আমার প্রিয় নবী

লাইলাতুত তারিসের ঘটনা

খায়বার অভিযান থেকে ফেরার পথে তাঁরা তারিস নামক স্থানে বিশ্রামের জন্য যাত্রাবিরতি করলেন। সেই রাতে রাসূলুল্লাহ হযরত বিলালকে ডেকে বললেন, “হে বিলাল! আজ রাতে ঘুমিয়ো না! ভোরের দিকে খেয়াল রেখো এবং আমাদের নামাজের জন্য জাগিয়ে দিয়ো।” তারপর রাসূলুল্লাহ সাহাবীগণের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়লেন। হযরত বিলাল কিছুক্ষণ নামাজ পড়লেন। তারপর পূর্ব দিকে মুখ করে নিজের মালপত্রের বোঝায় পিঠ হেলান দিলেন। নামাজের ওয়াক্তের অপেক্ষা করতে করতে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। তাঁরা এতটাই ক্লান্ত ছিলেন যে, সূর্যের আলো পৃথিবী উষ্ণ করে তাঁদের চেহারায় এসে না পড়া পর্যন্ত কেউ চোখ খুলতে পারলেন না। সবার আগে রাসূলুল্লাহ জাগলেন। তাঁরা উঠে অজু করলেন। হযরত বিলাল ইকামত দিলেন এবং তাঁরা জামাআতের সঙ্গে ফজরের নামাজ কাজা আদায় করলেন। নামাজ শেষে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করলেন, “কেউ যদি নামাজের কথা ভুলে যায়, তাহলে যখনই মনে পড়বে, তখনই যেন তা আদায় করে নেয়। কেননা হক তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আকিমিস সালাতা লিজিকরি (আমাকে স্মরণ করার জন্য, আমার মহিমা স্মরণ করার জন্য নামাজ কায়েম করো)’।”

হযরত আলির জন্য সূর্যের ফিরে আসা

খায়বার অভিযান থেকে ফেরার পথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহবায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তিনি তাঁর বরকতময় মাথা হযরত আলির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হাঁটুর ওপর রেখেছিলেন। এমন সময় ওহী নাজিল হতে শুরু করল। সূর্য তখন দিগন্তে। হযরত আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তখনো আসরের নামাজ আদায় করেননি। ওহী শেষ হলে সূর্য অস্ত গেল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দোয়া করলেন, “হে আমার রব! আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যদি তোমার ও তোমার রাসূলের পক্ষে থাকেন, তাহলে সূর্যকে ফিরিয়ে দাও।” হযরত আলি নামাজ আদায় করার পর সূর্য আবার অস্ত গেল। আসমা বিনতে উমাইস বলেন, “আমি দেখলাম, অস্ত যাওয়া সূর্য আবার উঠে এল এবং পৃথিবী আলোকিত করে দিল।”

ওয়াদিল কুরার যুদ্ধ

এই যুদ্ধ জমাদিউস সানি মাসে ওয়াদিল কুরায় সংঘটিত হয়। রাসূলুল্লাহ ইসলামি বাহিনী নিয়ে ওয়াদিল কুরায় এসেছেন শুনে সেই অঞ্চলের ইহুদিরা আরব মুশরিকদের একটি দলের সহায়তায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলো। তারা নিজেদের জায়গা থেকে বেরিয়ে যুদ্ধের সারি বাঁধল। নবী আলাইহিস সালামও যুদ্ধের বিন্যাসে সারি সাজিয়ে পতাকা সাহাবীগণের একজনের হাতে দিলেন। তিনি কাফিরদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং ইরশাদ করলেন, “তোমরা যদি ঈমান আনো, তাহলে নিজেদের প্রাণ ও সম্পদ রক্ষা করবে।” তারা নসিহত গ্রহণ করল না। মুশরিকদের একজন ময়দানে বেরিয়ে দ্বন্দ্বযুদ্ধের আহ্বান জানাল। জুবাইর ইবনে আওয়াম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে হত্যা করলেন। আরেকজন হযরত আলির সামনে এল। হযরত ইমাম সেই কাফিরকে তৎক্ষণাৎ জাহান্নামের আগুনে পাঠিয়ে দিলেন। আরও একজন এল; তাকেও তিনি হত্যা করলেন। আবু দুজানা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দুজন ইহুদিকে হত্যা করলেন। সেদিন পনেরোজন কাফির নিহত হলো। সন্ধ্যা হলে দুই পক্ষই নিজ নিজ ছাউনিতে ফিরে গেল। সকালে দুই পক্ষই আবার কোষ থেকে তলোয়ার বের করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলো। সূর্য এক বর্শা পরিমাণ ওপরে উঠলে কাফিরদের মনে ভয় ঢুকে গেল এবং তারা পালিয়ে গেল। মুজাহিদরা প্রচুর সম্পদ ও গনিমত লাভ করলেন। ওয়াদিল কুরার ইহুদিদের এই পরিণতি দেখে তাইমার ইহুদিরাও ভীত হয়ে পড়ল। নিজেদের সম্পত্তি রক্ষার জন্য তারা জিজিয়া দিতে রাজি হলো এবং সন্ধি হলো।

“খায়বার দুর্গের দরজা আমি দৈহিক শক্তিতে নয়, আত্মিক শক্তিতে তুলেছি” হযরত আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)

ওয়াদিল কুরার যুদ্ধ