আমার প্রিয় নবী

সালমান ফারসির ইসলাম গ্রহণ

দিন যতই যাচ্ছিল, ইসলামের নূর ততই ছড়িয়ে পড়ছিল, আর রাসূলুল্লাহর মুবারক নাম যেখানেই শোনা যেত, সেখানেই তা হৃদয়ে স্থান করে নিত। তাঁর আগমনের জন্য যাঁরা ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছিলেন, সেই জ্ঞানী মানুষেরা সত্যের সন্ধানে উদ্বেলিত হৃদয়ে মদিনায় ছুটে এসে ঈমান আনার মর্যাদা লাভ করছিলেন। তাঁদেরই একজন ছিলেন হযরত সালমান ফারসি। তিনি নিজের ইসলাম গ্রহণের কাহিনি এভাবে বর্ণনা করেছেন: – আমি পারস্যের (ইরানের) ইসফাহান শহরের জাই গ্রামের লোক। আমার বাবা ছিলেন গ্রামের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি; আমাদের জমিজমা ও ধনসম্পদ ছিল প্রচুর। আমি ছিলাম পরিবারের একমাত্র সন্তান এবং বাবার একমাত্র আদরের ধন। তাই তিনি আমাকে মেয়েদের মতো আগলে রেখে বড় করেছিলেন। ঘর থেকে বের হতে দিতেন না। তিনি মাজুসি (অগ্নিপূজক) ছিলেন বলে আমাকে মাজুসি ধর্ম নিজের ইচ্ছামতো, পরিপূর্ণভাবে শিখিয়েছিলেন। ঘরে সবসময় একটি আগুন জ্বলত, আর আমরা তার পূজা করতাম, তাকে সিজদা করতাম।

বাবার ধনসম্পদ ও জমিজমা অনেক ছিল বলে একবার তিনি আমাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে বললেন, “বাছা! আমি মারা গেলে এসব সম্পদের মালিক তুমিই হবে; তাই যাও, নিজের সম্পদ ও জমিজমা চিনে নাও।” আমিও “আচ্ছা” বলে আমাদের বাগানগুলো ঘুরে দেখলাম।

একদিন খেতখামার দেখতে গিয়ে আমি একটি গির্জার সামনে পড়লাম। খ্রিস্টানদের কণ্ঠ শুনতে পেলাম; তাদের কাছে গিয়ে দেখলাম, তারা ভেতরে উপাসনা করছে। এর আগে এমন কিছু দেখিনি বলে আমি অবাক হয়ে গেলাম। কারণ আমাদের উপাসনা আগুন জ্বালিয়ে তাকে সিজদা করা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। আর তারা অদৃশ্য এক আল্লাহর উপাসনা করছিল। আমি মনে মনে বললাম, “আল্লাহর কসম, এদের ধর্মই সত্য, আর আমাদেরটা বাতিল।” সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি কৌতূহল নিয়ে তাদের দেখতে থাকলাম। খেতখামারে পৌঁছানোর আগেই অন্ধকার নামতে শুরু করল। আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম, “এই ধর্মের মূল কেন্দ্র কোথায়?” তারা বলল, “দামেস্কে।” তারপর জিজ্ঞেস করলাম, “আমি দামেস্কে গেলে আমাকেও কি গ্রহণ করবে?” তারা উত্তর দিল, “হ্যাঁ, গ্রহণ করবে।” “তোমাদের মধ্যে শীঘ্রই দামেস্কে যাবে এমন কেউ আছে কি?” – জিজ্ঞেস করলে তারা জানাল, কিছুদিন পর একটি কাফেলা রওনা হবে। আমি যাদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তারা সংখ্যায় অল্প ছিল; তারা দামেস্ক থেকে ইসফাহানে এসেছিল। তাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আমার বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে গেল। আমি ফিরছি না দেখে বাবা আমাকে খুঁজতে শুরু করেছিলেন এবং লোক পাঠিয়েছিলেন।

তারা খুঁজেও আমাকে পায়নি। তারা যখন দুশ্চিন্তায় অস্থির, তখন আমি বাড়ি ফিরলাম। বাবা বললেন, “এতক্ষণ কোথায় ছিলে? এমন কোনো জায়গা বাকি নেই, যেখানে তোমাকে খুঁজিনি।” আমি বললাম, “আব্বাজান! আজ আমি খেতখামার ঘুরে দেখতে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু পথে একটি খ্রিস্টান গির্জার সামনে পড়লাম। ভেতরে ঢুকলাম। দেখলাম, তারা এমন এক আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে, যাঁকে তারা দেখে না এবং যিনি সবকিছুর ওপর কর্তৃত্বশীল ও সর্বশক্তিমান। তাদের উপাসনা দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের দেখলাম। বুঝতে পারলাম, তাদের ধর্মই সত্য।” এ কথা শুনে বাবা বললেন, “হে পুত্র! তুমি ভুল ভাবছ; তোমার বাপ-দাদার ধর্ম তাদের ধর্মের চেয়ে বেশি সঠিক। তাদের ধর্ম বিকৃত। খবরদার, ধোঁকা খেয়ো না, বিশ্বাস কোরো না!” আমি বললাম, “না, তাদের ধর্ম আমাদের ধর্মের চেয়ে উত্তম; তাদেরটা সত্য, আমাদেরটা বাতিল।” বাবা এতে ভীষণ রেগে গেলেন এবং আমার হাত-পা বেঁধে আমাকে ঘরে বন্দি করে রাখলেন।

এ অবস্থায় আমি সবসময় দামেস্কগামী কাফেলার খবরের অপেক্ষায় থাকতাম। অবশেষে জানতে পারলাম, খ্রিস্টান পাদরিরা কাফেলা প্রস্তুত করেছে।

আমি বাঁধন খুলে পালালাম এবং কাফেলা যে গির্জায় ছিল, সেখানে গেলাম। এই এলাকায় যে আমি আর থাকতে পারব না, তা তাদের জানালাম এবং কাফেলায় যোগ দিয়ে দামেস্কের পথ ধরলাম। দামেস্কে পৌঁছে খ্রিস্টধর্মের সবচেয়ে বড় আলেমের খোঁজ করলাম। আমাকে একজনের কথা বলা হলো; আমি তার কাছে গিয়ে নিজের অবস্থার কথা বললাম। তার কাছে থাকতে এবং তার সেবা করতে চাই – এ কথা জানিয়ে অনুরোধ করলাম, সে যেন আমাকে খ্রিস্টধর্ম শেখায়, আল্লাহ তাআলার পরিচয় দেয়। সে রাজি হলো। এরপর আমি তার সেবা করতে এবং গির্জার কাজকর্ম করতে লাগলাম। সেও আমাকে খ্রিস্টধর্ম শেখাতে লাগল।

“আমার কাছ থেকে যা শোনো, তা তোমাদের দ্বীনি ভাইদেরও বলো! একে অপরকে শুনিয়ে দাও!” হাদীস শরীফ

কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম, সে একজন মন্দ লোক। কারণ খ্রিস্টানরা দরিদ্রদের দেওয়ার জন্য যে সদকা, সোনা ও রুপা নিয়ে আসত, সে তা লুকিয়ে রাখত, অভাবীদের দিত না। সে পুরো সাত মটকা সোনা ও রুপা জমিয়েছিল। আমি ছাড়া এ কথা আর কেউ জানত না। কিছুকাল পর সে মারা গেল।

খ্রিস্টানরা তাকে দাফন করার জন্য জড়ো হলো। আমি তাদের বললাম, “একে তোমরা এত সম্মান করছ কেন? সে এই সম্মানের যোগ্য মানুষ নয়!” তারা বলল, “এ কথা তুমি কোথা থেকে পেলে?” এবং আমার কথা বিশ্বাস করল না। তখন আমি তার জমানো সোনার জায়গাটি দেখিয়ে দিলাম। তারা সাত মটকা সোনা ও রুপা বের করে আনল, তারপর বলল, “এ লোক কাফন-দাফনের যোগ্য নয়।” এই বলে তাকে এক জায়গায় ফেলে দিয়ে পাথর চাপা দিল। তার জায়গায় আরেকজন এলেন।1

এই ব্যক্তি সত্যিই ছিলেন জ্ঞানী ও দুনিয়াবিমুখ মানুষ; দুনিয়াকে তিনি মোটেই গুরুত্ব দিতেন না। তিনি ছিলেন আখিরাতের প্রত্যাশী; সবসময় আখিরাতের জন্য পরিশ্রম করতেন, দিনরাত ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। আমি তাঁকে খুব ভালোবেসে ফেললাম এবং দীর্ঘকাল তাঁর কাছে রইলাম। সানন্দে তাঁর সেবা করতাম। আমরা একসঙ্গে ইবাদত করতাম।

একদিন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “হে আমার মনিব! বহুদিন ধরে আমি আপনার কাছে আছি এবং আপনাকে খুব ভালোবেসেছি। কারণ আপনি আল্লাহ তাআলার আদেশ মেনে চলেন এবং তিনি যা নিষেধ করেছেন, তা থেকে দূরে থাকেন। আপনি ইন্তেকাল করলে আমি কী করব, আমাকে কী উপদেশ দেবেন?” তিনি উত্তর দিলেন, “বাছা, দামেস্কে মানুষকে সংশোধন করার মতো আর কেউ নেই। যার কাছেই যাও, সে তোমাকে বিপথে নিয়ে যাবে। তবে মসুলে একজন ব্যক্তি আছেন; তাঁকে খুঁজে বের করার পরামর্শ দিচ্ছি।”

তিনি ইন্তেকাল করলে আমি মসুলে চলে গেলাম, তিনি যাঁর কথা বলেছিলেন, সেই ব্যক্তিকে খুঁজে পেলাম এবং আমার জীবনে যা ঘটেছে, তা জানালাম। তিনি আমাকে তাঁর সেবায় গ্রহণ করলেন। তিনিও আগের ব্যক্তির মতো অত্যন্ত মূল্যবান, দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত এবং সর্বদা ইবাদতকারী মানুষ ছিলেন। তাঁরও দীর্ঘকাল সেবা করলাম। কিন্তু একদিন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ইন্তেকালের আগে তাঁকেও একই প্রশ্ন করলাম। তিনি আমাকে নুসাইবিনের এক ব্যক্তির কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। তাঁর ইন্তেকালের পর আমি তৎক্ষণাৎ নুসাইবিনে গেলাম। তিনি যাঁর কথা বলেছিলেন, তাঁকে খুঁজে পেয়ে তাঁর কাছে থাকার ইচ্ছা জানালাম। তিনি রাজি হলেন; আমি কিছুকাল তাঁর সেবায় রইলাম। তিনি অসুস্থ হলে আমাকে অন্য কারও কাছে পাঠানোর অনুরোধ করলাম। এবার তিনি আমাকে রোমানদের শহর আমুরিয়ার আরেক ব্যক্তির বর্ণনা দিলেন। তাঁর ইন্তেকালের পর আমি আমুরিয়ার পথ ধরলাম। তিনি যাঁর কথা বলেছিলেন, তাঁকেও খুঁজে পেয়ে তাঁর সেবায় নিয়োজিত হলাম এবং দীর্ঘকাল রইলাম।

তারপর তাঁরও ইন্তেকালের সময় ঘনিয়ে এল। আমাকে কারও হাতে সোপর্দ করার অনুরোধ জানালে তিনি বললেন, “আল্লাহর কসম, এখন আমি এমন কাউকে জানি না। তবে আখেরি জামানার নবীর আগমনের সময় ঘনিয়ে এসেছে।” এরপর তিনি তাঁর আলামতগুলো একে একে বললেন: “তিনি আরবদের মধ্য থেকে আবির্ভূত হবেন, নিজের জন্মভূমি থেকে হিজরত করে পাথুরে ভূমির মাঝে খেজুরগাছে ভরা একটি শহরে বসতি গড়বেন।

তিনি হাদিয়া গ্রহণ করেন, সদকা গ্রহণ করেন না। তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে রয়েছে নবুয়তের মোহর।” এই ব্যক্তিও ইন্তেকাল করলে আমি তাঁর কথা অনুযায়ী আরব দেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমুরিয়ায় কাজ করে আমি কয়েকটি গরু ও কিছু ভেড়ার মালিক হয়েছিলাম। বনু কালব গোত্রের একটি কাফেলা আরব দেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমি তাদের বললাম, “এই গরু আর ভেড়াগুলো তোমাদের হোক, আমাকে আরব দেশে নিয়ে চলো!” তারা আমার প্রস্তাব মেনে আমাকে সঙ্গে নিল। কিন্তু ওয়াদিল কুরা নামের জায়গায় পৌঁছে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করল এবং আমাকে গোলাম বলে এক ইহুদির কাছে বিক্রি করে দিল। ইহুদি যেখানে থাকত, সেখানে খেজুরবাগান দেখে ভাবলাম, “আখেরি জামানার নবী যেখানে হিজরত করবেন, সেটি সম্ভবত এই জায়গাই।” কিন্তু কিছুতেই মন বসাতে পারলাম না। কিছুকাল এই ইহুদির সেবা করলাম। তারপর সে আমাকে তার চাচাতো ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে দিল। সে আমাকে কিনে মদিনায় নিয়ে এল। মদিনায় পৌঁছে মনে হলো, যেন জায়গাটি আগেই দেখেছি; সঙ্গে সঙ্গে আমার মন বসে গেল। এখন আমার দিন কাটছিল মদিনায়; যে ইহুদি আমাকে কিনেছিল, তার আঙুরবাগানে ও বাগিচায় কাজ করতাম, তার সেবা করতাম। সেই সঙ্গে আমার আসল লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম।

একদিন আমি একটি খেজুরগাছে উঠে কাজ করছিলাম। আমার মনিব গাছের নিচে একজনের সঙ্গে কথা বলছিল। একসময় তারা বলাবলি করল, “আওস আর খাজরাজ গোত্র ধ্বংস হোক! মক্কা থেকে এক লোক কুবায় এসেছে। নিজেকে নবী বলে দাবি করছে। আর এই গোত্রগুলোও তাকে মেনে নিয়ে তার ধর্মে ঢুকছে…” এ কথা শুনে আমি যেন জ্ঞান হারানোর মতো হয়ে গেলাম। তৎক্ষণাৎ নিচে নেমে সেই লোকটিকে বললাম, “কী বলছ?” মনিব আমাকে এক চড় মেরে বলল, “এতে তোর কী দরকার, কেন জিজ্ঞেস করছিস, নিজের কাজ কর!” সেদিন সন্ধ্যা হলে কিছু খেজুর নিয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গে কুবায় গেলাম। রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে গিয়ে বললাম, “আপনি একজন নেককার মানুষ, আপনার কাছে দরিদ্র লোকেরাও আছেন। এই খেজুরগুলো সদকা হিসেবে এনেছি।”

রাসূলুল্লাহ তাঁর কাছে উপস্থিত সাহাবীদের বললেন, “এসো, খেজুর খাও।” তাঁরা খেলেন। কিন্তু তিনি নিজে একটিও খেলেন না। আমি মনে মনে বললাম, “এই তো একটি আলামত। তিনি সদকা গ্রহণ করেন না।” রাসূলুল্লাহ মদিনায় তাশরিফ আনার পর আমি আরও কিছু খেজুর নিয়ে রাসূলুল্লাহর কাছে এলাম। বললাম, “এটা হাদিয়া।” এবার তিনি তাঁর কাছের সাহাবীদের সঙ্গে মিলে খেলেন। বললাম, “এই তো দ্বিতীয় আলামতও প্রকাশ পেল।” আমার নিয়ে যাওয়া খেজুর ছিল পঁচিশটির মতো। অথচ খাওয়া খেজুরের বিচি ছিল প্রায় এক হাজার। রাসূলুল্লাহর মুজিযায় খেজুর বেড়ে গিয়েছিল। আমি মনে মনে বললাম, “আরও একটি আলামত দেখলাম।” আবার আমি রাসূলুল্লাহর কাছে গেলাম। তাঁরা তখন একজন মৃত ব্যক্তিকে দাফন করছিলেন। নবুয়তের মোহর দেখতে চাইছিলাম বলে আমি খুব কাছে চলে গেলাম। তিনি আমার মনের ইচ্ছা বুঝতে পেরে জামা তুলে ধরলেন। মুবারক পিঠ উন্মুক্ত হলে আমি নবুয়তের মোহর দেখতে পেলাম; সঙ্গে সঙ্গে তাতে চুমু খেলাম এবং কেঁদে ফেললাম। সেই মুহূর্তেই কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করে মুসলমান হলাম।

তারপর আমার জীবনের ঘটনাগুলো একে একে রাসূলুল্লাহকে শোনালাম। তাঁর তা ভালো লাগল। তিনি সাহাবায়ে কেরামকেও এগুলো শোনাতে আদেশ দিলেন। সাহাবায়ে কেরাম সমবেত হলেন, আর আমিও আমার জীবনের ঘটনাগুলো খুঁটিনাটিসহ বর্ণনা করলাম…2

সালমান ফারসি যখন ঈমান আনলেন, তখন আরবি ভাষা না জানায় একজন দোভাষী চেয়েছিলেন। যে ইহুদি দোভাষী এল, সে আমাদের প্রিয় নবীর প্রতি তাঁর প্রশংসাকে উল্টো করে বলছিল। তখন জিবরাইল আলাইহিস সালাম এসে হযরত সালমানের কথা সঠিকভাবে রাসূলুল্লাহকে জানিয়ে দিলেন। ইহুদি ব্যাপারটি বুঝতে পেরে কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করে মুসলমান হয়ে গেল।

মুসলমান হওয়ার পরও সালমান ফারসি আরও কিছুকাল গোলাম হিসেবে রইলেন। আমাদের প্রিয় নবী “হে সালমান! নিজেকে গোলামি থেকে মুক্ত করো” বলার পর তিনি মনিবের কাছে গিয়ে জানালেন যে, তিনি আজাদ হতে চান। ইহুদি অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই শর্তে রাজি হলো যে, তিনি তিনশো খেজুরের চারা রোপণ করে সেগুলোকে ফল দেওয়ার উপযোগী করে বড় করবেন এবং এক হাজার ছয়শো দিরহাম সোনা (এক বর্ণনায় প্রায় চার হাজার দিরহাম রুপা) দেবেন।

তিনি এ কথা রাসূলুল্লাহকে জানালেন। মহানবী সাহাবীদের বললেন, “তোমাদের ভাইকে সাহায্য করো।” তাঁরা তাঁর জন্য তিনশো খেজুরের চারা জোগাড় করলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, “এগুলোর গর্ত প্রস্তুত করো, শেষ হলে আমাকে জানাবে।” তিনি গর্তগুলো প্রস্তুত করে খবর দিলে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে তাশরিফ আনলেন এবং নিজের মুবারক হাতে চারাগুলো রোপণ করলেন। এগুলোর একটি রোপণ করেছিলেন হযরত উমর। হযরত উমরের রোপণ করা চারাটি ছাড়া সবগুলোই আল্লাহ তাআলার অনুমতিতে সে বছরই ফল দিল। রাসূলুল্লাহ সেই একটি চারাও উপড়ে নিজের মুবারক হাতে আবার রোপণ করলেন, আর রোপণ করার সঙ্গে সঙ্গেই তা ফল দিল।

“আখেরি জামানার নবীর আগমনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। তিনি আরবদের মধ্য থেকে আবির্ভূত হবেন, নিজের জন্মভূমি থেকে হিজরত করে পাথুরে ভূমির মাঝে খেজুরগাছে ভরা একটি শহরে বসতি গড়বেন। তিনি হাদিয়া গ্রহণ করেন, সদকা গ্রহণ করেন না। তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে রয়েছে নবুয়তের মোহর” আমুরিয়ার পাদরি

হযরত সালমান ফারসি বর্ণনা করেন, “একদিন এক ব্যক্তি আমাকে খুঁজতে খুঁজতে জিজ্ঞেস করছিলেন, ‘দরিদ্র মুকাতাব (আজাদি লাভের জন্য মনিবের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের চুক্তিবদ্ধ গোলাম) সালমান ফারসি কোথায়?’ তিনি আমাকে খুঁজে পেলেন এবং তাঁর হাতে থাকা ডিমের আকারের একটি সোনার টুকরা আমাকে দিলেন। আমি তা নিয়ে আমাদের নবীর কাছে গেলাম এবং ঘটনাটি জানালাম।

রাসূলুল্লাহ সোনাটি আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এই সোনা নাও এবং তোমার ঋণ পরিশোধ করো!’ আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইহুদি যে ওজন চেয়েছে, এই সোনা তো সেই ওজনের নয়।’ তখন রাসূলুল্লাহ সোনাটি নিয়ে নিজের মুবারক জিহ্বার ওপর ছোঁয়ালেন। তারপর বললেন, ‘এটা নাও! আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা তোমার ঋণ পরিশোধ করে দেবেন।’ আল্লাহর কসম, আমি সোনাটি ওজন করলাম, তা ঠিক যতটুকু চাওয়া হয়েছিল ততটুকুই ছিল। সেটিও নিয়ে গিয়ে দিয়ে দিলাম। এভাবে আমি গোলামি থেকে মুক্ত হলাম।”3

সেদিনের পর থেকে সালমান ফারসি আসহাবে সুফফার অন্তর্ভুক্ত হলেন।

ফেরেশতারা শুনতে আসতেন

আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পবিত্র কুরআন এত সুন্দর, এত মধুর ও প্রভাবময় করে তিলাওয়াত করতেন যে, অমুসলিমরাও তা শুনে মুগ্ধ হয়ে যেত। তাঁর তিলাওয়াত শুনে মুসলমান হওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল অনেক।

হযরত বারা ইবনে আজিব বর্ণনা করেন, “একবার এশার নামাজের পর আমি রাসূলুল্লাহকে সূরা তিন তিলাওয়াত করতে শুনেছিলাম। তিনি এত সুন্দর তিলাওয়াত করছিলেন যে, তাঁর চেয়ে নিখুঁত কণ্ঠ ও তিলাওয়াতের অধিকারী কাউকে আমি কখনো শুনিনি।”

সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে সুকণ্ঠের অধিকারী, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের সময় নিজে কাঁদতেন এবং অন্যদেরও কাঁদাতেন – এমন অনেকেই ছিলেন। তাঁদের একজন ছিলেন উসাইদ ইবনে হুদাইর। এক রাতে তিনি নিজের ঘোড়াটি কাছে বেঁধে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করতে শুরু করলেন। তিলাওয়াতের সময় ঘোড়াটি হঠাৎ চমকে উঠল। হযরত উসাইদ থেমে গেলেন, ঘোড়াও শান্ত হলো। তিনি আবার তিলাওয়াত শুরু করলেন, ঘোড়া আবার চমকে উঠল। থামলে শান্ত হলো। আবার তিলাওয়াত শুরু করতেই ঘোড়া আবারও চমকে উঠল। উসাইদ ইবনে হুদাইরের পুত্র ইয়াহইয়া ঘোড়ার কাছেই এক জায়গায় শুয়ে ছিল। ঘোড়া শিশুটির ক্ষতি করে ফেলবে – এই আশঙ্কায় তিনি তিলাওয়াত বন্ধ করলেন।

আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি সাদা মেঘের ছায়ার মতো এক কুয়াশার ভেতরে প্রদীপের মতো ঝলমল করা কিছু জিনিস লক্ষ করলেন। তিলাওয়াত থামাতেই দেখলেন, সেই ঝলমলে জিনিসগুলো আকাশের দিকে উঠে চলে যাচ্ছে।

সকাল হলে তিনি আমাদের প্রিয় নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দরবারে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বললেন।

রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, “ওগুলো কী ছিল, জানো কি?” হযরত উসাইদ উত্তর দিলেন, “আমার মা-বাবা আপনার জন্য কুরবান হোন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জানি না।”

মহানবী ইরশাদ করলেন, “তাঁরা ছিলেন ফেরেশতা। তোমার কণ্ঠের কাছে এগিয়ে এসেছিলেন। তুমি যদি তিলাওয়াত চালিয়ে যেতে, তাহলে তাঁরা সকাল পর্যন্ত তোমার তিলাওয়াত শুনতেন, আর মানুষও তাঁদের দেখতে পেত এবং চেয়ে চেয়ে দেখত। তাঁরা মানুষের চোখ থেকে লুকিয়ে থাকতেন না।”

পবিত্র কুরআন অত্যন্ত দরদভরা কণ্ঠে তিলাওয়াতকারীদের একজন ছিলেন হযরত আবু বকর সিদ্দিক। নামাজে উচ্চস্বরে তিলাওয়াত শুরু করলে তিনি নিজেকে সামলাতে পারতেন না, তাঁর মুবারক চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে থাকত। যাঁরা দেখতেন, তাঁর এই অবস্থায় মুগ্ধ হয়ে যেতেন। একদিন মুশরিকরা জড়ো হয়ে বলল, “এ লোক, নবী যা নিয়ে এসেছে, তা দরদভরা কণ্ঠে পড়ে আর কাঁদে। আমাদের ভয় হয়, আমাদের সন্তান আর নারীরা তার এই অবস্থায় মোহিত হয়ে মুসলমান হয়ে যাবে।”

আবদুল্লাহ ইবনে সালামের ইসলাম গ্রহণ

আমাদের প্রিয় নবীর মুবারক চেহারা দেখে যাঁরা তাঁর প্রেমে পড়েছিলেন, তাঁর মুবারক বাণী ও তিলাওয়াত করা পবিত্র কুরআন শুনে মুগ্ধ হয়ে যাঁরা মুসলমান হয়েছিলেন, তাঁদের একজন হলেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম।

আবদুল্লাহ ইবনে সালাম তাওরাত ও ইঞ্জিল ভালোভাবে জানতেন; ঈমান আনার আগে তিনি ছিলেন একজন ইহুদি আলেম। তিনি নিজের ইসলাম গ্রহণের কাহিনি নিজেই এভাবে বর্ণনা করেন: “আমি তাওরাত ও তার ব্যাখ্যা বাবার কাছে পড়ে শিখেছিলাম। একদিন বাবা আমাকে আখেরি জামানায় আগমনকারী নবীর গুণাবলি, আলামত ও তিনি যেসব কাজ করবেন, সেগুলোর কথা বললেন এবং বললেন, ‘তিনি যদি হারুনের বংশ থেকে আসেন, তাহলে আমি তাঁর অনুসরণ করব; নইলে করব না!’ রাসূলুল্লাহর মদিনায় আগমনের আগেই তিনি মারা গেলেন।

রাসূলুল্লাহ মক্কায় নিজের নবুয়ত ঘোষণা করেছেন – এ কথা যখন শুনলাম, তখন আমি তাঁর গুণাবলি, নাম ও আগমনের সময় জানতাম। তাই আমি তাঁর অপেক্ষায় পথ চেয়ে রইলাম। রাসূলুল্লাহ মদিনার কাছে কুবা নামের জায়গায় বনু আমর ইবনে আওফের ঘরে মেহমান হয়েছেন – এ কথা একজনের কাছে শোনার আগ পর্যন্ত আমি আমার এই অবস্থা ইহুদিদের কাছ থেকে গোপন রেখে চুপ করে ছিলাম।

একদিন আমি বাগানে খেজুরগাছ থেকে তাজা খেজুর পাড়ছিলাম, এমন সময় বনু নাজিরের এক লোক চিৎকার করে বলল, ‘আজ আরবদের সেই লোক এসে গেছে!’ আমার শরীরে কাঁপুনি ধরে গেল। সঙ্গে সঙ্গে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবির দিলাম। আমার ফুফু খালিদা বিনতে হারিস তখন গাছের নিচে বসে ছিলেন। তিনি ছিলেন খুবই বৃদ্ধা। আমার তাকবির শুনে তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, ‘আল্লাহ তোমার হাত খালি করে দিন, তোমার আশা পূরণ না করুন! আল্লাহর কসম, তুমি যদি মূসা ইবনে ইমরানের4 আগমনের খবরও শুনতে, তাহলেও এর চেয়ে বেশি খুশি হতে না!’ আমি তাঁকে বললাম, ‘হে ফুফু! আল্লাহর কসম, তিনি মূসা ইবনে ইমরানের ভাই এবং তাঁর মতোই একজন নবী। তিনি তাঁরই পথে আছেন এবং তিনি যে তাওহিদ নিয়ে প্রেরিত হয়েছিলেন, সেই তাওহিদ নিয়েই প্রেরিত হয়েছেন।’

তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘হে ভাতিজা! তাহলে কি তিনিই সেই নবী, কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে যাঁর প্রেরিত হওয়ার কথা আমাদের জানানো হয়েছে?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘তাহলে তুমিই ঠিক।’5

রাসূলুল্লাহ মদিনায় হিজরত করে এলে তাঁকে দেখার জন্য আমি সঙ্গে সঙ্গে লোকজনের ভিড়ে মিশে গেলাম। তাঁর মুবারক চেহারা, নূরানি মুখমণ্ডল দেখামাত্রই বললাম, ‘এ চেহারা কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারে না!’ রাসূলুল্লাহ সমবেত মানুষের কাছে ইসলামের কথা বলছিলেন, নসিহত করছিলেন। সেখানে রাসূলুল্লাহর কাছ থেকে প্রথম যে হাদীস শরীফটি শুনেছিলাম, তা হলো: ‘তোমাদের মধ্যে সালাম ছড়িয়ে দাও, ক্ষুধার্তদের খাওয়াও, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করো (নিকটাত্মীয়দের খোঁজখবর নাও), মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন নামাজ আদায় করো। এভাবে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’

বিশ্বজগতের গৌরব (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুয়তের নূরের মাধ্যমে আমাকে চিনে ফেলে বললেন, ‘তুমি কি মদিনার আলেম ইবনে সালাম নও?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’ তখন আমাদের প্রিয় নবী বললেন, ‘কাছে এসো।’ তারপর এই প্রশ্ন করলেন, ‘হে আবদুল্লাহ! আল্লাহ তাআলার ওয়াস্তে বলো! তাওরাতে তুমি কি আমার গুণাবলি পড়ে জানতে পারোনি?’ আমি বললাম, ‘আল্লাহ তাআলার গুণাবলি কী, আপনি কি বলতে পারবেন?’

এই প্রশ্নের জবাবে রাসূলুল্লাহ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন, আর জিবরাইল আলাইহিস সালাম সূরা ইখলাস নিয়ে নাজিল হলেন। রাসূলুল্লাহর তিলাওয়াত করা এই সূরা শুনে আমি তৎক্ষণাৎ আমাদের নবীকে বললাম, ‘হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি সত্য বলছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি তাঁর বান্দা ও রাসূল।’ এভাবে কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করে আমি মুসলমান হলাম। তারপর বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইহুদিরা এমন এক জালিম জাতি, যারা মানুষকে হতবাক করে দেওয়ার মতো মিথ্যা বলে, ভিত্তিহীন দোষারোপ করে এবং অপবাদ দেয়। আপনি আমার স্বভাব-চরিত্র ও সব অবস্থা তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে জানার আগেই যদি তারা আমার মুসলমান হওয়ার কথা শুনে ফেলে, তাহলে নিঃসন্দেহে আপনার সামনে আমার বিরুদ্ধে অকল্পনীয় অপবাদ রটাবে। আপনি আগে তাদের কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন!’ এই বলে আমি ঘরের এক পাশে লুকিয়ে রইলাম। আমার পরে ইহুদিদের নেতৃস্থানীয় একদল লোক ভেতরে এল। রাসূলুল্লাহ ইহুদিদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম কেমন মানুষ?’ ইহুদিরা বলল, ‘তিনি আমাদের সবচেয়ে উঁচু মর্যাদার আলেম এবং আমাদের সবচেয়ে বড় আলেমের পুত্র! ইবনে সালাম আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তির পুত্র!’ তখন রাসূলুল্লাহ ইহুদিদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘সে যদি মুসলমান হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে তোমরা কী বলবে?’

“আল্লাহ তাআলা আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি চারজন মানুষকে ভালোবাসেন। এই চারজনকে ভালোবাসার আদেশ তিনি আমাকে দিয়েছেন। তাঁরা হলেন আলি, আবু জর, মিকদাদ ও সালমান” হাদীস শরীফ

ইহুদিরা উত্তর দিল, ‘আল্লাহ তাকে এমন কাজ থেকে রক্ষা করুন!’

ঠিক তখন আমি লুকানোর জায়গা থেকে বেরিয়ে এলাম এবং তাঁকে সত্যায়ন করে বললাম, ‘হে ইহুদি সম্প্রদায়! আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো! তোমাদের কাছে যা এসেছে, তা গ্রহণ করো। আল্লাহ তাআলার কসম করে বলছি, তোমরা নিজেরাও জানো: তোমাদের হাতে থাকা তাওরাতে যাঁর নাম ও গুণাবলি লেখা দেখেছ, আল্লাহ তাআলার সেই রাসূল ইনিই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আলাইহিস সালাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।’ এ কথা শুনে ইহুদিরা বলল, ‘সে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোকের ছেলে!’ এরপর তারা আমার নানা দোষ ধরে, অপবাদ দিয়ে আমার নিন্দা করতে লাগল। আমি বললাম, ‘আমি তো ঠিক এই ভয়ই করছিলাম। ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি আপনাকে জানাইনি যে, এরা জালিম, মিথ্যাবাদী, মন্দ কাজে দ্বিধাহীন, অপবাদ রটনাকারী এক জাতি? এই তো, সবই প্রকাশ হয়ে গেল!’ রাসূলুল্লাহ ইহুদিদের ইরশাদ করলেন, ‘তোমাদের প্রথম সাক্ষ্যই আমাদের জন্য যথেষ্ট, দ্বিতীয়টির কোনো প্রয়োজন নেই।’ এরপর আমি সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ফিরে গেলাম।

আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকে ইসলামের দাওয়াত দিলাম। আমার ফুফুসহ তাঁরা সবাই মুসলমান হলেন।

আমার ঈমান আনায় ইহুদিরা ভীষণ ক্ষুব্ধ হলো। তাই তারা আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে লাগল। এমনকি কয়েকজন ইহুদি আলেম ‘আরবদের মধ্য থেকে নবী আসে না, তোমার এই লোকটি একজন বাদশাহ মাত্র’ বলে আমাকে ইসলাম থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করল, কিন্তু সফল হলো না।”

তাঁর সঙ্গে সালাবা ইবনে সাইয়া, উসাইদ ইবনে সাইয়া, আসাদ ইবনে উবাইদ এবং আরও কিছু ইহুদি আন্তরিকভাবে মুসলমান হলেন। কিন্তু কয়েকজন ইহুদি আলেম বলল, “মুহাম্মদের প্রতি কেবল আমাদের মন্দ লোকেরাই ঈমান এনেছে। তারা যদি আমাদের ভালো লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে পূর্বপুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করত না।” তখন আল্লাহ তাআলা তাদের জবাবে পবিত্র আয়াত নাজিল করে মর্মার্থে ইরশাদ করলেন, “তারা (আহলে কিতাব) সবাই এক রকম নয়। আহলে কিতাবের মধ্যে ইবাদত ও আনুগত্যে অবিচল একটি দল আছে, যারা রাতের বেলায় সিজদায় লুটিয়ে পড়ে আল্লাহ তাআলার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে।”6

দিনে দিনে হাল আমার আরও মন্দ, ইয়া রাসূলাল্লাহ!
শুধরে যাক এবার আমল, দয়া করো, ইয়া রাসূলাল্লাহ!
বিপথে গেল হীন এ নফস, শয়তানের পিছে নিল আমায়,
এত গুনাহ নিয়ে কেমনে চাই আশ্রয়, ইয়া রাসূলাল্লাহ?
নফস আর শয়তানের কামনা থেকে মুক্তি কি সম্ভব,
তোমার থেকে না পৌঁছালে হিদায়াত, ইয়া রাসূলাল্লাহ?
তোমার ফয়েজ ও দয়া পাপীর কাছে এলে এক পলক,
দুই জাহানে তার পথ হয় নিরাপদ, ইয়া রাসূলাল্লাহ!
আদেশ-নিষেধ মান্য করেছি, হারামকে বলিনি হালাল,
প্রতিটি গুনাহের শেষে এসেছে অনুতাপ, ইয়া রাসূলাল্লাহ!
হে মানব ও জিনের রাসূল, সকল মানুষের সেরা তুমি,
আমার ইখলাসের খাতিরে শাফায়াত দান করো, ইয়া রাসূলাল্লাহ!

“তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো (সিলায়ে রেহেম) এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন নামাজ আদায় করো। এভাবে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে” হাদীস শরীফ

মদিনা মুনাওয়ারার একটি পুরোনো দৃশ্য (১৮৯০)

হিজরতের প্রথম বছরের কয়েকটি ঘটনা

হিজরতের প্রথম বছরে আনসারদের মধ্য থেকে আসআদ ইবনে জুরারা, বারা ইবনে মারুর, কুলসুম ইবনে হিদম এবং মুহাজিরদের মধ্য থেকে উসমান ইবনে মাজউন ইন্তেকাল করেন। এ ছাড়া মদিনার আবহাওয়া ও পানির প্রভাব সহ্য করতে না পেরে হযরত আবু বকর ও বিলাল হাবশি (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) জ্বরে আক্রান্ত হলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দোয়া করলেন, “হে আমার রব! তুমি যেমন আমাদের কাছে মক্কাকে প্রিয় করেছ, তেমনি মদিনাকেও আমাদের কাছে প্রিয় করে দাও এবং এখানে আমাদের বরকত ও প্রচুর রিজিক দান করো।” মহান আল্লাহও তাঁর দোয়া কবুল করলেন এবং মুহাজিরদের কাছে মদিনাকে প্রিয় করে দিলেন।

প্রথম লিখিত চুক্তি

মহানবীর হিজরতের আগে মদিনার খাজরাজ গোত্রের নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে মদিনার বাদশাহ নির্বাচন করার কথা ছিল। আকাবার বাইআতসমূহ এবং পরে হিজরতের ঘটনার ফলে আওস ও খাজরাজ গোত্রের অধিকাংশ লোক মুসলমান হয়ে গেলে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের বাদশাহ হওয়ার আশা আর পূরণ হলো না। এ কারণে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই প্রথমে মহানবী ও মুহাজির সাহাবায়ে কেরামের প্রতি, তারপর মদিনাবাসী সাহাবীগণের প্রতি মনে মনে দাঁত কিড়মিড় করত, কিন্তু শত্রুতা প্রকাশ্যে দেখাতে পারত না। নিজের মতো কয়েকজন লোককে নিয়ে সে মুনাফিকদের (কপটদের) একটি দল গড়ে তুলল। এরা মুসলমানদের সামনে বলত যে, তারা ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করেছে, কিন্তু আড়ালে তাঁদের নিয়ে উপহাস করত। তারা গোপনে গোপনে নিফাকের (কপটতার) বীজ বুনতে এবং ফিতনা (বিশৃঙ্খলা) সৃষ্টি করতে লাগল। এতে তারা এতদূর এগিয়ে গেল যে, বিশ্বজগতের গৌরব মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুবারক বাণী উল্টো করে বর্ণনা করতে এবং বিকৃত করতে শুরু করল।

এদিকে মক্কার মুশরিকরাও বসে ছিল না; মক্কায় তারা রাসূলুল্লাহর যে ক্ষতি করতে পারেনি, মদিনায় তা করার চেষ্টায় লেগে গেল। মদিনার মুশরিকদের কাছে তারা যেমন হুমকির চিঠি পাঠাত, তেমনি মদিনার ইহুদি গোত্রগুলোর কাছেও হুমকিভরা চিঠি ও খবর পাঠাতে থাকল। তাদের এই হুমকিই ইহুদিদের রাসূলুল্লাহর কাছাকাছি আসার কারণ হলো।

এ সময় ইহুদিরা রাসূলুল্লাহর কাছে এসে বলল, “আমরা আপনার সঙ্গে সন্ধি করতে এসেছি। আসুন, একটি চুক্তি করি, যাতে আমরা একে অপরের ক্ষতি না করি।” আমাদের নবীও তাদের সঙ্গে পঞ্চান্ন ধারার একটি চুক্তি করলেন। সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর কয়েকটি এই:

১. এই চুক্তিপত্রটি রাসূলুল্লাহ মুহাম্মদ আলাইহিস সালাম কর্তৃক মক্কা ও মদিনার মুসলমান, তাদের অনুসারী, পরে তাদের সঙ্গে যোগদানকারী এবং তাদের সঙ্গে মিলে যুদ্ধকারীদের মধ্যে লিখিত একটি দলিল।

২. নিঃসন্দেহে এরা অন্যান্য মানুষ থেকে স্বতন্ত্র একটি জামাআত।

৩. প্রতিটি গোত্র তাদের বন্দিদের মুক্তিপণ (মুসলমানদের মধ্যকার ন্যায়বিচার অনুযায়ী) সম্মিলিতভাবে পরিশোধ করবে।

৪. মুসলমানরা নিজেদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, সে তাদের নিজেদের সন্তান হলেও।

৫. ইহুদিদের মধ্যে যারা মুসলমানদের অনুসারী হবে, তাদের ওপর কোনো জুলুম করা হবে না; উপরন্তু তাদের সাহায্যও করা হবে।

৬. ইহুদিরা মুসলমানদের সঙ্গে মিলে একটি দল গঠন করবে; প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্মের বিধান পালন করবে।

৭. মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের অনুমতি ছাড়া ইহুদিদের কেউ কোনো সামরিক অভিযানে বের হতে পারবে না।

৮. কেউ তার চুক্তিবদ্ধ পক্ষের কোনো অনিষ্ট করবে না; জুলুমের শিকার ব্যক্তিকে অবশ্যই সাহায্য করা হবে।

৯. এই চুক্তি সম্পাদনকারীদের জন্য মদিনা উপত্যকা অলঙ্ঘনীয়, হারাম (নিষিদ্ধ) এলাকা।

১০. মক্কার মুশরিক এবং তাদের সাহায্যকারীরা কোনোভাবেই আশ্রয় পাবে না।

১১. মদিনায় যারা আক্রমণ করবে, তাদের বিরুদ্ধে মুসলমান ও ইহুদিরা পরস্পরকে সাহায্য করবে।

এই চুক্তি অনুযায়ী ইহুদিরা (বাহ্যিকভাবে) মুসলমানদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করবে, তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না এবং শত্রুতা করবে না।7

হে আমার হাবিব! দুঃখ করো না

যে ইহুদিরা মনের মধ্যে শত্রুতা লুকিয়ে রেখেছিল, তারা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর দলে দলে মহানবীর কাছে আসতে লাগল। নিজেদের ধারণায় খুবই কঠিন কঠিন প্রশ্ন করত। যে উত্তর পেত, তা থেকে বুঝে নিত যে, তিনি সত্য নবী। কিন্তু জেদ ও হিংসার কারণে তারা ঈমান আনত না। তখন আমাদের প্রিয় নবী ইরশাদ করলেন, “ইহুদি আলেমদের মধ্য থেকে দশজন যদি আমার প্রতি ঈমান আনত, তবে সব ইহুদিই ঈমান আনত।” রাসূলুল্লাহর এই দুঃখে আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই পবিত্র আয়াত দিয়ে সান্ত্বনা দিলেন: “(হে আমার হাবিব!) হে মহিমান্বিত রাসূল! যারা অন্তরে বিশ্বাস না করেও মুখে বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ (মুনাফিকরা), এবং ইহুদিদের মধ্যে যারা কুফরের মধ্যে ছোটাছুটি করে, তাদের (অবস্থা) যেন তোমাকে দুঃখ না দেয়। তারা অনবরত মিথ্যা শোনে এবং তোমার কাছে আসেনি এমন আরেক সম্প্রদায়ের (খায়বারের ইহুদিদের) জন্য (বনু কুরাইজার মধ্য থেকে) গুপ্তচরের কাজ করে। তারা যে কথা শোনে, সেসব কথা ও সত্যকে যথাস্থান থেকে সরিয়ে দেয়, হক থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার মতো করে বর্ণনা করে। আর বলে, ’যদি তোমাদের এই (ফতোয়া) দেওয়া হয়, তবে তা গ্রহণ করো; আর যদি দেওয়া না হয়, তবে সাবধান থেকো।’ আল্লাহ তাআলা যাকে ফিতনায় ফেলতে চান, আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ঠেকাতে তুমি কোনোভাবেই সক্ষম হবে না। এরা এমন লোক, যাদের অন্তর পবিত্র করতে আল্লাহ তাআলা চাননি। তাদের জন্য দুনিয়ায় আছে লাঞ্ছনা ও দুর্দশা, আর আখিরাতে আছে মহাশাস্তি।”8

সম্পাদিত চুক্তির কারণে কয়েকজন সাহাবী তাঁদের প্রতিবেশী ইহুদিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁদেরও এ থেকে নিষেধ করে ইরশাদ করলেন, “হে মুমিনগণ! তোমাদের দ্বীনি ভাইদের ছাড়া অন্যদের (কাফির ও মুনাফিকদের) অন্তরঙ্গ বন্ধু বানিয়ো না। তারা তোমাদের অনিষ্ট করতে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে কোনো ত্রুটি করে না এবং তোমরা কষ্টে পড়ো, এটাই তারা কামনা করে। তোমাদের প্রতি তাদের বিদ্বেষ ও শত্রুতা তাদের মুখ থেকেই বেরিয়ে পড়েছে। আর তাদের অন্তরে যে শত্রুতা তারা লুকিয়ে রাখে, তা আরও ভয়ংকর। যদি তোমরা চিন্তা করে বোঝো, তবে আমি তোমাদের জন্য তাদের শত্রুতা সম্পর্কে আয়াতসমূহ স্পষ্ট করে দিয়েছি (তোমাদের যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত, তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছি)।”9

মক্কার মুশরিকরা মদিনার মুশরিক, মুনাফিক, ইহুদি এবং মদিনার আশপাশের গোত্রগুলোকে অবিরাম উসকানি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল। তারা যত দ্রুত সম্ভব ইসলামের নূর নিভিয়ে দিতে চেষ্টা করছিল এবং আমাদের প্রিয় নবীর মুবারক অস্তিত্ব মিটিয়ে দেওয়ার পথ খুঁজছিল।

“ইহুদি আলেমদের মধ্য থেকে দশজন যদি আমার প্রতি ঈমান আনত, তবে সব ইহুদিই ঈমান আনত” হাদীস শরীফ

মুনাফিক ও মুশরিকদের এ ধরনের আচরণের মোকাবিলায় রাসূলুল্লাহ সবসময় শান্তির পথই বেছে নিতেন। সাহাবায়ে কেরামের কেউ কেউ বিশ্বাস করতেন যে, এখন শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। তাঁরা এই বলে দোয়া করতেন, “হে আমার রব! তোমার পথে এই মুশরিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার চেয়ে মূল্যবান কিছু আমাদের কাছে নেই। এই কুরাইশ মুশরিকরা তোমার হাবিবের নবুয়তকে মিথ্যা বলেছে এবং তাঁকে মক্কা ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছে। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই তুমি আমাদের তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুমতি দেবে!…” আর রাসূলুল্লাহ এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার আদেশের অপেক্ষা করছিলেন এবং যেমন আদেশ হতো, সে অনুযায়ীই কাজ করতেন। অবশেষে সময় এসে গেল। জিবরাইল আলাইহিস সালামের আনা ওহীতে ইরশাদ হলো, “যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তোমরাও আল্লাহ তাআলার পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। কিন্তু সীমালঙ্ঘন কোরো না, বাড়াবাড়ি কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না। তাদের (কাফিরদের) যেখানে পাও, হত্যা করো। তারা যেমন তোমাদের (মক্কা থেকে) বের করে দিয়েছে, তোমরাও তাদের বের করে দাও। তাদের শিরকের ফিতনা হত্যার চেয়েও জঘন্য। মসজিদুল হারামে তারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ না করা পর্যন্ত তোমরাও সেখানে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কোরো না। কিন্তু তারা যদি সেখানে তোমাদের হত্যা করে, তবে তোমরাও সেখানে তাদের হত্যা করো। কাফিরদের শাস্তি এমনই। আর যদি তারা আল্লাহ তাআলাকে অস্বীকার করা ও যুদ্ধ থেকে বিরত হয়, (তবে তোমরাও ছেড়ে দাও। কেননা) নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”10

পরে নাজিল হওয়া এক পবিত্র আয়াতে ইরশাদ হলো, “শিরকের ফিতনার কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট না থাকা পর্যন্ত এবং দ্বীন কেবল আল্লাহ তাআলার জন্য না হওয়া পর্যন্ত (কেবল আল্লাহ তাআলারই ইবাদত না হওয়া পর্যন্ত) সেই মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। যদি তারা (শিরক থেকে) বিরত হয়, (তবে তাদের ওপর কোনো জুলুম নেই।) শত্রুতা (শাস্তি) কেবল জালিমদের ওপরই।”11

মা মাদাহতু মুহাম্মাদান বি মাকালাতি,
লাকিন মাদাহতু মাকালাতি বি মুহাম্মাদিন।
(মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের প্রশংসা আমি করতে পারি না,
বরং তাঁর নাম দিয়েই আমার লেখাকে মূল্যবান করি।)
ইমাম রব্বানি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)