা (১৯ সফর / ৩১ জুলাই)। বনু নাজির গাজওয়া (রবিউল আউয়াল / আগস্ট)। মদ আংশিকভাবে হারাম হওয়া (রবিউল আউয়াল / আগস্ট–সেপ্টেম্বর)। আমাদের মা হযরত জয়নব বিনতে খুজাইমার ইন্তেকাল (রবিউস সানি / সেপ্টেম্বর)। হযরত উসমান ও হযরত রুকাইয়ার পুত্র আবদুল্লাহর ইন্তেকাল (জমাদিউল আউয়াল / অক্টোবর)। আবু সালামার ইন্তেকাল (২৩ জমাদিউস সানি / ৩০ নভেম্বর)।

৪/৬২৬ হযরত হুসাইনের জন্ম (৫ শাবান / ১০ জানুয়ারি)। হযরত উম্মে সালামার সঙ্গে রাসূলুল্লাহর বিয়ে (শাওয়াল মাসের শেষ / এপ্রিলের শুরু)। ফাতিমা বিনতে আসাদের ইন্তেকাল। ছোট বদর গাজওয়া (১ জিলকদ / ৪ এপ্রিল)।

৫/৬২৬ জাতুর রিকা গাজওয়া (১০ মুহাররম / ১১ জুন)। দুমাতুল জান্দাল গাজওয়া (২৫ রবিউল আউয়াল / ২৪ আগস্ট)। ইসলাম গ্রহণকারী বনু মুজাইনার প্রতিনিধিদলের মদিনায় আগমন (রজব / ডিসেম্বর)। মুরাইসি (বনু মুস্তালিক) গাজওয়া (২ শাবান / ২৭ ডিসেম্বর)। হযরত আয়েশার প্রতি অপবাদ আরোপ। তায়াম্মুমের আয়াত নাজিল হওয়া।

৫/৬২৭ হযরত জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিসের সঙ্গে রাসূলুল্লাহর বিয়ে (শাবান)। খন্দকের (আহজাবের) যুদ্ধ (শাওয়াল / মার্চ)। বনু কুরাইজা গাজওয়া (২৩ জিলকদ / ১৫ এপ্রিল)। হযরত জয়নব বিনতে জাহশের সঙ্গে রাসূলুল্লাহর বিয়ে (১ জিলকদ / ২৪ মার্চ)। হযরত রায়হানা বিনতে আমরের সঙ্গে রাসূলুল্লাহর বিয়ে (জিলহজ / এপ্রিল–মে)।

৬/৬২৭ মুহাম্মদ ইবনে মাসলামার কুরতা সারিয়্যা (১০ মুহাররম / ১ জুন)। হযরত আলির বনু সাদ ইবনে ফাদাক সারিয়্যা। গাবা (জি কারাদ) গাজওয়া (২ রবিউল আউয়াল / ২২ জুলাই)। গামরা সারিয়্যা (রবিউল আউয়াল)। মুহাম্মদ ইবনে মাসলামার জুল কাসসা সারিয়্যা (রবিউল আউয়াল)। আবু উবাইদা ইবনে জাররাহর জুল কাসসা সারিয়্যা (রবিউস সানি / সেপ্টেম্বর)। জায়েদ ইবনে হারিসার জামুম সারিয়্যা (রবিউস সানি)।

বনু লিহইয়ান গাজওয়া (১ জমাদিউল আউয়াল / ১৮ সেপ্টেম্বর)। জায়েদ ইবনে হারিসার ইস অনুসন্ধানী সারিয়্যা (জমাদিউল আউয়াল)। আবুল আসের ইসলাম গ্রহণ। জায়েদ ইবনে হারিসার তারাফ সারিয়্যা (জমাদিউস সানি / অক্টোবর–নভেম্বর)। জায়েদ ইবনে হারিসার ওয়াদিল কুরা সারিয়্যা (রজব / নভেম্বর–ডিসেম্বর)। জায়েদ ইবনে হারিসার শাম সফর / বাণিজ্য কাফেলা (রজব)। আবদুর রহমান ইবনে আওফের দুমাতুল জান্দাল সারিয়্যা (শাবান / ডিসেম্বর)। জায়েদ ইবনে হারিসার মাদইয়ান সারিয়্যা (শাবান / ডিসেম্বর)। হযরত আলির ফাদাক সারিয়্যা (শাবান / ডিসেম্বর)।

৬/৬২৮ জায়েদ ইবনে হারিসার উম্মে কিরফা সারিয়্যা (রমজান / জানুয়ারি)। মদিনায় খরা দেখা দেওয়া / বৃষ্টির দোয়ার জন্য বের হওয়া (রমজান)। আবদুল্লাহ ইবনে আতিকের আবু রাফি সারিয়্যা (রমজান / জানুয়ারি)। আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার খায়বার অনুসন্ধানী সারিয়্যা (রমজান / ফেব্রুয়ারি)। আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার উসাইর ইবনে জারিম সারিয়্যা (শাওয়াল / ফেব্রুয়ারি)। কুরজ ইবনে জাবির ফিহরির সারিয়্যা (জিলকদ / মার্চ)। উমরার সফর (২ জিলকদ / ১৪ মার্চ)। বাইআতে রিদওয়ান (জিলকদ / মার্চ–এপ্রিল)। হুদাইবিয়ার সন্ধি (জিলহজ / এপ্রিল)। সূরা ফাতহ নাজিল হওয়া। বনু খুজাআ, বনু আসলাম ও বনু খুশানির প্রতিনিধিদলের মদিনায় এসে ইসলাম গ্রহণ। মদ চূড়ান্তভাবে হারাম হওয়া। রাসূলুল্লাহর উট ও ঘোড়দৌড়ের অনুমতি দেওয়া।

৬, ৭/৬২৮ রাসূলুল্লাহর ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি পাঠানো (জিলহজ মাসের শেষ দিনগুলো – মুহাররম মাসের শুরু / মে)।

৭/৬২৮ জায়েদ ইবনে হারিসার হিসমা সারিয়্যা (জমাদিউস সানি)। হাবশার নাজাশি আসহামার ইসলাম গ্রহণ। হযরত উম্মে হাবিবার বিয়ের আকদ। মিসরের মুকাওকিস কর্তৃক মারিয়াকে রাসূলুল্লাহর কাছে পাঠানো। আমাদের মা হযরত আয়েশার মা উম্মে রুমানের (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ইন্তেকাল। আবুল আসের ইসলাম গ্রহণ এবং রাসূলুল্লাহর কন্যা জয়নবের সঙ্গে তাঁর পুনরায় বিয়ে (মুহাররম / মে)। খায়বার অভিযান (মুহাররমের শেষ – সফর / জুন)। জয়নব বিনতে হারিস কর্তৃক রাসূলুল্লাহকে বিষ প্রয়োগের অপচেষ্টা। হাবশায় হিজরতকারী সাহাবীদের অবশিষ্টদেরও মদিনায় ফিরে আসা (সফর)। আশআরিগণের মদিনায় এসে সাহাবায়ে কেরামের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মর্যাদা লাভ।

লাইলাতুত তারিস: সাহাবীদের সঙ্গে রাসূলুল্লাহর ঘুমিয়ে পড়া এবং ফজরের নামাজের জন্য জাগতে না পারা। হযরত উম্মে হাবিবার সঙ্গে রাসূলুল্লাহর দাম্পত্য জীবনের সূচনা। রাসূলুল্লাহর দুধমা সুওয়াইবার ইন্তেকাল। ইয়েমেনের শাসক বাজানের ইসলাম গ্রহণ (জমাদিউল আউয়াল / সেপ্টেম্বর)। হযরত আলির আসরের নামাজ আদায়ের জন্য দিগন্ত থেকে সূর্য ফিরে আসার মুজিযা। ওয়াদিল কুরা গাজওয়া (জমাদিউস সানি / অক্টোবর)। হযরত সাফিয়া বিনতে হুয়াইয়ের সঙ্গে রাসূলুল্লাহর বিয়ে। হযরত উমরের তুরাবা সারিয়্যা (শাবান / ডিসেম্বর)। হযরত আবু বকরের নজদ সারিয়্যা (শাবান / ডিসেম্বর)। বশির ইবনে সাদ আনসারির ফাদাক / মুররা সারিয়্যা (শাবান / ডিসেম্বর)।

৭/৬২৯ গালিব ইবনে আবদুল্লাহ লাইসির মাইফাআ সারিয়্যা (রমজান / জানুয়ারি)। বশির ইবনে সাদ আনসারির জিনাব সারিয়্যা (শাওয়াল / ফেব্রুয়ারি)। উমরাতুল কাজার সফর (জিলকদ – জিলহজ / মার্চ)। মাইমুনা বিনতে হারিসের সঙ্গে রাসূলুল্লাহর বিয়ে (জিলকদ / মার্চ)।

৮/৬২৯ রাসূলুল্লাহর কন্যা হযরত জয়নবের ইন্তেকাল (সফর)। খালিদ ইবনে ওয়ালিদ, আমর ইবনে আস ও উসমান ইবনে তালহার ইসলাম গ্রহণ (সফর)। গালিব ইবনে আবদুল্লাহর কুদাইদ সারিয়্যা (সফর / জুন)। গালিব ইবনে আবদুল্লাহর ফাদাক সারিয়্যা (সফর / জুন)। মুতার যুদ্ধ (জমাদিউল আউয়াল / সেপ্টেম্বর)। আমর ইবনে আসের জাতুস সালাসিল সারিয়্যা (জমাদিউস সানি / অক্টোবর)। কুরাইশরা হুদাইবিয়ার সন্ধি ভঙ্গ করার পর আবু সুফিয়ানের সন্ধির চেষ্টা।

৮/৬৩০ মক্কা বিজয়ের জন্য রাসূলুল্লাহর যাত্রা (১০ রমজান / ১ জানুয়ারি)। মক্কা বিজয় (২০ রমজান, বৃহস্পতিবার / ১১ জানুয়ারি)। আবওয়ায় রাসূলুল্লাহর মা হযরত আমিনার কবর জিয়ারত। মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলা। হুনাইনের যুদ্ধ (১১ শাওয়াল / ১ ফেব্রুয়ারি)। দুধবোন শায়মার সঙ্গে রাসূলুল্লাহর সাক্ষাৎ। তায়েফ গাজওয়া (শাওয়াল / ফেব্রুয়ারি)। জিরানায় রাসূলুল্লাহর হুনাইনের গনিমত বণ্টন (৫–১৮ জিলকদ / ২৪ ফেব্রুয়ারি – ৯ মার্চ)। রাসূলুল্লাহর উমরা আদায় (১৯ জিলকদ / ১০ মার্চ)। মসজিদে নববির জন্য তিন ধাপের একটি মিম্বর তৈরি। রাসূলুল্লাহর পুত্র ইবরাহিমের জন্ম (জিলহজ)।

৯/৬৩০ রাসূলুল্লাহর কয়েকটি গোত্রের কাছে যাকাত আদায়কারী পাঠানো (মুহাররম / এপ্রিল–মে)। উয়াইনা ইবনে হিসন ফাজারির সারিয়্যা (মুহাররম)। তাবুক অভিযান (রজব / অক্টোবর)। খালিদ ইবনে ওয়ালিদের দুমাতুল জান্দাল সারিয়্যা (রজব)। মুনাফিকদের মসজিদে জিরার রাসূলুল্লাহর আদেশে ভেঙে ফেলা। হাবশার বাদশাহ নাজাশি আসহামার ইন্তেকাল (রজব / অক্টোবর)। হযরত আবু বকরের রামল সারিয়্যা (শাবান)। রাসূলুল্লাহর কন্যা হযরত উম্মে কুলসুমের ইন্তেকাল (শাবান)। রাসূলুল্লাহর হিরাক্লিয়াসের কাছে দ্বিতীয়বার ইসলামের দাওয়াতের চিঠি পাঠানো। সানাতুল উফুদ (প্রতিনিধিদলের বছর)। কাব ইবনে জুহাইরের ইসলাম গ্রহণ এবং রাসূলুল্লাহর তাঁকে নিজের চাদর উপহার দেওয়া।

৯/৬৩১ মুনাফিকদের নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের মৃত্যু (জিলকদ)। হজ ফরজ হওয়া। হযরত আবু বকরকে হজের আমির নিযুক্ত করা (জিলকদ – জিলহজ / ফেব্রুয়ারি–মার্চ)। সূরা বারাআতের প্রথম অংশ প্রচারের জন্য হযরত আলিকেও মক্কায় পাঠানো (জিলহজ / মার্চ)।

১০/৬৩১ খালিদ ইবনে ওয়ালিদের বনু হারিস সারিয়্যা (রবিউল আউয়াল / জুন)। হযরত আলির ইয়েমেন / মাজহিজ সারিয়্যা (রমজান / ডিসেম্বর)। ইয়েমেনের শাসনকর্তা বাজানের ইন্তেকাল। নাজাশির বোনের ছেলে ফিরোজের ইসলাম গ্রহণ। মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের নবুয়ত দাবি। রমজান মাসে জিবরাইল আলাইহিস সালামের রাসূলুল্লাহকে সম্পূর্ণ পবিত্র কুরআন দুইবার পড়ে শোনানো।

১০/৬৩২ রাসূলুল্লাহর পুত্র ইবরাহিমের ইন্তেকাল। বিদায় হজ: হজের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহর মদিনা থেকে যাত্রা (২৫ জিলকদ / ২২ ফেব্রুয়ারি)। রাসূলুল্লাহর বিদায় হজের খুতবা প্রদান (৯ জিলহজ / ৭ মার্চ)। বিদায়ী তাওয়াফ (১৪ জিলহজ / ১২ মার্চ, বৃহস্পতিবার)। হযরত রায়হানা বিনতে আমরের ইন্তেকাল।

১১/৬৩২ শামে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত বাহিনীর সেনাপতি হিসেবে উসামা ইবনে জায়েদকে নিযুক্ত করা। রাসূলুল্লাহর মাথাব্যথা শুরু হওয়া (২৬ সফর / ২৪ মে, রবিবার)। রাসূলুল্লাহর জ্বর তীব্র হওয়া, জ্বরের (হুম্মা) অসুখ শুরু হওয়া (২৭ সফর / ২৫ মে, সোমবার)। নবুয়ত দাবিকারী আসওয়াদ আনসির নিহত হওয়া (৮ রবিউল আউয়াল / ৪ জুন, বৃহস্পতিবার)। রাসূলুল্লাহর হযরত আবু বকরকে ইমামতির দায়িত্ব দেওয়া (৮ রবিউল আউয়াল / ৪ জুন, এশার নামাজ)।

হযরত আবু বকর সিদ্দিকের ইকতিদা করে রাসূলুল্লাহর শেষ নামাজ আদায় (১২ রবিউল আউয়াল, সোমবার, ফজরের নামাজ)। রাসূলুল্লাহর ইন্তেকাল (১২ রবিউল আউয়াল / ৮ জুন, সোমবার, দুপুরের আগে)। হযরত আবু বকরের খলিফা নির্বাচিত হওয়া (১২ রবিউল আউয়াল / ৮ জুন, সোমবার)। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে (বুধবারের রাতে) মধ্যরাতে রাসূলুল্লাহর দাফন। উসামা ইবনে জায়েদকে মুরতাদদের বিরুদ্ধে পাঠানো (১৬ রবিউল আউয়াল / ১২ জুন, শুক্রবার)। উসামা ইবনে জায়েদের বিজয়ী হয়ে ফিরে আসা (২৬ রবিউস সানি / ২২ জুলাই, বুধবার)।

আমি কে, আর কী আছে আমার?

এই বাগানে আমার জন্য নেই গোলাপ, নেই টিউলিপ,
এই বাজারে নেই কেনাবেচা, নেই টাকাকড়ির হিসাব,
নেই ক্ষমতা, নেই কর্তৃত্ব, নেই ধনসম্পদ, নেই রাজত্ব,
নেই দুঃখ, নেই আনন্দ, নেই মলম, নেই কোনো ক্ষত।
এ দুনিয়ায় যদি জানতাম – আমি কে, আর কী আছে আমার?
অস্তিত্ব – ঐশী অনুগ্রহ, জীবন – করিমের রহমত!
মুখ – রহমানের দান, বাণী – চিরন্তনের অনুগ্রহ!
দেহ – আল্লাহর গড়া ঘর, রুহ – সম্মানে ফুঁকে দেওয়া শ্বাস,
শক্তি – কুদরতের দান, অনুভূতি – প্রজ্ঞাময়ের স্থাপন!
এ দুনিয়ায় যদি জানতাম – আমি কে, আর কী আছে আমার?
এ দুনিয়ায় সত্যি বলতে আমার কিছুই নেই,
যা আছে সবই তাঁর, তাঁর রাজত্বে কোনো শরিক নেই।
দুনিয়ায় আসা-যাওয়াও আমার হাতে নেই,
“এ আমার” – বলার মতো ভরসার কোনো দলিল নেই।
এ দুনিয়ায় যদি জানতাম – আমি কে, আর কী আছে আমার?
আমার অস্তিত্ব এক দৃশ্য মাত্র, রুহ আমার এক আমানত,
“আমি” বলাটাও তাঁর কাছে অতি কুৎসিত এক শিরক,
বান্দার ওপর যে দায়িত্ব – মালিকের আনুগত্য,
আমাকে তাঁর “আমার বান্দা!” বলা – অনুগ্রহ আর দয়া।
এ দুনিয়ায় যদি জানতাম – আমি কে, আর কী আছে আমার?
আমি দরিদ্র, মুখাপেক্ষী; প্রাচুর্য আর দান – হকের,
“অনস্তিত্ব” আমার পুঁজি, অস্তিত্ব আর জীবন – হকের,
আজল ও আবাদ, প্রতাপ আর বিজয়ও – হকের,
দুনিয়া ও আখিরাতে যা কিছু দেখা যায় – হকের।
এ দুনিয়ায় যদি জানতাম – আমি কে, আর কী আছে আমার?

খাওয়া, পান করা, স্বাদ – তাঁর রাজ্জাক1 গুণ থেকে,
স্বস্তির একটি নিঃশ্বাস – আল্লাহর রহমত থেকে,
যত কল্যাণ আসে, সবই তাঁর দান থেকে,
সবচেয়ে বড় নিয়ামত ঈমানও – তাঁরই কাছ থেকে।
এ দুনিয়ায় যদি জানতাম – আমি কে, আর কী আছে আমার?
নসিবে না থাকলে রিজিক আসে না আকাশ বা মাটি থেকে,
না ঘাস থেকে, না গোশত থেকে, মোটকথা কোনো হাত থেকে।
যা নির্ধারিত, তা আসবেই, ভাবনায় না থাকলেও,
কম-বেশি আসে না রিজিক, যা নির্ধারিত তার থেকে।
এ দুনিয়ায় যদি জানতাম – আমি কে, আর কী আছে আমার?
কালো রাতকে দিন, দিনকে সন্ধ্যা করতে পারি না,
বরফ-পানিকে আগুন, রুপাকে টাংস্টেন করতে পারি না,
পৃথিবীকে থামিয়ে দিয়ে তছনছ করতে পারি না,
শীতের তুষার-মেঘকে এপ্রিলের মেঘ করতে পারি না।
এ দুনিয়ায় যদি জানতাম – আমি কে, আর কী আছে আমার?
অনস্তিত্বে থাকতেই আমার রব এক মুহূর্তে বেছে নিলেন আমায়,
মায়ের গর্ভেই প্রস্তুত করে রাখলেন আমার খাবার,
ফেরেশতাদের আদেশ দিয়ে নিয়োজিত করলেন আমার সেবায়,
দুনিয়ায় এনে আমাকে করলেন নিজের জন্য পর্দা।
এ দুনিয়ায় যদি জানতাম – আমি কে, আর কী আছে আমার?