আমার প্রিয় নবী

মুখবন্ধ

যিনি প্রতিটি প্রাণী সৃষ্টি করেছেন, প্রতিটি অস্তিত্বশীল বস্তুকে প্রতি মুহূর্তে অস্তিত্বে টিকিয়ে রাখছেন এবং সবকিছুকে ভয় ও আতঙ্ক থেকে রক্ষা করছেন, সেই আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করি। তাঁর প্রিয় নবী, সব দিক থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে উত্তম ও সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের প্রতি আমাদের দরুদ (দোয়া) ও সালাম বর্ষিত হোক। জ্ঞান, মারিফাত ও উত্তম চরিত্রের আলো ছড়ানো তাঁর বংশধর (আল) ও আত্মীয়স্বজনের প্রতিও তা বর্ষিত হোক। আত্মার আরোগ্যস্বরূপ তাঁর সুন্দর চেহারা মুবারক দেখার ও তাঁর উপকারী বাণী শোনার সৌভাগ্য লাভ করে যাঁরা সমগ্র মানবজাতির মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান হয়েছেন, তাঁর সেই সকল সাহাবীর1 (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম / আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রতি এবং তাঁদের পথের অনুসারীদের প্রতিও দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

আল্লাহ তাআলা দুনিয়ায় সকল মানুষের প্রতি দয়া করে তাদের জন্য উপকারী বস্তুসমূহ সৃষ্টি করে পাঠাচ্ছেন। আখিরাতে তিনি2 জাহান্নামে যাওয়ার উপযুক্ত মুমিনদেরও নিজ অনুগ্রহে ক্ষমা করবেন এবং জান্নাতে পৌঁছে দেবেন। মুহাম্মদ আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার নবী3, রাসূল ও হাবিব (প্রিয়তম); তিনি আদম সন্তানের সরদার। এমন মর্যাদাবান নবীর প্রতি যাঁরা ঈমান এনেছেন এবং তাঁর পথে চলেছেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে উম্মতসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হয়েছেন।

মহান আল্লাহ দয়া করে আমাদের রাসূলুল্লাহর উম্মত বানিয়ে নিজ নিয়ামতসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় নিয়ামতে ধন্য করেছেন।4 তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাসূলের অনুসরণ ও আনুগত্য করা আবশ্যক। এই মহান নিয়ামতের জন্য আমরা আমাদের রবের যত প্রশংসা ও শোকরই করি না কেন, তা অল্পই হবে। আল্লাহ তাআলা কোনো কিছু সৃষ্টি করার আগে সরওয়ারে আলম মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কুরআনে মহানবীকে সম্বোধন করে ইরশাদ হয়েছে, “আমি তোমাকে জগৎসমূহের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি।” আর হাদীসে কুদসিতে5 ইরশাদ হয়েছে, “তুমি না হলে, তুমি না হলে আমি সৃষ্টিজগৎ সৃষ্টি করতাম না!”

ঈমানের মূল শর্ত হলো “হুব্বু ফিল্লাহ ওয়া বুগদু ফিল্লাহ”, অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার বন্ধুদের ভালোবাসা এবং তাঁর শত্রুদের ভালো না বাসা। এটি না থাকলে কোনো ইবাদতই কবুল হয় না, বরং তা আদায়কারীর মুখের ওপর ছুড়ে ফেলা হয়। এ কারণে “জগৎসমূহের সরদারকে” ভালোবাসা আমাদের ওপর ফরজ হয়েছে, আর তাঁর পবিত্র ভালোবাসা হৃদয়ে স্থাপন করতে এবং তাঁর উত্তম চরিত্রে চরিত্রবান হতে আমাদের আদেশ করা হয়েছে। এই ভালোবাসা যেন অটুট থাকে, সেজন্য শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মহানবীর বরকতময় জীবনী নিয়ে গ্রন্থ রচিত হয়েছে, এখনো রচিত হচ্ছে। আরও সঠিকভাবে বললে, এসবের মাধ্যমে তাঁর নাম মুবারক থেকে বরকত লাভ করা হয়। আমরাও এই বরকত থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য এবং তাঁর ভালোবাসায় আমাদের হৃদয় যেন কানায় কানায় ভরে ওঠে সেজন্য, আহলে সুন্নতের আলেমগণের গ্রন্থাবলি নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে প্রস্তুত এই গ্রন্থে বিশ্বজগতের সুলতান রাসূলুল্লাহর বরকতময় জীবনী পড়ার জন্য আপনাদের অনুরোধ জানাচ্ছি। এতে যাঁদের শ্রম রয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের হৃদয় মহানবীর ভালোবাসায় পূর্ণ করে দিন এবং আমাদের আহলে সুন্নতের আলেমগণের দেখানো সঠিক পথে অবিচল রাখুন! আমিন।

Dr. Enver Ören

কাবা মুআজ্জমা ও মসজিদুল হারাম মক্কা মুকাররমা