কুরবানি
কুরবানি হলো ঈদুল আজহার প্রথম তিন দিনে কুরবানির নিয়তে ভেড়া, ছাগল, গরু বা উটের যেকোনো একটি জবাই করা। ১. মুসলমান, স্বাধীন, বুদ্ধিসম্পন্ন ও বালিগ, ২. মুকিম, অর্থাৎ শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসাফির নয় এবং ৩. প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ, অর্থাৎ ৯৬ গ্রাম সোনা বা সেই মূল্যের অর্থের মালিক – এমন ধনী ব্যক্তির জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব। প্রয়োজনীয় জিনিস হলো একটি ঘর ও তার আসবাবপত্র এবং তিন প্রস্থ পোশাক। কুরবানি করা হয় ভেড়া ও ছাগল এবং উট ও গরু দিয়ে। একটি উট বা একটি গরু সাতটি কুরবানির সমান; অর্থাৎ একটি গরু সাতজন মিলে কুরবানি করা জায়েজ। অন্য কেউ যদি বলে, “আমিও শরিক হই”, তবে আটজনেরই কুরবানি ফাসিদ (শুদ্ধ নয়) হয়ে যায়।
কুরবানির নিসাব ফিতরার নিসাবের অনুরূপ। ইবনে আবিদিন (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন, কারও অংশ সাত ভাগের এক ভাগের চেয়ে কম হলে কারও কুরবানিই জায়েজ হয় না। এ কারণে সাতজনের কম ব্যক্তির শরিক হওয়া জায়েজ। কেনার সময় শরিক হওয়া সহিহ। কেনার পরে শরিক হওয়াও সহিহ, তবে কেনার আগে শরিক হওয়া উত্তম। কোনো ব্যক্তি অন্য কারও গরুতে সাত ভাগের এক ভাগ থেকে সাত ভাগের ছয় ভাগ পর্যন্ত শরিক হতে পারে। গোশত সেই অনুপাতে ভাগ করা হয়। শরিকদের কেউ মারা গেলে তার ওয়ারিসরা যদি বলে, “তার পক্ষ থেকে এবং তোমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে জবাই করো”, তবে তা সহিহ হয়।
আকিকা
আকিকা হলো সন্তান লাভের নিয়ামতের জন্য আল্লাহ তাআলার শোকর আদায়ের নিয়তে পশু জবাই করা।
হানাফি মাজহাবে সন্তানের ভরণপোষণ দেওয়া যার ওপর ওয়াজিব, তার জন্য সপ্তম দিনে সন্তানের নাম রাখা, মাথা মুণ্ডন করে চুলের ওজন পরিমাণ ছেলের জন্য সোনা বা রুপা এবং মেয়ের জন্য রুপা সদকা করা মুস্তাহাব। নিজের সম্পদ থেকে ছেলের জন্য দুটি ও মেয়ের জন্য একটি আকিকার পশু জবাই করাও তার জন্য মুস্তাহাব। আকিকার পশু কুরবানির পশুর মতো হওয়া উচিত। পরেও জবাই করা যায়। [যেকোনো সময় জবাই করা যায়। ঈদুল আজহাতেও জবাই করা যায়। “শিরআ” গ্রন্থে লেখা আছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুয়তের পর নিজের জন্য আকিকা করেছিলেন। মৃত অবস্থায় জন্ম নেওয়া শিশুর নাম রাখা হয় না এবং তার আকিকা করা হয় না।] যে জবাই করে, সে এর গোশত নিজে খেতে পারে এবং রান্না করে বা কাঁচা অবস্থায় ধনী-দরিদ্র সবাইকে দিতে পারে।
শাফেয়ি ও মালেকি মাজহাবে আকিকা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবে এর হাড় ফেলে দেওয়া হয় না, ভাঙাও হয় না। জোড়ার স্থান থেকে আলাদা করে জমা করা হয়। পরিষ্কার সাদা কাপড়ে মুড়ে দাফন করা হয়। হানাফি ও মালেকি মাজহাবে হাড় ভাঙা যায়। আকিকা সন্তানদের বিপদাপদ ও রোগব্যাধি থেকে রক্ষা করে।
“কৃপণদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সে, যে [কুরবানি করা ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও] কুরবানি করে না” হাদীস শরীফ
তোমার আশ্রয় চাই, ইয়া রাসূলাল্লাহ
তোমার বিরহে হৃদয় রক্ত হলো, রক্তে রাঙা হলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ,
জানি না কেমনে এই আগুন সয়ে গেলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ,
আজলের মজলিসে ছিলাম এক অশেষ আর্তনাদ, ইয়া রাসূলাল্লাহ,
তোমার রূপে আমায় খুশি করো, আমি যে জ্বলে গেছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ।
জ্বলন্ত হৃদয়ের ওষুধ তুমি, দুর্লভ এক আরোগ্য তুমি,
মহান এক বদান্যতা তুমি, চাইলে দেখা দাও তুমি,
মহান আল্লাহর হাবিব তুমি, মুহাম্মদ মুস্তফা তুমি,
তোমার রূপে আমায় খুশি করো, আমি যে জ্বলে গেছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ।
ফুল ফোটে না, ঝরনা বয় না, যদি না থাকে তোমার ঐশী নূর,
নিভে যায় জগৎ, থাকে না নিঃশ্বাস, আকাশে না থাকলে তোমার দৃষ্টি,
বিরহ কাঁদে, মিলন কাঁদে, আজল যদি না হয় তোমাতে খুশি,
তোমার রূপে আমায় খুশি করো, আমি যে জ্বলে গেছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ।
প্রাণ গলে যায় তোমার প্রাণদায়ী গোলাপ-সুবাসের আকুলতায়,
দেখো, সূর্য কাঁপে, জ্বলে তোমার দিদারের ব্যাকুল তৃষ্ণায়,
জীবনের শেষ প্রান্ত থেকে কাতরায় এক অসহায় মিনতি,
তোমার রূপে আমায় খুশি করো, আমি যে জ্বলে গেছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ।
তপ্ত মরুতে তৃষ্ণায় প্রাণ দিলেও পাব না ব্যথা,
বুকে জ্বলে আগ্নেয়গিরি, সাগরেও পাই না আর্দ্রতা,
আকাশ থেকে আগুন ঝরলে, তা পান করলেও পাব না টের,
তোমার রূপে আমায় খুশি করো, আমি যে জ্বলে গেছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ।
কী সৌভাগ্য, তোমার প্রেমে চোখ বুজে তোমার পথে প্রাণ দেওয়া,
হে সুলতান, হবে না কি নসিব তোমার হারামে প্রাণ দেওয়া,
চোখ নিভে আসার কালে সহজ হবে তোমার নামে “আহ” বলে প্রাণ দেওয়া,
তোমার রূপে আমায় খুশি করো, আমি যে জ্বলে গেছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ।
মাথা নুইয়েছি, আমি অসহায়, এ ব্যথার প্রতিকার তোমারই কাছে,
তোমার প্রেমে পুড়েছে ঠোঁট, তোমার জিকির ঘোরে তোমার পায়ের কাছে,
যখনই হৃদয় চায়, এই কিতমিরের প্রতি অনুগ্রহ করো,1
তোমার রূপে আমায় খুশি করো, আমি যে জ্বলে গেছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ।
Yaman Dede
