মদিনা মুনাওয়ারার যুগ
নবুয়তপ্রাপ্তির ত্রয়োদশ বছরের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে, ৬২২ খ্রিস্টাব্দে আমাদের প্রিয় নবীর মদিনায় হিজরতের মধ্য দিয়ে দশ বছর স্থায়ী মদিনার যুগ শুরু হলো। মহানবী হযরত খালিদ ইবনে জায়েদ আবু আইয়ুব আনসারির ঘরে তাশরিফ এনে নিচতলায় থাকাই পছন্দ করলেন এবং সেখানেই অবস্থান নিলেন।1 এভাবে বিশ্বজগতের সরদারকে মেহমান হিসেবে বরণ করার এবং নিজের ঘরে রাখার সৌভাগ্য এই বরকতময় ব্যক্তির ভাগ্যে জুটল।
হযরত খালিদ বর্ণনা করেন, “রাসূলুল্লাহ আমার ঘরকে ধন্য করার পর নিচতলায় থাকাই পছন্দ করেছিলেন। আর আমরা থাকতাম ওপরতলায়; এ অবস্থায় আমরা খুবই কষ্ট পাচ্ছিলাম। একদিন আমি বললাম, ‘আমার মা-বাবা আপনার জন্য কুরবান হোন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ওপরে থাকব আর আপনি নিচে থাকবেন – এতে আমার মন সায় দেয় না, এটা আমি শোভন মনে করি না। এ আমার জন্য খুব ভারী বোঝা। দয়া করে অনুমতি দিন, আপনার মহান সত্তা ওপরে থাকবেন আর আমরা নিচে থাকব।’ তখন তিনি ইরশাদ করলেন, ‘হে আবু আইয়ুব! ঘরের নিচতলায় থাকাই আমাদের জন্য বেশি উপযুক্ত ও সুবিধাজনক।’ আগত দর্শনার্থীদের সঙ্গে আরও স্বচ্ছন্দে দেখাসাক্ষাৎ করার কথা ভেবে তিনি নিচতলায় থাকাই সমীচীন মনে করলেন। আর আমরা ঘরের ওপরতলায় রয়ে গেলাম।
একদিন আমাদের পানির কলসি ভেঙে গেল। গড়িয়ে পড়া পানি রাসূলুল্লাহর গায়ে চুইয়ে পড়ে তাঁকে কষ্ট দেবে – এই ভয়ে আমি ও আমার স্ত্রী গায়ে দেওয়ার একমাত্র মখমলের লেপটি তৎক্ষণাৎ পানির ওপর চেপে ধরলাম।”
আবু আইয়ুব আনসারি ওপরতলায় থাকায় ভীষণ অস্বস্তি বোধ করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজে নিচতলায় নেমে এলেন এবং রাসূলুল্লাহকে ওপরে তুলে নিলেন। হযরত আবু আইয়ুব বলেন, “আমরা সবসময় রাসূলুল্লাহর জন্য রাতের খাবার তৈরি করে পাঠাতাম। তিনি অবশিষ্ট খাবার আমাদের কাছে ফেরত পাঠালে আমি ও আমার স্ত্রী উম্মে আইয়ুব খুঁজে খুঁজে রাসূলুল্লাহর হাত যেখানে লেগেছে, সেখান থেকে খেতাম এবং এর মাধ্যমে বরকত লাভ করতাম। একবার এক রাতে আমাদের তৈরি করে পাঠানো পেঁয়াজ বা রসুন দেওয়া খাবার রাসূলুল্লাহ ফেরত পাঠালেন। তাতে তাঁর হাতের চিহ্ন দেখতে না পেয়ে আমি কাঁদতে কাঁদতে তাঁর কাছে গেলাম এবং বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা-বাবা আপনার জন্য কুরবান হোন! আপনি রাতের খাবার ফেরত পাঠিয়েছেন। কিন্তু তাতে আপনার মুবারক হাতের কোনো চিহ্ন দেখতে পেলাম না। অথচ আমি আর উম্মে আইয়ুব আপনার ফেরত পাঠানো খাবারে আপনার হাত যেখানে লেগেছে, তা খুঁজে খুঁজে খাই এবং এর মাধ্যমে বরকত লাভ করি।’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করলেন, ‘এই সবজিতে একটা গন্ধ টের পেয়েছি। তাই তা খাইনি। আমি এমন একজন মানুষ, যে ফেরেশতার সঙ্গে কথা বলে।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘সেই খাবার কি হারাম?’ তিনি ইরশাদ করলেন, ‘না! তবে গন্ধের কারণে আমার পছন্দ হয়নি।’ তখন আমি বললাম, ‘আপনার যা অপছন্দ, আমারও তা অপছন্দ!’ আমাদের নবী ইরশাদ করলেন, ‘তোমরা তা খাও।’ তখন আমরা তা খেলাম এবং এরপর আর কখনো সেই সবজি দিয়ে রাসূলুল্লাহর জন্য খাবার রান্না করিনি।
আরেকবার আমি রাসূলুল্লাহ ও আবু বকরের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ খাবার তৈরি করে তাঁদের খেদমতে নিয়ে গেলাম। রাসূলুল্লাহ বললেন, ‘হে আবু আইয়ুব! আনসারদের নেতৃস্থানীয়দের মধ্য থেকে ত্রিশজনকে দাওয়াত দাও।’ খাবার তো অল্প, হয়তো রাসূলে আকরাম এ খাবারকে বেশি মনে করেছেন – আমি এমন ভাবছিলাম; তখন তিনি আবার বললেন, ‘হে আবু আইয়ুব! আনসারদের নেতৃস্থানীয়দের মধ্য থেকে ত্রিশজনকে দাওয়াত দাও।’ হাজারো চিন্তার মধ্যে আমি আনসারদের ত্রিশজনকে দাওয়াত দিলাম, তাঁরা এলেন। সেই খাবার থেকে খেয়ে তাঁরা তৃপ্ত হলেন। এটি যে মুজিযা, তা বুঝতে পেরে আগতদের ঈমান আরও মজবুত হলো এবং তাঁরা আবার বাইআত করলেন। তারপর চলে গেলেন। এই মনোনীত সাহাবীরা চলে যাওয়ার পর এবার তিনি বললেন, ‘ষাটজনকে দাওয়াত দাও।’ মুজিযার কারণে খাবার একটুও কমেনি দেখে আমি আরও বেশি আনন্দিত হয়ে রাসূলুল্লাহর খেদমতে ষাটজনকে দাওয়াত দিলাম।
“উটনীর পথ ছেড়ে দাও! কোথায় বসবে, সে বিষয়ে তাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে” হাদীস শরীফ
মদিনা মুনাওয়ারা ও তার আশপাশ
তাঁরা এসে সেই খাবার থেকে খেলেন। তাঁরা সবাই রাসূলুল্লাহর মুজিযার সত্যতা স্বীকার করে ফিরে গেলেন। তারপর তিনি বললেন, ‘আনসারদের মধ্য থেকে নব্বইজনকে ডাকো।’ আমি ডাকলাম, তাঁরা এলেন। রাসূলুল্লাহর আদেশে তাঁরা দশজন দশজন করে দস্তরখানে বসে খেলেন; তাঁরা সবাই এই মহান মুজিযা দেখে ফিরে গেলেন। এভাবে একশো আশিজন মানুষ খাবার খেলেন। অথচ খাবার ছিল আমি যতটুকু নিয়ে গিয়েছিলাম ততটুকুই, আর তা এমনভাবে রয়ে গেল, যেন তাতে কেউ হাতই দেয়নি।”2
আনসার ও মুহাজিরদের ভ্রাতৃত্ব
মদিনা মুনাওয়ারায় আরও মজবুত বন্ধন গড়ে তোলার জন্য মহানবী হিজরতকারী মুহাজিরদের এবং তাঁদের নিজেদের ঘরে আশ্রয়দাতা আনসারদের পরস্পরের ভাই বানিয়ে দিলেন। হযরত আলি সবার শেষে বাকি রইলেন; তাঁকে ভুলে যাওয়া হয়েছে মনে করে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি আমাকে ভুলে গেছেন?” তখন জগৎসমূহের সরদার ইরশাদ করলেন, “তুমি দুনিয়া ও আখিরাতে আমার ভাই।” এই ভ্রাতৃত্ব ছিল বৈষয়িক ও আত্মিক পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর ফলে নিজের দেশ, ঘরবাড়ি ও আত্মীয়স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার বেদনা কিছুটা হলেও দূর হলো। এমনিতেই মদিনার মুসলমানরা আল্লাহ তাআলার দ্বীন পালন ও প্রচার করার জন্য দেশত্যাগী মুহাজির ভাইদের দুহাত বাড়িয়ে বরণ করেছিলেন, নিজেদের ঘরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং সব রকম সাহায্য করার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করেছিলেন। এই ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ফলে তাঁরা একে অপরকে আরও আন্তরিকভাবে আঁকড়ে ধরলেন। রাসূলুল্লাহ প্রত্যেক মুহাজিরকে তাঁর স্বভাবের সঙ্গে মানানসই একজন আনসারের ভাই বানিয়েছিলেন। এই ভ্রাতৃত্ব এমন পর্যায়ের ছিল যে, বাপ-দাদার রেখে যাওয়া সম্পদেও তাঁরা অংশীদার হতেন।3
মদিনার প্রত্যেকে নিজের জমি, আঙুরবাগান, বাগবাগিচা, ঘরবাড়ি, ধনসম্পদ – যা কিছু ছিল, সব দুই ভাগ করে অর্ধেক মুহাজির ভাইকে সানন্দে দিয়ে দিচ্ছিলেন। মুহাজিরদের অন্যতম হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ বর্ণনা করেন, “আমরা যখন মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরত করলাম, রাসূলুল্লাহ আমাকে সাদ ইবনে রাবির ভাই বানিয়ে দিলেন। তখন আমার ভাই সাদ আমাকে বললেন, ‘হে আমার ভাই আবদুর রহমান! ধনসম্পদের দিক থেকে আমি মদিনার মুসলমানদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী। আমি আমার সম্পদ দুই ভাগ করেছি, অর্ধেক তোমার।’ আমি বললাম, ‘আল্লাহ তাআলা তোমার সম্পদ তোমার জন্য বরকতময় ও কল্যাণকর করুন। আমার সম্পদের প্রয়োজন নেই। শুধু তোমরা যে বাজারে কেনাবেচা করো, আমাকে একটু সেখানে নিয়ে চলো – এটুকুই যথেষ্ট।’”
এমন ত্যাগ কেবল ইসলামি ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমেই সম্ভব ছিল। আদম আলাইহিস সালাম থেকে সে সময় পর্যন্ত বহু দেশান্তর ঘটেছে। কিন্তু এমন অর্থবহ ও মহান হিজরত, বাইরে থেকে আসা মানুষ ও স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে এমন ভালোবাসাপূর্ণ মিলন এবং আন্তরিক আলিঙ্গন আর কখনো ঘটেনি। আল্লাহ তাআলা মর্মার্থে ইরশাদ করেছেন, “মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই।”4 এর মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, প্রকৃত ভালোবাসা ও আন্তরিকতা বৈষয়িক স্বার্থের মাধ্যমে নয়, কেবল ঈমান ও বিশ্বাসের মাধ্যমেই হতে পারে। সাহাবায়ে কেরামের এই অবস্থা অর্জিত হতো রাসূলুল্লাহর একটিমাত্র সোহবতের মাধ্যমেই। আমাদের প্রিয় নবীর মুবারক হৃদয় থেকে সাগরের মতো উথলে ওঠা ফয়েজ ও বরকত সাহাবায়ে কেরামের হৃদয়ে প্রবাহিত হতো; এর ফলে তাঁরা নজিরবিহীন ত্যাগের সঙ্গে একে অপরকে ভালোবাসতেন এবং ভাইদের নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দিতেন।
“হে আমার রব! মক্কা নগরীকে আমরা যেমন ভালোবাসি, তেমনি আমাদের কাছে মদিনাকেও প্রিয় করে দাও। মক্কার চেয়েও বেশি প্রিয় করে দাও। হে আমার রব! আমাদের মাপের পাত্র ও পরিমাপে তুমি বরকত দাও। মদিনা নগরীকে আমাদের জন্য স্বাস্থ্যকর করে দাও। এর আবহাওয়া সুন্দর করে দাও!” হাদীস শরীফ
এই নতুন ইসলামি কেন্দ্রে আনসার ও মুহাজিররা হাতে হাত, হৃদয়ে হৃদয় মিলিয়ে অঙ্গীকার করলেন যে, ইসলাম ধর্মকে শক্তিশালী করার জন্য সব রকম ত্যাগ স্বীকার করবেন এবং শেষ পর্যন্ত শাহাদাতের মর্যাদায় পৌঁছাবেন। এভাবে তাঁরা রাসূলুল্লাহর চারপাশে সমবেত হয়ে ইসলাম ধর্মের মূলনীতি মেনে এক নতুন শৃঙ্খলা ও সুখী জীবন গড়ে তুলছিলেন। হিজরতের ঘটনার মধ্য দিয়ে ইসলাম এবার “রাষ্ট্র” হওয়ার পথে প্রথম পদক্ষেপ নিল। আর মদিনা মুনাওয়ারা হয়ে উঠছিল ইসলাম ধর্মের দোলনা ও কেন্দ্র।
মদিনায় সাহাবায়ে কেরাম ছাড়াও খ্রিস্টান, ইহুদি এবং মূর্তিপূজারি মুশরিকরাও ছিল। ইহুদিরা ছিল বনু কাইনুকা, বনু কুরাইজা ও বনু নাজির – এই তিন গোত্রে বিভক্ত। তারা ইসলামের এবং বিশেষ করে আমাদের প্রিয় নবীর ঘোর শত্রু ছিল।
এদিকে মক্কার মুশরিকরা মহানবীর মদিনায় সাহাবীদের পরস্পরের ভাই বানিয়ে এক করে দেওয়াকে নিজেদের জন্য বড় বিপদ হিসেবে দেখল। অল্প সময়ের মধ্যে তারা যদি এর মোকাবিলা করতে না পারে, তাহলে মুসলমানরা শক্তিশালী হয়ে মক্কায় হামলা চালাতে পারে, ফেলে আসা জমিজমা, ঘরবাড়ি ও জন্মভূমি তাদের হাত থেকে কেড়ে নিতে পারে… এমন চিন্তায় ডুবে থেকে মক্কার মুশরিকরা মদিনার মুসলমানদের কাছে হুমকির চিঠি পাঠাতে লাগল। এসব চিঠির একটিতে লেখা ছিল, “নিঃসন্দেহে আমাদের সঙ্গে শত্রুতা আছে এমন কোনো আরব গোত্রই আমাদের তোমাদের মতো ক্রুদ্ধ করেনি। কারণ আমাদেরই একজন লোককে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া যেখানে তোমাদের কর্তব্য ছিল, সেখানে তোমরা তাকে সাহায্য করেছ, দুহাত বাড়িয়ে তাকে রক্ষা করেছ। এটা তোমাদের অনেক বড় অপরাধ। দয়া করে তার আর আমাদের মাঝখান থেকে সরে দাঁড়াও এবং তাকে আমাদের হাতে ছেড়ে দাও। যদি তার কাজকর্ম ভালোভাবে চলে, তাহলে এতে সবচেয়ে বেশি খুশি হব আমরাই। আর উল্টোটা হলে তাকে সামলানোর দায়িত্বও আমাদেরই!…”
এই চিঠির উত্তরে হযরত কাব ইবনে মালিক আমাদের নবীর প্রশংসায় অত্যন্ত সুন্দর একটি জবাব লিখলেন।
মক্কার মুশরিকরা মদিনার মুশরিকদের কাছেও একই ধরনের হুমকির চিঠি লিখল। তাদেরও এই বলে হুমকি দিল, “তোমরা যদি আমাদের লোককে তোমাদের শহর থেকে বের করে না দাও কিংবা হত্যা না করো, তাহলে আমরা তোমাদের ওপর চড়াও হব, তোমাদের হত্যা করব এবং তোমাদের নারীদের আমাদের দাসী বানাব!…”
এরপর মদিনার মুশরিকরা মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের চারপাশে জড়ো হলো এবং সুযোগ পেলেই রাসূলুল্লাহর ক্ষতি করার সিদ্ধান্ত নিল।
মুসলমানরা এ কথা জানতে পেরে আমাদের প্রিয় নবীকে রক্ষা করার জন্য সাধ্যমতো সব রকম চেষ্টা করলেন এবং তাঁর চারপাশে দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হলেন। এমনকি তাঁদের এমন অবস্থা হলো যে, রাতে রাস্তায় বের হতে পারতেন না, নিজের ঘরে ঘুমাতেও পারতেন না।
উবাই ইবনে কাব বর্ণনা করেন, “রাসূলুল্লাহ ও তাঁর সাহাবীরা মদিনা মুনাওয়ারায় তাশরিফ আনলে মুসলমানরা মুশরিক আরব গোত্রগুলোর শত্রুতার লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়লেন। সাহাবীরা সশস্ত্র অবস্থায় সকাল পর্যন্ত পাহারা দিতেন।”
সাহাবায়ে কেরাম এক দেহের মতো হয়ে গিয়েছিলেন; বিপদের সময় তাঁরা পুরো শক্তি নিয়ে মুসলমান ভাইদের সাহায্যে ছুটে যেতেন। তাঁদের সবার আগে থাকতেন আমাদের প্রিয় নবী। রাসূলুল্লাহ প্রতিটি সুন্দর গুণে যেমন সবার আগে ছিলেন, সাহসিকতায়ও তেমনি সাহাবীদের সবার সামনে থাকতেন। রাতের যে প্রহরেই হোক, কোনো আর্তনাদ শোনা গেলে কেউ পৌঁছানোর আগেই আমাদের নবী ঘোড়ায় চড়ে বিদ্যুৎগতিতে সেখানে পৌঁছে যেতেন, সাহাবীদের জানাতেন যে, ভয়ের কিছু নেই এবং তাঁদের শান্ত করতেন।
“হে আলি! তুমি দুনিয়া ও আখিরাতে আমার ভাই” হাদীস শরীফ
দুই জাহানের সুলতানের
জন্মের মাস এল আবার,
জ্ঞান ও মারিফাতের খনির
জন্মের মাস এল আবার।
আসুক সে, যে শাফায়াত চায়,
তাঁর প্রেমিক পাক প্রশান্তি,
সেই উত্তম চরিত্রের অধিকারীর
জন্মের মাস এল আবার।
আঁধারের পূর্ণিমা, প্রভাতের সূর্য,
আল্লাহর গোলাপবাগানের গোলাপ,
হকের হাবিব মুস্তফার
জন্মের মাস এল আবার।
কোথায় এক সত্যনিষ্ঠ প্রেমিক? –
প্রশান্তি পাক তার প্রাণ ও দেহ,
হাকিকতের রহস্যের ভাণ্ডারের
জন্মের মাস এল আবার।
তাঁকে, হুদায়ি, যে ভালোবাসে,
সে পেয়েছে কাঙ্ক্ষিত বিজয়,
জগতের গৌরব, মানবজাতির সর্বোত্তমের
জন্মের মাস এল আবার।
মদিনার একটি পুরনো দৃশ্য
মসজিদে নববি / মদিনা মুনাওয়ারা
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরত করার সময় তাঁর কাসওয়া উটনী যে জমিতে বসে পড়েছিল, সেই জমি।
আমাদের প্রিয় নবী এই জমি কিনে এর ওপর মসজিদ নির্মাণ করান।
এই মসজিদের সঙ্গে লাগোয়া ঘরেই তিনি ইন্তেকাল করেন,
আর তাঁর মুবারক কবর শরীফও এই কক্ষেই তৈরি করা হয়।
পরে এই কক্ষে হযরত আবু বকর ও হযরত উমরকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) দাফন করা হয়।
তাঁদের পাশে একজনের পরিমাণ জায়গায় ঈসা আলাইহিস সালামকে
দাফন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
