আমার প্রিয় নবী

অবরোধ

অবরোধের সূচনা

নবুয়তপ্রাপ্তির (বিসতের) সপ্তম বছর… মুশরিকরা মানুষের অন্তরে ইসলামের প্রবেশ ও প্রসার ঠেকাতে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। তবুও দিন দিন মুসলমানদের সংখ্যা আরও বাড়ছিল। মুসলমানদের ওপর চালানো নির্যাতন ও জুলুম তাঁদের পথ থেকে ফেরাতে পারছিল না; বরং তাঁরা পরস্পরকে আরও আঁকড়ে ধরছিলেন, আরও দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছিলেন। তাঁদের কেউই দ্বীন থেকে ফিরে যাচ্ছিলেন না, রাসূলুল্লাহর পথে প্রাণ উৎসর্গ করতে তাঁরা দ্বিধা করছিলেন না। এসব শুনে মক্কার বাইরের গোত্রগুলোর কৌতূহল বাড়ছিল, আর ইসলামের আলো আরও দূর দেশে পৌঁছে যাচ্ছিল। মুশরিকরা যখন জানতে পারল যে, হাবশায় পাঠানো লোকেরা উদ্দেশ্য সফল করতে পারেনি, এমনকি নাজাশি আসহামা মুসলমান হয়েছেন এবং মুসলমানদের রক্ষা করে তাঁদের সঙ্গে সদাচরণ করছেন, তখন তারা ক্ষোভে উন্মত্ত হয়ে উঠল। এসবের প্রতিশোধ পুরোমাত্রায় নিতে এবং ইসলামের মূলোৎপাটন করতে তারা একত্র হয়ে এই ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিল: “যেখানেই থাকুক, যেখানেই দেখা যাক, মুহাম্মদকে অবশ্যই হত্যা করা হবে!”

কাফিররা এ জন্য কসমের পর কসম খেল।

মুশরিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে আবু তালিব অত্যন্ত ব্যথিত হলেন। কলিজার টুকরা বরকতময় ভাতিজার জীবন নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। নিজ গোত্রকে একত্র করে তিনি তাদের কুরাইশ মুশরিকদের হাত থেকে বিশ্বজগতের সুলতানকে রক্ষা করার নির্দেশ দিলেন। বনু হাশিম আত্মীয়তার টানে এই নির্দেশ পালনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হলো। এ উদ্দেশ্যে তারা মহানবী ও তাঁর ওপর ঈমান আনা সকল সাহাবীকে মক্কার উত্তর দিকে বাইতুল্লাহ থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একটি টিলার ওপর অবস্থিত শিআবে আবু তালিবে, অর্থাৎ আবু তালিবের মহল্লায় ডেকে নিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণকে একত্র করে শিআবে বসবাস করতে শুরু করলেন। বনু হাশিমের মধ্যে শুধু আবু লাহাবই মহানবীকে রক্ষা করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করল এবং শিআবে গেল না। তাকে নিয়েই মুশরিকরা জোট বাঁধল এবং আমাদের নবীকে হত্যার সুযোগ খুঁজতে লাগল।1

মুশরিকরা যখন দেখল যে, মহানবী ও তাঁর সাহাবীগণ আবু তালিবের মহল্লায় একত্র হয়েছেন, তখন তারা আবার একজোট হলো। তারপর এই সিদ্ধান্ত নিল: “মুহাম্মদ আলাইহিস সালামকে হত্যার জন্য কুরাইশদের হাতে তুলে না দেওয়া পর্যন্ত বনু হাশিমের কোনো মেয়েকে বিয়ে করা হবে না!… তাদের কাছে কোনো মেয়ে বিয়ে দেওয়া হবে না!… তাদের কাছে কিছুই বিক্রি করা হবে না!… তাদের কাছ থেকে কিছুই কেনা হবে না!… তাদের সঙ্গে দেখা করা হবে না, কথা বলা হবে না, মেলামেশা করা হবে না!… তাদের ঘরে, তাদের মহল্লায় কেউ প্রবেশ করবে না!… তাদের পক্ষ থেকে আসা সন্ধির কোনো প্রস্তাব কখনো গ্রহণ করা হবে না!… কখনো তাদের প্রতি দয়া দেখানো হবে না!…”

মানসুর ইবনে ইকরিমা নামের এক মুশরিক এই সিদ্ধান্ত একটি কাগজে লিখল, আর তারা তাতে সিলমোহর দিল। সবাই যেন দেখে এবং মেনে চলে, সেজন্য তারা এটি কাবা মুআজ্জমার দেয়ালে ঝুলিয়ে দিল।

এ খবর আমাদের প্রিয় নবীর কাছে পৌঁছালে তিনি খুবই ব্যথিত হলেন এবং দোয়া করলেন। তাঁর দোয়া সঙ্গে সঙ্গে কবুল হলো; হতভাগা মানসুরের হাত দুটি মুহূর্তের মধ্যে শুকিয়ে গেল। মুশরিকরা হতভম্ব হয়ে বলল, “দেখো! বনু হাশিমের ওপর আমাদের জুলুমের প্রতিফলে মানসুরের হাত শুকিয়ে গেছে, সে বিপদে পড়েছে।” কিন্তু তাদের বোধোদয় হওয়ার বদলে তারা আরও উদ্ধত হয়ে উঠল। শিআবে যাওয়ার পথগুলোর মুখে তারা পাহারাদার বসাল। সেখানে খাবার ও পোশাক ঢুকতে দিল না। মক্কায় আসা বিক্রেতাদের তারা বলে দিল, তারা যেন শিআবে না ঢোকে, পণ্য সেখানে না নিয়ে যায়; প্রয়োজন হলে মুশরিকরা নিজেরাই চড়া দামে সেসব কিনে নেবে। তারা ভেবেছিল, এভাবে শিআবে থাকা লোকদের না খাইয়ে মারবে, অথবা বনু হাশিম অনুতপ্ত হয়ে মহানবীকে তাদের হাতে তুলে দেবে। প্রতিবছর কাবা জিয়ারতের মৌসুম পর্যন্ত এই অবস্থা চলত।

“হে আমার নবী! তোমার জন্য আল্লাহ এবং মুমিনদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করে, তারাই যথেষ্ট!” আনফাল: ৬৪

প্রথা অনুযায়ী এই সময়ে রক্তপাত করা হতো না। তাই বনু হাশিম তখন নির্বিঘ্নে মক্কায় যেত এবং কেনাবেচা করে এক বছরের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করত। তাদের কেউ কোনো ব্যবসায়ীর কাছে পণ্য কিনতে এলে মুশরিকদের নেতৃস্থানীয় আবু লাহাব ও আবু জাহলের মতো লোকেরা সঙ্গে সঙ্গে হাজির হয়ে ব্যবসায়ীদের বলত, “হে ব্যবসায়ীরা! মুহাম্মদের সাহাবীদের জন্য তোমাদের দাম অনেক বাড়িয়ে দাও, যাতে চড়া দামের কারণে কেউ কিছুই কিনতে না পারে! এর ফলে তোমাদের পণ্য বিক্রি না হয়ে হাতে থেকে গেলে আমরা সবই কিনে নিতে প্রস্তুত।” ব্যবসায়ীরাও তাদের পণ্যের চড়া দাম হাঁকত, আর মুসলমানরা কিছু না কিনেই ফিরে আসতেন…

এ পথে আমাদের প্রিয় নবী, আমাদের মা হযরত খাদিজা ও আবু বকর সিদ্দিক তাঁদের সমস্ত সম্পদ ব্যয় করলেন; ক্ষুধায় শিশুদের আকাশ-ফাটা কান্না থামানোর চেষ্টা করলেন। তাঁরা শিশুদের গাছের ছাল, ঘাসের শিকড়, এমনকি শুকনো চামড়ার টুকরো পর্যন্ত খাওয়ালেন। মা-বাবারা অসহায় অবস্থায় হাড্ডিসার হয়ে গিয়েছিলেন। মহানবী ও সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম ক্ষুধার জ্বালায় পেট মুবারকে পাথর বাঁধলেন। মুশরিকদের কেউ দয়াপরবশ হয়ে গোপনে কিছু নিয়ে এলে তারা তাকে মারধর করত, ভীষণ অপমান করত। মোটকথা, আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, মুমিনগণ চরম দুরবস্থায় পড়েছিলেন।

মুশরিকরা অপেক্ষায় রইল, কখন এই কঠোর জুলুমের ফলে বনু হাশিম পথে আসবে এবং আবু তালিব মহানবীকে তাদের হাতে তুলে দেবেন। কিন্তু আবু তালিবের মহল্লার মুসলমানরা তাদের এই ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীতে মহানবীকে রক্ষা করছিলেন এবং তাঁর যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য সব রকম ব্যবস্থা নিচ্ছিলেন। সম্ভাব্য গুপ্তহত্যা ঠেকাতে আবু তালিব রাসূলুল্লাহর শোয়ার জায়গায় পালা করে প্রহরী রাখতেন, যাতে তিনি নিশ্চিন্তে ঘরে ঘুমাতে পারেন। আর মহানবী কোনো দ্বিধা ছাড়াই আল্লাহ তাআলার আদেশ পালন ও ইসলাম প্রচারের জন্য এক মুহূর্তও নষ্ট করতেন না। মানুষকে দ্বীনের দিকে আহ্বান করে তাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হওয়ার জন্য তিনি চেষ্টা করতেন, এ পথে ধৈর্যের সঙ্গে নসিহত চালিয়ে যেতেন। যে কুরাইশ মুশরিকরা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলত, তারাও যেন ক্ষুধা কী জিনিস তা বুঝতে পারে, সেজন্য একদিন রাসূলুল্লাহ দোয়া করলেন, “হে আল্লাহ! ইউসুফের (আলাইহিস সালাম) সময়ের সাত বছরের দুর্ভিক্ষের মতো এদেরও সাত বছরের দুর্ভিক্ষের আজাব দিয়ে আমাকে সাহায্য করো।” এরপরের দিনগুলোতে আকাশ থেকে এক ফোঁটা বৃষ্টিও পড়ল না। পানির অভাবে মাটি ঝলসে গেল। মাটিতে একটি সবুজ উদ্ভিদও আর দেখা যেত না। কুরাইশ মুশরিকরা কিসের কবলে পড়েছে, বুঝে উঠতে না পেরে হতভম্ব হয়ে গেল। ক্ষুধায় মরা পশু, পচা কুকুরের চামড়া খেয়ে তারা মৃত্যু থেকে বাঁচার চেষ্টা করল।

তাদের শিশুরাও ক্ষুধায় আর্তনাদ করে কাঁদতে শুরু করল। অনেকেই না খেয়ে মারা গেল। ক্ষুধার কারণে আকাশের দিকে তাকালে তারা চারদিক যেন ধোঁয়ায় ঢাকা দেখত। তাদের যেন কিছুটা বোধোদয় হলো, নিজেদের জুলুমের ভয়াবহতা যেন তারা বুঝতে পারল। তারা নিজেদের মধ্য থেকে আবু সুফিয়ানকে মহানবীর মুবারক দরবারে পাঠাল। আবু সুফিয়ান এসে কসম খেয়ে বলল, “হে মুহাম্মদ! তুমি বলো যে, তোমাকে জগৎসমূহের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে; তুমি আমাদের আল্লাহর ওপর বিশ্বাস আনতে এবং আত্মীয়তার হক রক্ষা করতে আদেশ দাও। অথচ তোমার জাতি খরা ও দুর্ভিক্ষে ধ্বংস হয়ে মারা যাচ্ছে। এই বিপদ আমাদের ওপর থেকে দূর হওয়ার জন্য তোমার রবের কাছে একটু দোয়া করে দাও; আল্লাহ তোমার দোয়া কবুল করেন। তুমি যদি এমন দোয়া করো, আমরা সবাই ঈমান আনব!…”

এভাবে নিজেদের জুলুম ও নির্যাতন একপাশে সরিয়ে রেখে বিপদে পড়ে তারা রাসূলুল্লাহর কাছে অনুনয়-বিনয় করতে শুরু করল। মহানবী তাদের কৃতকর্মের খোঁটা দিলেন না; “ঈমান আনব” কথাটি শুনে তিনি মুবারক হাত তুলে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর হাবিবের দোয়া কবুল করলেন এবং মক্কায় অঝোর ধারায় বৃষ্টি পাঠালেন; মাটি পানিতে তৃপ্ত হলো, গাছপালা সবুজ হয়ে উঠতে লাগল। কিন্তু খরা ও দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তি পেলেও মুশরিকরা দেওয়া কথা ভুলে গিয়ে কুফরে অটল রইল…

আল্লাহ তাআলা তাদের জবাবে যে পবিত্র আয়াতগুলো নাজিল করেন, তাতে মর্মার্থে ইরশাদ করেন, “বরং তারা (আল্লাহ তাআলা ও মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের প্রতি বিশ্বাস করে না; পবিত্র কুরআন, আখিরাত ও পুনরুত্থানের ব্যাপারে) সন্দেহের মধ্যে খেলায় মেতে আছে। অতএব (হে আমার হাবিব!) তুমি সেই দিনের অপেক্ষা করো, যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আসবে। সেই ধোঁয়া সব মানুষকে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলবে। এ এক ভয়ংকর আজাব! (মানুষ বলবে,) ‘হে আমাদের রব! আমাদের থেকে এই আজাব দূর করো, আমরা ঈমান আনব।’ তাদের কাছে সত্যকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনাকারী একজন রাসূল আসা সত্ত্বেও তাদের চিন্তা করে উপদেশ গ্রহণের সুযোগ কোথায়? তারপর তারা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল, ‘সে তো শেখানো এক পাগল।’ আমি এই আজাব সামান্য দূর করলে তোমরা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। যেদিন তাদের প্রচণ্ড শক্তিতে পাকড়াও করা হবে, (বদরের দিন) সেদিন আমি অবশ্যই (তাদের থেকে) প্রতিশোধ নেব। আমার মহিমার কসম, আমি এদের (কুরাইশ মুশরিকদের) আগে ফিরআউনের জাতিকেও পরীক্ষা করেছিলাম। তাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে একজন সম্মানিত রাসূল এসেছিলেন (তিনি মূসা আলাইহিস সালাম)। তিনি তাদের বললেন, ’আল্লাহর বান্দাদের (বনি ইসরাইলকে) আমার হাতে সোপর্দ করো। (তাদের আমার সঙ্গে পাঠিয়ে দাও। তাদের মুক্ত করে দাও, তাদের শাস্তি দিয়ো না।) নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহীসহ প্রেরিত বিশ্বস্ত রাসূল। আল্লাহ তাআলার বিরুদ্ধে অহংকার কোরো না। কারণ আমি তোমাদের কাছে আমার দাবির সত্যতা প্রমাণকারী দলিল ও সুস্পষ্ট মুজিযা নিয়ে এসেছি। জেনে রাখো, তোমরা যেন আমাকে পাথর মেরে হত্যা করতে না পারো, সেজন্য আমি আমার ও তোমাদের রব আল্লাহ তাআলার আশ্রয় নিচ্ছি; তিনিই আমাকে রক্ষা করবেন। যদি তোমরা আমাকে সত্য বলে না মানো এবং আমার প্রতি ঈমান না আনো, তবে আমাকে আমার অবস্থায় ছেড়ে দাও। (আমি তোমাদের কল্যাণের আশা ছেড়ে দিয়েছি। অন্তত তোমাদের অনিষ্ট যেন আমাকে স্পর্শ না করে।)’ (তারা ঈমান আনল না, তাঁকে মিথ্যাবাদী বলল, উপরন্তু তাঁর ওপর নানা অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করল; তখন) মূসা (আলাইহিস সালাম) আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করে বললেন, ‘হে আমার রব! এরা কুফরে অটল এক জাতি।’ আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি ওহী পাঠিয়ে ইরশাদ করলেন, ’আমার বান্দাদের (বনি ইসরাইলকে) নিয়ে রাতে (মিসর থেকে) বেরিয়ে যাও! ফিরআউন ও তার দলবল তোমাদের বেরিয়ে যাওয়ার খবর পেলে অবশ্যই তোমাদের পিছু ধাওয়া করবে। তোমার জাতিকে নিয়ে সমুদ্র পার হওয়ার পর একে যেমন আছে তেমনই রেখে দাও (লাঠি দিয়ে আবার আঘাত করে খুলে যাওয়া পথগুলো বন্ধ কোরো না; খোলা রেখে দাও)। কারণ ফিরআউন ও তার সৈন্যরা সেই পথে ঢুকে ডুবে যাবে, পানিতে নিমজ্জিত হবে।’”2

অবরোধের অবসান

মুশরিকরা “ঈমান আনব” কথা থেকে ফিরে গিয়ে আবার জুলুম শুরু করল। একদিন আল্লাহ তাআলা ওহীর মাধ্যমে মহানবীকে এই সংবাদ দিলেন: “কাবায় ঝুলিয়ে রাখা চুক্তিপত্রের ওপর তিনি একটি কাঠপোকা (ঘুণপোকা) লেলিয়ে দিয়েছেন, আর সেই পোকা আল্লাহ তাআলার নাম ছাড়া সব লেখা খেয়ে ফেলেছে।” মহানবী আবু তালিবকে বললেন, “চাচাজান! আমার রব আল্লাহ তাআলা কুরাইশদের চুক্তিপত্রের ওপর কাঠপোকা লেলিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলার নাম ছাড়া তাতে লেখা জুলুম, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা, অপবাদ… ইত্যাদির কিছুই তিনি বাকি রাখেননি, সবই মুছে দিয়েছেন।”

“হে আল্লাহ! ইউসুফের (আলাইহিস সালাম) সময়ের সাত বছরের দুর্ভিক্ষের মতো এদেরও সাত বছরের দুর্ভিক্ষের আজাব দিয়ে আমাকে সাহায্য করো!” হাদীস শরীফ

আবু তালিব জিজ্ঞেস করলেন, “এ কথা কি তোমাকে তোমার রব জানিয়েছেন?” মহানবী বললেন, “হ্যাঁ।” তখন আবু তালিব বললেন, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি সবসময় সত্যই বলো।” তিনি সঙ্গে সঙ্গে পোশাক পরে কাবার দিকে রওনা হলেন। সেখানে মুশরিকদের নেতৃস্থানীয় লোকেরা বসে ছিল। আবু তালিবকে আসতে দেখে তারা বলল, “নিশ্চয়ই মুহাম্মদকে আমাদের হাতে তুলে দিতে আসছে!…” আবু তালিব তাদের কাছে পৌঁছে বললেন, “হে কুরাইশ সম্প্রদায়! ‘আল-আমিন’ নামে পরিচিত, জীবনে কখনো মিথ্যা না বলা আমার ভাতিজা জানিয়েছেন যে, তোমাদের লেখা চুক্তিপত্রে আল্লাহ তাআলার নাম ছাড়া সব লেখা একটি কাঠপোকা খেয়ে ফেলেছে। চলো, আমাদের বিরুদ্ধে লেখা তোমাদের কাগজটি নিয়ে এসো, দেখি!… যদি এ কথা সত্য হয়, তবে কসম করে বলছি, আমরা সবাই মৃত্যু পর্যন্ত তাঁকে রক্ষা করে যাব! তোমরাও এবার এই জুলুম ও মন্দ আচরণ থেকে বিরত হও…” মুশরিকরা উত্তেজিত হয়ে কাবার দেয়াল থেকে চুক্তিপত্রটি নামিয়ে আনল। আবু তালিব “পড়ো!” বললে তাদের একজন পড়ার জন্য চুক্তিপত্রটি খুলল এবং দেখল, “বিসমিকা আল্লাহুম্মা” কথাটি ছাড়া সব লেখা মুছে গেছে।3 মুশরিকরা কী বলবে, কী করবে, ভেবে পেল না। এমনকি তাদের কেউ কেউ চুক্তি থেকে সরে এল, আর তারা এই কঠোর অবরোধ তুলে নিল, যা তিন বছর ধরে চলেছিল, অবিস্মরণীয় কষ্ট বয়ে এনেছিল এবং অন্তরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু শত্রুতা থেকে তারা কিছুতেই বিরত হলো না; বরং আরও কঠোর হয়ে উঠল। ইসলামের প্রসার ঠেকাতে তারা সব পথ চেষ্টা করে দেখল। এত চেষ্টা সত্ত্বেও ইসলাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ আলাইহিস সালাম জাহিলিয়াত যুগের অন্ধকারে (জুলমাতে) দম বন্ধ হয়ে আসা মানুষদের উদ্ধার করার চেষ্টা করছিলেন এবং তাদের প্রকৃত সৌভাগ্যে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। এই সৌভাগ্য যাঁরা লাভ করেছিলেন, তাঁরা এই মহান নিয়ামতের জন্য শোকর আদায় করছিলেন; মুশরিকদের অপমান ও নির্যাতনের সামনে কখনো দমে যাচ্ছিলেন না। মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের মুজিযাসমূহ এবং দ্বীনের ওপর মুসলমানদের অবিচলতা দেখে কত হৃদয় ইসলামের নূরে আলোকিত হচ্ছিল।

চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া

মহানবীর মহান মুজিযাসমূহের একটি হলো চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া। আবু জাহল ও ওয়ালিদ ইবনে মুগিরাসহ একদল মুশরিক রাসূলে আকরামকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলল, “তুমি যদি সত্যিই নবী হয়ে থাকো, তবে চাঁদকে এমনভাবে দুই ভাগ করো, যেন এর অর্ধেক কুআইকিআন পাহাড়ের ওপর আর অর্ধেক আবু কুবাইস পাহাড়ের ওপর দেখা যায়!…” রাসূলুল্লাহ বললেন, “আমি যদি তা করি, তোমরা কি ঈমান আনবে?” তারা বলল, “হ্যাঁ, ঈমান আনব।” রাসূলুল্লাহ চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করলেন। জিবরাইল আলাইহিস সালাম সঙ্গে সঙ্গে আমাদের প্রিয় নবীর কাছে এসে বললেন, “হে মুহাম্মদ! মক্কাবাসীকে জানিয়ে দিন, তারা যেন আজ রাতে মুজিযাটি দেখে।” মহানবী জানিয়ে দিলেন যে, চাঁদের চৌদ্দ তারিখের রাতে, যখন তা পূর্ণ বদর (পূর্ণিমার চাঁদ), অর্থাৎ পুরোপুরি গোল ও সবচেয়ে উজ্জ্বল থাকে, সেই রাতে চাঁদ দুই ভাগ হবে; যারা শিক্ষা নিতে চায়, তারা যেন তা দেখে। সেই রাতে আমাদের প্রিয় নবী মুবারক আঙুল দিয়ে ইশারা করতেই চাঁদ দুই ভাগ হয়ে গেল। এক ভাগ আবু কুবাইস পাহাড়ের ওপর, অন্য ভাগ কুআইকিআন পাহাড়ের ওপর দেখা গেল। তারপর আকাশে তা আবার জোড়া লেগে গেল।

রাসূলুল্লাহ বললেন, “হে আবু সালামা ইবনে আবদুল আসাদ, আরকাম ইবনে আবিল আরকাম! তোমরা সাক্ষী থাকো!” তারপর কাছে থাকা অন্য সাহাবীগণকেও বললেন, “তোমরা সাক্ষী থাকো!” মুশরিকরা নিজের চোখে আরেকটি সুস্পষ্ট মুজিযা দেখল। কিন্তু কথা রেখে ঈমান আনার বদলে অন্যরাও যেন ঈমান আনতে না পারে, সেজন্য তারা বলল, “এ তো আমাদের ওপর মুহাম্মদের জাদু মাত্র! কিন্তু সে তো সব মানুষকে জাদু করতে পারবে না!… চলো, অন্য জনপদ থেকে আসা লোকদেরও জিজ্ঞেস করি। দেখি, তারাও একই ঘটনা দেখেছে কি না। যদি দেখে থাকে, তবে মুহাম্মদের নবুয়তের দাবি সত্য। নইলে এ জাদু।” তারা আগন্তুকদের জিজ্ঞেস করল, এমনকি অন্য জায়গায় লোক পাঠিয়েও জিজ্ঞেস করাল। সবার কাছ থেকে একই কথা শুনল, “হ্যাঁ, সেই রাতে আমরা চাঁদকে দুই ভাগ হতে দেখেছি!” তবুও তারা অস্বীকার করল। অস্বীকারকারীদের পুরোভাগে ছিল আবু জাহল। মানুষ যেন ঈমানের নিয়ামত লাভ করতে না পারে, সেজন্য সে “আবু তালিবের ইয়াতিমের জাদু আকাশেও প্রভাব ফেলেছে!…” বলে মানুষের মন বিষিয়ে দিচ্ছিল।4 তার এই অস্বীকারের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা পবিত্র আয়াত নাজিল করলেন, যার মর্মার্থ:

“সেই ক্ষণ (কিয়ামত) ঘনিয়ে এসেছে এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে (দুই ভাগ হয়েছে)। তারা (কুরাইশ কাফিররা) কোনো মুজিযা (মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের নবুয়তের প্রমাণ বহনকারী মুজিযা) দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেয় (তা নিয়ে চিন্তা করা ও ঈমান আনা থেকে) এবং বলে, ’এ তো চিরাচরিত (বিরামহীন, সর্বব্যাপী, শক্তিশালী) জাদু।’ তারা (নবীকে বা মুজিযাকে) মিথ্যা বলেছে এবং নিজেদের খেয়ালখুশির (নফসের কামনা-বাসনার) অনুসরণ করেছে। অথচ প্রতিটি বিষয় (তার নিজ লক্ষ্যের) পরিণতিতে পৌঁছে, নিজ স্থান খুঁজে পায়। নিশ্চয়ই তাদের কাছে (মক্কার মুশরিকদের কাছে) এমন বহু গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ (বিধান, নিষেধাজ্ঞা) এসেছে, যা তাদের (মন্দ থেকে) বিরত রাখতে পারত। (এই আদেশ ও জ্ঞান) পূর্ণাঙ্গ হিকমত। কিন্তু রাসূলগণ, সতর্কবাণী ও ভীতিপ্রদর্শন (তাদের) কোনো উপকারেই আসে না। অতএব তুমিও (হে আমার হাবিব! তারা অস্বীকারে জেদ ধরে থাকলে) তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। যেদিন আহ্বানকারী (ইসরাফিল আলাইহিস সালাম) এক অদৃষ্টপূর্ব ও অজানা বিষয়ের দিকে (হাশরের ময়দানে, হিসাবের দিকে) আহ্বান করবেন, সেদিন তারা লাঞ্ছিত ও অবনত দৃষ্টিতে (ভয় ও আতঙ্কে কোথায় যাবে বুঝতে না পেরে) বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের মতো কবর থেকে বেরিয়ে আসবে। কাফিররা (মাথা নিচু করে) সেই আহ্বানকারীর দিকে ছুটে যেতে যেতে বলবে, ‘এ তো আমাদের জন্য কত কঠিন, কত ভয়ংকর দিন!’”5

আমার রব তোমাদেরও হিদায়াত দান করুন

মুসলমানদের ওপর মুশরিকদের তিন বছরের অবরোধ শেষ হওয়ার পর নাজরান থেকে একদল লোক রাসূলুল্লাহর কাছে এলেন। তাঁরা ছিলেন প্রায় বিশজন; হাবশায় হিজরতকারী সাহাবায়ে কেরামের কাছ থেকে তাঁরা ইসলামের কথা শুনেছিলেন এবং ইসলাম শেখা ও মহানবীকে দেখার সৌভাগ্য লাভের জন্য মক্কায় এসেছিলেন। কাবা মুআজ্জমার পাশে তাঁরা রাসূলুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। বহু প্রশ্ন করে তাঁরা যা আশা করেছিলেন, তার চেয়েও সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর পেলেন। কুরাইশ মুশরিকরা আশপাশ থেকে তাঁদের লক্ষ করছিল। জগৎসমূহের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত আমাদের প্রিয় নবী তাঁদের পবিত্র কুরআন থেকে কয়েকটি পবিত্র আয়াত পাঠ করে শোনালেন। এতে তাঁরা গভীরভাবে প্রভাবিত হলেন এবং চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেললেন। তারপর মহানবীর আহ্বানে পরম আনন্দে কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করে মুসলমান হওয়ার মর্যাদা লাভ করলেন। তাঁরা দেশে ফেরার অনুমতি চাইলে আবু জাহল তাঁদের কাছে এসে এমন অপমানজনক কথা বলল: “তোমাদের মতো আহাম্মক আর দেখিনি!… তার কাছে একবার বসেই তোমরা নিজেদের ধর্ম ত্যাগ করলে, আর সে যা বলল, সবই সত্য বলে মেনে নিলে!…” সদ্য সাহাবী হওয়ার মর্যাদা লাভকারী এই মানুষগুলো জবাব দিলেন, “আমরা কামনা করি, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরও হিদায়াত (সঠিক পথ) দান করুন। আমাদের সঙ্গে তোমরা যে অপমান ও মূর্খতা দেখালে, আমরা তোমাদের সঙ্গে তা করব না। আমরা তো তোমাদের কোনো অধিকার খর্ব করিনি। কিন্তু ভালো করে জেনে রাখো, কয়েকজন মূর্খের কথায় আমাদের পাওয়া এই মহান নিয়ামত কখনো হারাতে চাই না; এই সত্য দ্বীন থেকে আমরা ফিরে যাব না।”6

“চাচাজান! আমার রব আল্লাহ তাআলা কুরাইশদের চুক্তিপত্রের ওপর কাঠপোকা লেলিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলার নাম ছাড়া তাতে লেখা জুলুম, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা, অপবাদ… ইত্যাদির কিছুই তিনি বাকি রাখেননি, সবই মুছে দিয়েছেন” হাদীস শরীফ

এই ঘটনা উপলক্ষে আল্লাহ তাআলা যে পবিত্র আয়াতসমূহ নাজিল করেন, তাতে মর্মার্থে ইরশাদ করেন, “এর (পবিত্র কুরআনের) আগে আমি যাদের কিতাব দিয়েছিলাম, তাদের অনেকেই এতে (পবিত্র কুরআনে) বিশ্বাস করে। যখন তাদের কাছে এটি (পবিত্র কুরআন) পাঠ করা হয়, তারা বলে, ’আমরা এতে ঈমান এনেছি। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের রবের পক্ষ থেকে (আগত) সত্য। প্রকৃতপক্ষে আমরা এর আগেও ইসলাম গ্রহণকারী ছিলাম।’ এদেরকেই তাদের ধৈর্য (ও অবিচলতা) অবলম্বনের কারণে দুইবার প্রতিদান দেওয়া হবে। তারা মন্দকে ভালো দিয়ে প্রতিহত করে। আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে (কল্যাণের পথে) ব্যয় করে। তারা যখন কোনো অশালীন কথা শোনে, তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, ’আমাদের আমল আমাদের জন্য, তোমাদের আমল তোমাদের জন্য। তোমাদের প্রতি সালাম (আমাদের পক্ষ থেকে তোমরা নিরাপদ থাকো)। আমরা মূর্খদের সঙ্গ চাই না (তাদের বন্ধুত্বও কামনা করি না)।’”7

পানির কাসিদা8
হে চোখ, অশ্রু ঝরিয়ে হৃদয়ের আগুনে ঢেলো না পানি,
এমন লেলিহান আগুনের কোনো প্রতিকার নয় পানি।
ঘূর্ণমান আকাশ-গম্বুজের রং কি পানির মতো? জানি না আমি,
নাকি আমার চোখ থেকে ঝরে গম্বুজকে ঘিরেছে পানি।
তোমার তরবারির স্বাদে হৃদয় টুকরো টুকরো হলে বিস্ময় কী,
বয়ে যেতে যেতে দেয়ালে তো ফাটল রেখে যায় পানি।
আহত হৃদয় ভয়ে ভয়ে বলে তোমার তিরের ফলার কথা9,
যার গায়ে ক্ষত থাকে, সে সাবধানে পান করে পানি।
মালি তার ফুলবাগান ভাসিয়ে দিক, বৃথা কষ্ট না করুক,
তোমার মুখের মতো ফুল ফুটবে না, হাজার বাগানে দিলেও পানি।
কোনো লিপিকার তোমার অপরূপ ছবি আঁকতে পারবে না,
কলমের মতো চেয়ে থাকলে তার চোখে নামবে কালো পানি।
তোমার কপোলের স্মরণে পাপড়ি ভিজে গেলে কী হয়েছে,
গোলাপের আশায় কাঁটায় দেওয়া বৃথা যায় না পানি।
দুঃখের দিনে রুগ্ণ হৃদয় থেকে তরবারি-দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না,
আঁধার রাতে রোগীকে দেওয়া পুণ্যের কাজ – পানি।
হে হৃদয়, তিরের ফলা চেয়ে নাও, বিরহের তাপ শান্ত করো,
আমি তৃষ্ণার্ত; এই মরুতে আমার জন্য খোঁজো পানি।
জাহিদরা চায় কাওসার, আর আমি তোমার ঠোঁটের পিয়াসি,
মাতালের কাছে শরাব যেমন প্রিয়, সজ্ঞানের কাছে পানি।
তোমার জান্নাতসম গলির দিকে অবিরাম বয়ে চলে,
মনোহর চলনের সেই সরো গাছের প্রেমে পড়েছে বুঝি পানি।
মাটি হয়ে সেই গলি থেকে তার পথ রুখতে হবে আমাকে,
সেখানে যেতে দেব না, কারণ আমার প্রতিদ্বন্দ্বী এই পানি।
বন্ধুরা, তাঁর হাতে চুমু খাওয়ার আকুলতায় যদি মারা যাই,
আমার মাটি দিয়ে কলসি গড়ে প্রিয়তমকে দিয়ো পানি।

“এর আগে আমি যাদের কিতাব দিয়েছিলাম, তাদের অনেকেই এতে বিশ্বাস করে। যখন তাদের কাছে (পবিত্র কুরআন) পাঠ করা হয়, তারা বলে, ‘আমরা এতে ঈমান এনেছি। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের রবের পক্ষ থেকে (আগত) সত্য। প্রকৃতপক্ষে আমরা এর আগেও ইসলাম গ্রহণকারী ছিলাম’” কাসাস: ৫২–৫৩

জান্নাতুল মুআল্লা

আমাদের মা হযরত খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে শুরু করে বহু সাহাবীর মাজার যেখানে অবস্থিত, সেই
কবরস্থান।
আজ এই মাজারগুলো দেখা সম্ভব নয়। দুঃখজনকভাবে এই অপূর্ব
ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর সবই ভেঙে ফেলা হয়েছে।